ডিজেলের সংকট ঘনীভূত হওয়ার মধ্যেই পেট্রোলের দাম আরও বাড়ার আভাস গোল্ডম্যান স্যাকসের
বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের কারণে ডিজেলের দাম এবং মুনাফা বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। এমন প্রেক্ষাপটে, জ্বালানি শোধনাগার বা রিফাইনারিগুলো বর্তমানে ডিজেল উৎপাদনে বেশি প্রাধান্য দেওয়ায়— পেট্রোলের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা দেখছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস।
মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গে প্রকাশিত গোল্ডম্যানের এক নোটে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের জ্বালানি বাজার-সংক্রান্ত মূল সুপারিশের কেন্দ্রবিন্দু ডিজেল টাইমস্প্রেড থেকে সরিয়ে—আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ের জন্য ইউরোপীয় পেট্রোলের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, ওই সময়ে ইউরোপের বাজারের জন্য পেট্রোল সরবরাহ লাভজনক হবে বলে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে গোল্ডম্যান স্যাকস।
গতকাল ১৬ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে গোল্ডম্যান স্যাকসের কমোডিটি (পণ্যবাজার) বিশ্লেষকরা লিখেছেন, "এই নতুন সুপারিশের মূল কারণ হলো, রিফাইনারিগুলো পেট্রোল উৎপাদন কমিয়ে ডিজেল উৎপাদনে চলে যাওয়ায়—পেট্রোলের বাজারে দ্রুত সরবরাহ সংকট তৈরি হচ্ছে।"
বিগত কয়েক মাস ধরে গোল্ডম্যান স্যাকস ডিজেলের বাজারে বাড়তে থাকা সংকটের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। ব্যাংকটির মতে, ২০২০ সালের করোনা মহামারীর পর বছরের এই সময়ে বৈশ্বিক রিফাইনিং কার্যক্রম বা শোধন প্রক্রিয়া সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এতে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে ডিজেলের বাজারে।
নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিট-ভিত্তিক এই ব্যাংকিং জায়ান্টের মতে, চলমান জ্বালানি সংকট বা সরবরাহ ঘাটতির 'মূল কেন্দ্রবিন্দুতে' রয়েছে ডিজেল।
গোল্ডম্যানের কমোডিটি বিশ্লেষকরা জুলাই মাসের শেষের দিকে এক গ্রাহক নোটে লিখেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং রাশিয়ায় যুদ্ধের কারণে রিফাইনারিগুলো অচল হয়ে পড়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি—বিশেষ করে ডিজেলের সরবরাহ ব্যাপকভাবে ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে আমেরিকা অঞ্চল ও আফ্রিকায় উৎপাদন বাড়লেও, তা হারানো সরবরাহের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মেটাতে পারছে।
যুদ্ধের কারণে রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে জ্বালানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী ডিজেলের মজুত দ্রুত কমে আসছে। গোল্ডম্যানের কমোডিটি টিমের মতে, আগস্টের শেষ নাগাদ রিফাইনারি অচল থাকার হার মৌসুমী গড়ের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেশি ছিল এবং ডিজেলের এই সংকট বা অপ্রতুলতা আগামী বছর পর্যন্ত গড়াবে।
চলতি বছরের পুরো গ্রীষ্মকাল জুড়ে বৈশ্বিক পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের বাজারে সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে। এতে করে রিফাইনিং মার্জিন বা অপরিশোধিত তেল শোধন করে জ্বালানি তেল উৎপাদনে মুনাফার হারও পৌঁছেছে রেকর্ড উচ্চতায়। কারণ অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) সরবরাহের তুলনায় পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের ঘাটতিই বর্তমানে অনেক বেশি।
গোল্ডম্যানের বিশ্লেষকরা চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন, ডিজেলের ফিউচার্স বা ভবিষ্যৎ চুক্তির দাম আরও বাড়ার দিকে রয়েছে, তবে পেট্রোল (গ্যাসোলিন) এখন "দাম বাড়ার আরও বড় সুযোগ" তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটি এখন বিনিয়োগকারীদের ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের ইউরোপীয় গ্যাসোলিন ফিউচার্সে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের (লং পজিশন) সুপারিশ করছে।
