এআই নীতি তদারকিতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ গঠনের ঘোষণা ট্রাম্পের
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে কাজ করার জন্য নতুন একটি টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (ডিএনআই) পরিচালক জে ক্লেটন এই টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দেবেন।
রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, 'সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স' নামের এই টাস্কফোর্স প্রযুক্তিটির অগ্রগতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক শীর্ষস্থান ধরে রাখা নিশ্চিত করতে কাজ করবে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সম্পৃক্ততায় সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবে।
এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নাম পরিবর্তন করে 'সুপার ইন্টেলিজেন্স' করেন। কারণ হিসেবে তিনি আগে বলেছিলেন, 'আর্টিফিশিয়াল' বা কৃত্রিম শব্দটি শুনলে এটিকে 'নকল' বা ভুয়া মনে হয়। শীর্ষ প্রযুক্তি নির্বাহীরা একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর গত সপ্তাহে ট্রাম্প একটি তদারকি বোর্ড গঠনের কথাও বলেছিলেন, যে চুক্তিকে তিনি 'নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক' বলে বর্ণনা করেন।
ট্রাম্প লিখেছেন, 'সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স গ্রাহক, জনস্বার্থ রক্ষা গোষ্ঠী, ধর্মীয় সংগঠন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সরবরাহকারী এবং সুপার ইন্টেলিজেন্স কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ফেডারেল সরকারের সম্পৃক্ততায় সমন্বয় করবে।'
টাস্কফোর্সের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন, গবেষণা ও প্রকৌশল বিষয়ক সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী এমিল মাইকেল এবং অফিস অব পারসোনেল ম্যানেজমেন্টের পরিচালক স্কট কুপোর। এই টাস্কফোর্স সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ বিল পালটেকে প্রত্যাখ্যান করার পর গত আগস্টে মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন টাস্কফোর্স প্রধান ক্লেটন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রসঙ্গে এর আগে ক্লেটন বলেছিলেন, 'যখন কোনো বিষয় একই সঙ্গে সুযোগ ও হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তখন তাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখাটাই শ্রেয়।' ক্লেটন পূর্বে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং ভেনিজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের মামলাসহ বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনা তদারকি করেছিলেন।
প্রযুক্তিটির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকের শীর্ষ কর্তাদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখেই এই টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা এলো। গত ৪ অক্টোবর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান বলেন, এআইয়ের সুবিধার স্বার্থে এর কিছু ঝুঁকি মেনে নেওয়া যৌক্তিক এবং সাধারণ মানুষের কাছে এই প্রযুক্তি উন্মুক্ত থাকা উচিত।
পলিটিকোর প্রযুক্তিবিষয়ক নিউজলেটার 'ডিকোড'-কে অল্টম্যান বলেন, 'এই প্রযুক্তির সুবিধা এবং মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধির স্বার্থে বিশ্বকে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় মেনে নেওয়া উচিত।' তবে কঠোর সরকারি নজরদারির দাবিকে পাত্তা না দিয়ে ট্রাম্প বিষয়টি মূলত এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা চুক্তিতে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, স্পেসএক্স এবং গুগলের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্তারা স্বাক্ষর করেন। একই দিনে জারি করা নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প মার্কিন সরকারের সব দপ্তর ও সংস্থাকে 'এআই'-এর পরিবর্তে 'এসআই' এবং 'সুপার ইন্টেলিজেন্স' পরিভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শব্দটি আর ব্যবহার না করতে বলেন। আদেশে বলা হয়, সরকারি 'দাপ্তরিক চিঠিপত্র', ওয়েবসাইট, প্রতিবেদন এবং যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমে এআই-এর স্থান নেবে এসআই।
তবে বিশেষজ্ঞরা এই নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, 'সুপার ইন্টেলিজেন্স' বলতে সাধারণত অনেক বেশি উন্নত কোনো প্রযুক্তি ব্যবস্থাকে বোঝায়, ফলে এর সাধারণ ব্যবহার বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তবে শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা ইতিমধ্যে নতুন এই নাম ব্যবহার শুরু করেছেন। এর মধ্যে ধনকুবের ইলন মাস্ক রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি তাঁর প্ল্যাটফর্ম 'স্পেসএক্সএআই'-এর নাম পরিবর্তন করে 'স্পেসএক্সএসআই' রাখবেন। মাস্ক লিখেছেন, 'স্পেসএক্স একটি সুপার ইন্টেলিজেন্স
কোম্পানি।'
টেসলা প্রধান মাস্ক সম্প্রতি ভবিষ্যৎ যুদ্ধকৌশল পর্যালোচনার একটি প্রকল্পে কাজ করতে আবারও মার্কিন সরকারে ফিরে এসেছেন। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের 'ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি'-র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মাস্ক, যা পরবর্তীতে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল।
