শিশু অপ্রতিম হত্যা: এমপি হিসেবে আমি লজ্জিত, আমি ক্ষমাপ্রার্থী—কাঁদলেন এমপি মনিরুল
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, 'একটা আইফোনের জন্য একটা মাসুম বাচ্চাকে এভাবে মারতে পারে? আমি কল্পনা করিনি। কী দেশ বানালাম। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি লজ্জিত।'
তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'এই এলাকার এমপি হিসেবে আমি লজ্জিত, আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমরা এই সমস্ত মাসুম বাচ্চাদেরকেও রক্ষা করতে পারলাম না। মৃত্যু মানুষেরই হয়, এমন করুণ মৃত্যু দেখিনি। নিষ্পাপ ছোট বাচ্চা, মাত্র ১৩ বছর বয়স। আমি অবিলম্বে অপরাধীকে শনাক্ত এবং গ্রেপ্তার করে ৯০ দিনের মধ্যে বিচার কাজ শেষ করতে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।'
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার হয়। ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, 'অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে দেখা করে কী জবাব দেবো, জানি না। অবিলম্বে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।'
তিনি বলেন, 'আমার মেয়েরা বিদেশ থেকে টেলিফোন করে বলে আব্বা এটা কী হলো? আমি কী জবাব দেব? আমার কোনো জবাব নেই। আমি শুধু বলব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুগ্রহ করে দেখুন। কিশোরদেরকে রক্ষা করুন এদের হাত থেকে। না হলে জাতি বিপদগ্রস্ত হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমার সঙ্গে এসপি সাহেবের কথা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করার জন্য অনুরোধ করেছি। তিনি বলেছেন, তারা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন।'
তিনি আরও বলেন, 'জাতির ইতিহাসে যে কয়টি লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেছে, এটি তার মধ্যে একটি। এ ঘটনায় সবার বিবেক জাগ্রত হওয়া উচিত।'
এদিকে অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় একাধিক ক্লু (আলামত) পেয়েছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে একাধিকজন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
শনিবার কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, 'অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ক্লু পেয়েছি। হত্যাকাণ্ডটির পেছনে শুধু আইফোন ছিল, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল তা দ্রুত উদ্ঘাটন করা হবে। হত্যাকাণ্ডে যতজনই জড়িত থাকুক তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।'
সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, 'হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কয়েকজন পুলিশ হেফাজতে আছে। তবে তাদের নাম তদন্তের স্বার্থে এখনই বলা যাবে না।'
অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তুহিন নামে এক যুবকের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। ওই যুবকই বিকেল থেকে অপ্রতিমের সঙ্গে ছিল। সে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
