সংখ্যালঘুদের কারাবন্দি করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার করছে ভারত: যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক প্যানেল
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক প্যানেল বৃহস্পতিবার বলেছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ইউএপিএ-কে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের আটক রাখার 'হাতিয়ার' হিসেবে ব্যবহার করছে ভারত। এ প্যানেল বলেছে, অ্যাক্টিভিস্ট উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের মতো ব্যক্তিদের 'কেবল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার' কারণে বিচার শুরুর আগেই দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে।
'ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতার' কারণে বন্দি অন্যান্য ব্যক্তিদেরও মুক্তির ব্যবস্থা করার জন্য, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে এ বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (ইউএসসিআইআরএফ)।
এ বক্তব্যের বিষয়ে নয়াদিল্লি এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার ষড়যন্ত্রের মামলায় উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম গত ছয় বছর ধরে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। মামলাটির বিচারকাজ এখনও শুরু হয়নি।
মার্কিন প্যানেলটির সংজ্ঞা অনুযায়ী, 'ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতার' কারণে বন্দি হলেন সেইসব ব্যক্তি, সরকার যাদের মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস, শান্তিপূর্ণ উপাসনা কিংবা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর কারণে কারাদণ্ড দিয়েছে, আটক করেছে বা বন্দি করে রেখেছে।
১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লির হাইকোর্ট ব্রিটিশ নাগরিক জগতর সিং জোহালকে জামিন দেওয়ার পর মার্কিন প্যানেল এই বিবৃতি দেয়। জোহালের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি খালিস্তানপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন খালিস্তান লিবারেশন ফোর্সে সঙ্গে জড়িত একটি আন্তঃদেশীয় ষড়যন্ত্রের আওতায় সংঘটিত টার্গেটেড হত্যাকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
২০১৭ সালে পাঞ্জাব থেকে জোহালকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৬-১৭ সালে পাঞ্জাবের লুধিয়ানা ও জলন্ধর জেলায় সংঘটিত ধারাবাহিক টার্গেটেড হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা আটটি মামলায় তিনি অভিযুক্ত। তার বিরুদ্ধে অর্থ জোগানদাতা এবং বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
জোহাল জামিন পাওয়ার পর ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক প্যানেলটি বলেছে, তারা হাইকোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানায়। একইসঙ্গে এ ধরনের অন্যান্য বন্দিদের মুক্তির পথ সুগম করতে ওয়াশিংটনকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানায় তারা।
প্যানেলটি উল্লেখ করে, '২০১৭ সালে কর্তৃপক্ষ ইউএপিএ আইনের আওতায় হত্যা ও সন্ত্রাসবাদের মিথ্যা অভিযোগে জোহালকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করেছিল। অথচ এই আইনটিকে জাতিসংঘের বেশ কয়েকজন বিশেষ দূত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও ভারতের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার পরিপন্থি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।'
প্যানেলের ভাইস চেয়ারপারসন সিসি হেইল বলেন, জোহালের এই ঘটনা মূলত 'ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কণ্ঠরোধ করতে কিংবা তাদের কারারুদ্ধ করতে ভারত সরকারের যে সামগ্রিক প্রবণতা রয়েছে, তারই সুস্পষ্ট প্রতিফলন।'
ধর্মীয় স্বাধীনতা-সংক্রান্ত এই প্যানেল তাদের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে সুপারিশ করেছিল, 'নিয়মতান্ত্রিক, চলমান ও চরমভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনে' লিপ্ত থাকার দায়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যেন ভারতকে 'বিশেষ উদ্বেগের দেশ' হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
ভারত অবশ্য এর আগে দাবি করেছিল, এই কমিশনের 'পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মূল্যায়ন প্রকাশের প্রবণতা' রয়েছে।
