বৈশ্বিক ডিজেল সংকট তীব্র হওয়ার মধ্যেই বেড়েছে চীনের পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি
বিশ্বজুড়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের মধ্যে গত আগস্টে চীনের জ্বালানি রপ্তানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত চীনের কাস্টমস তথ্যানুযায়ী, আগস্ট মাসে চীন মোট ৬০.১ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২.৭ শতাংশ বেশি।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে চীনের মোট জ্বালানি রপ্তানির পরিমাণ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধপূর্ব সময়কেও ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে জেট ফুয়েল বা উড়োজাহাজের জ্বালানি রপ্তানি সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছে।
তবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসের (জানুয়ারি-আগস্ট) সামগ্রিক হিসাব বিবেচনা করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় চীনের মোট জ্বালানি রপ্তানি এখনো ৯.৬ শতাংশ কম। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর অপরিশোধিত তেলের বিশ্ববাজারে চরম সংকট তৈরি হওয়ায়, চলতি বছরের শুরুর দিকে বেইজিং জ্বালানি রপ্তানির ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল।
ফেব্রুয়ারির শেষদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া এবং কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি— বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরপরই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পণ্যের তীব্র সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেয়। সে সময় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশে সীমিত সরবরাহ ছাড়া সব ধরনের জ্বালানি রপ্তানি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল চীন। তবে পরবর্তী সময়ে বেইজিং এসব বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করে।
গত আগস্টে চীনের জ্বালানি রপ্তানি বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ডিজেল। বিশ্বজুড়ে ডিজেল সরবরাহের সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করায়, গত মাসে দেশটির ডিজেল রপ্তানি ৪২.১ শতাংশ উল্লম্ফন করে ১৩.৩ লাখ টনে পৌঁছেছে। ফলে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে চীনের মোট ডিজেল রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৮.৪ লাখ টনে, যা আগের বছরের চেয়ে ৫.৯ শতাংশ বেশি।
একইভাবে আগস্ট মাসে বিদেশে জেট ফুয়েল পাঠানোর হারও ৪১.৪ শতাংশ বেড়ে ২৫.৫ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে পেট্রোল বা গ্যাসোলিনের ক্ষেত্রে; আগস্টে দেশটির পেট্রোল রপ্তানি ১৭.৫ শতাংশ কমে ৭ লাখ টনে নেমে এসেছে।
রপ্তানির এই বড় উত্থানের মধ্যেই চীনে আবার নতুন করে জ্বালানি রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কাও দেখা দিচ্ছে। ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বর্তমানে চীনের অভ্যন্তরীণ ডিজেল ও পেট্রোলের মজুত দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, যা বেইজিংকে আবারও জ্বালানি রপ্তানিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
চীনা পণ্যবাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'জেএলসি ইন্টারন্যাশনাল'-এর জ্বালানি মজুতসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানিগুলোর পেট্রোল বা গ্যাসোলিন মজুত ২.৯ শতাংশ কমে ২০২২ সালের পর সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। একই সময়ে ডিজেলের মজুত ২.৪ শতাংশ কমে গত ১৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
