স্বর্ণ ক্রয়ে ১৬ হাজার কোটি ডলার ব্যয় চীনের, চলতি বছরে কিনেছে হাজার টনেরও বেশি
চলতি বছরের আগস্টের মধ্যেই ১,০০০ টনের বেশি স্বর্ণ কিনেছে চীন, যা দেশটির আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এর পেছনে চীনের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে, দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সোনার চাহিদা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার হাত ধরেই এই বড় উল্লম্ফন ঘটেছে।
যুদ্ধ-বিগ্রহের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে এখন বইছে অস্থিরতার হাওয়া। জ্বালানি নিয়েও সংকট দেখা দিচ্ছে। এমন অনিশ্চয়তার সময়ে সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ বা 'সেফ হেভেন' হিসেবে বিবেচিত হয় স্বর্ণ। চীনের কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, দেশটির মূল্যবান এই ধাতুর ক্রয়ের পরিমাণ আগস্টের মধ্যেই গত পুরো বছরের মোট আমদানির সমান পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে জিনরুই ফিউচার্সের বিশ্লেষক জিজিয়ে উ বলেন, "বিনিয়োগকারীদের জোরালো চাহিদার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে সোনা কিছুটা বাড়তি দামে (প্রিমিয়াম) বিক্রি হচ্ছে, যা আমদানিকে উৎসাহিত করছে। এ ছাড়া বছরের শুরু থেকেই চীনা মুদ্রা ইউয়ান বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, যা এটি আমদানির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে এবং নীতিপ্রণেতাদের আরও উদারভাবে আমদানির কোটা অনুমোদনের সুযোগ করে দিয়েছে।"
আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল সোমবার পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ছিল প্রতি আউন্সে ৪,৩২৭ মার্কিন ডলার। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর স্বর্ণের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছায়। তবে এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দরও কিছুটা থিতু হয়ে আসে।
অন্যদিকে চলতি মাসের শুরুর দিকে নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক– ডি নেদারল্যান্ডশে ব্যাংক (ডিএনবি) —নিউইয়র্ক ও অটোয়া থেকে তাদের রিজার্ভের ৮৬ টন সোনা লন্ডনে স্থানান্তরের ঘোষণা দেয়। "ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার" কারণে যেকোনো সংকটের সময় স্বর্ণের দ্রুত ব্যবহার এবং ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।
তবে এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে, স্বর্ণ মজুতকে নিজ দেশে বা আরও নিরাপদ স্থানে রাখার নতুন প্রবণতার অংশ হিসেবে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কৌশলের কারণে, বিশ্বের অনেক দেশই এখন নিজস্ব স্বর্ণ মজুত দেশেই রাখার উদ্যোগ নিচ্ছে। ইউরোপেও বিভিন্ন দেশ তাদের স্বর্ণ মজুত যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর আমেরিকার ব্যাংকগুলো থেকে সরিয়ে নেওয়ার চিন্তাভাবনা করতে শুরু করেছে।
