‘২ কোটি টাকার নিচে নেব না’—লক্ষ্মীপুর পিডিবির প্রকৌশলীর কথোপকথনের ভিডিও ছড়াল ফেসবুকে
'আমি দুই কোটি টাকার নিচে নেব না'—লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে বিভিন্ন প্রকল্পের মালামাল, ঠিকাদারি বিল, 'ক্রস আর্ম' ও অর্থ লেনদেন নিয়ে কথোপকথন করতে শোনা যায়। রোববার রাতে ভিডিওটি স্থানীয়ভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, "এসি স্যার রাজি হয়ে গেছে কোনো একটা কারণে। আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না। ৬ কোটি টাকা তিন গুণ না, আমি দুই কোটি টাকার নিচে নেব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়। একটা বিলের জন্য যদি ২ কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে? আমাকে জায়গামতো পোস্টিং দেবে।"
ভিডিওতে টাকা রাখা বা ফেরত দেওয়া নিয়েও কথোপকথন শোনা যায়। একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, "এই টাকাটা রাখব নাকি ফেরত দেব?" এরপর টাকা রাখলে পরবর্তী সময়ে তা ফেরত দিতে পারবেন না—এমন কথাও শোনা যায়।
কথোপকথনে পিডিবির সাব-ইঞ্জিনিয়ার সবুজ মিয়ার নামও উঠে আসে। ভিডিওতে তাকে পিডিবির লাইনের কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়। বিভিন্ন প্রকল্পের মালামাল ও 'ক্রস আর্ম' সরবরাহ নিয়েও কথোপকথন শোনা যায়।
এ ছাড়া ভিডিওতে বিভিন্ন ঠিকাদারের বিল আটকে রাখা, মালামালের হিসাব ও বিল ছাড়ের বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একপর্যায়ে বিপুল অঙ্কের বিল আটকে রাখার দাবিও করা হয়।
তবে ভিডিওটি কখন ও কোথায় ধারণ করা হয়েছে, কে এটি রেকর্ড করেছেন, কথোপকথনে থাকা অন্য ব্যক্তিরা কারা এবং পুরো কথোপকথনের প্রেক্ষাপট কী—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভিডিওটি সম্পাদিত কি না, কথোপকথনের সম্পূর্ণ অংশ কী এবং এতে উল্লেখ করা অর্থের অঙ্কের সঙ্গে বাস্তব কোনো লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লক্ষ্মীপুরের কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিন ও সাব-ইঞ্জিনিয়ার সবুজ মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, 'বিগত ৯ মাসে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ৩ দিনই ওই নির্বাহীর বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত তার কাজের সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে তার সামনেই বক্তব্য রেখেছিলাম। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের মন্ত্রী, এমপি, প্রশাসন শুনেছেন শুধু।'
'৬ কোটি টাকার মধ্যে সে নিজেই যদি তুলে নেয় ২ কোটি, তাহলে বাকিরা কত নেয় আর কাজ হয় কত? দেশটা লুটপাটেই এভাবেই শেষ হয়ে যাচ্ছে!'
'এবার গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের ঘুষ বাণিজ্যের হাল নিজের মুখেই ফাঁস হলো।'
