অধিকাংশ আমেরিকান মনে করেন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা হারলে ফল মেনে নেবেন না ট্রাম্প: জরিপ
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি হেরে গেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফলাফল মেনে নেবেন না বলে মনে করেন দেশটির অধিকাংশ নাগরিক। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, এবিসি নিউজ ও ইপসোসের যৌথ জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্প নির্বাচনে পরাজয় মেনে নেবেন কি না—তা নিয়ে প্রধান দুই দলের বাইরেও সংশয় রয়েছে। ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র ভোটারদের বড় অংশ মনে করেন, রিপাবলিকানরা হেরে গেলে ট্রাম্প ফলাফল মেনে নেবেন না। একই ধারণা পোষণ করেন রিপাবলিকান ভোটারদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি।
তবে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকের আস্থা রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে আস্থা প্রকাশ করেছেন ৭০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ও ৬৭ শতাংশ রিপাবলিকান ভোটার। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৫১ শতাংশ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।
ভোট গণনার প্রক্রিয়া নিয়েও আস্থা প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ উত্তরদাতা। ৬৫ শতাংশ মনে করেন, ভোট সঠিকভাবে গণনা করা হবে। এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আস্থা রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে। দলটির ৭৬ শতাংশ ভোটার ভোট গণনার নির্ভুলতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। এ ছাড়া ৬৮ শতাংশ রিপাবলিকান ও ৫৫ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটারও এ বিষয়ে আস্থা প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। ২০১৬ ও ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল নিয়ে তিনি বিভিন্ন দাবি করেছেন, যেগুলোর পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গত ফেব্রুয়ারিতে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে তিনি নির্বাচনের ফল মেনে নেবেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, 'নির্বাচন সৎভাবে অনুষ্ঠিত হলে আমি ফল মেনে নেব।'
যুক্তরাষ্ট্রের আদালত ও বিভিন্ন স্বাধীন গবেষণায় নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার নয়, অঙ্গরাজ্যগুলো নির্বাচন পরিচালনা করে। তবে ট্রাম্প নির্বাচনব্যবস্থাকে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং নির্বাচনের দায়িত্ব নিজেদের হাতে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
জানুয়ারিতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর ভোটের যন্ত্রপাতি জব্দ করতে সামরিক বাহিনী মোতায়েন না করায় তিনি অনুতপ্ত। এদিকে, দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ কিংবা ব্যালট জব্দের সম্ভাবনা মোকাবিলায় তারা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
এ ছাড়া ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করা কয়েকটি কেন্দ্রীয় সংস্থার কার্যক্রম কমিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আগে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছিল প্রশাসন। তবে সুপ্রিম কোর্টের বাধায় তা কার্যকর হয়নি।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট নেতারা নির্বাচনে হারলে ফল মেনে নেবেন—এ বিষয়ে ভোটারদের আস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি। জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাট নেতারা পরাজয় মেনে নেবেন বলে তাঁরা আত্মবিশ্বাসী। তাদের মধ্যে ৮৮ শতাংশ ডেমোক্র্যাট, ৫৮ শতাংশ স্বতন্ত্র ও ৩৬ শতাংশ রিপাবলিকান ভোটার রয়েছেন।
সিদ্ধান্তহীন ভোটার ও যারা ভোট দেন না, তাদের মধ্যে মাত্র ৩৭ শতাংশ মনে করেন, ডেমোক্র্যাট নেতারা পরাজয় মেনে নেবেন। ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এ হার মাত্র ১৬ শতাংশ।
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নিয়েও ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। জরিপে ৩৫ শতাংশ ভোটার মনে করেন, ডেমোক্র্যাটরা পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে। বিপরীতে, ১৬ শতাংশের ধারণা, রিপাবলিকানরা তাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে। ২৮ শতাংশ ভোটার মনে করেন, দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি হবে। আর ২১ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।
এদিকে, নির্বাচনের ফল গণনার নির্ভুলতা নিয়ে রিপাবলিকান ভোটারদের আস্থা ২০২৪ সালের শেষ দিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সে সময় এবিসি নিউজ ও ইপসোসের এক জরিপে মাত্র ৪৯ শতাংশ রিপাবলিকান ভোট গণনার নির্ভুলতার বিষয়ে আস্থা প্রকাশ করেছিলেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনের পর দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় সব রিপাবলিকান ট্রাম্পের বিজয়কে বৈধ বলে মনে করেন। তাদের ৭৭ শতাংশের বক্তব্য ছিল, নির্বাচনে জালিয়াতির পক্ষে জোরালো কোনো প্রমাণ নেই।
গত ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ২ হাজার ৫৪৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর জরিপটি চালানো হয়। এতে ভুলের সম্ভাব্য সীমা ধরা হয়েছে ২ শতাংশ পয়েন্ট।
