চাইলে ইরানে ‘থেকে যেতে পারি’, ভেনেজুয়েলার মতো ওদের তেলও ‘রেখে দিতে পারি’: ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই ইরানে সামরিক অভিযান শেষে দেশটিতে 'থেকে যাওয়ার' এবং সেখানকার 'তেল রেখে দেওয়ার' সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
১৩ সেপ্টেম্বর আয়ারল্যান্ডের ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল গলফ কোর্সে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, 'শেষ পর্যন্ত আমরা ইরান ছাড়ব। তবে চাইলে সেখানে থেকে যেতে পারি এবং ভেনেজুয়েলার মতো ওদেরও তেল রেখে দিতে পারি।'
তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে পাওয়া রাজস্ব দিয়ে এরই মধ্যে 'বহুবার যুদ্ধের খরচ মেটানো' সম্ভব হয়েছে।
আগস্টে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি প্রমাণিত তেল মজুতের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দেশটির অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের ওই চুক্তিকে স্বাগত জানান। তার মতে, এর ফলে দেশটির অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ঘটবে ও সরকারের রাজস্ব বাড়বে।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য জ্বালানি তেল চুক্তি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি ট্রাম্প। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ইউএসএ টুডে।
তবে ইরানে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক আমেরিকানই এর সমালোচনা করছেন। গত মাসের শেষের দিকে প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র এক-চতুর্থাংশ আমেরিকান ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধকে যৌক্তিক মনে করেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে পরিচালিত জরিপগুলোর তুলনায় এ হার অনেক কম।
এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত কয়েক মাস ধরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামেও অস্থিরতা চলছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ পেট্রলের জাতীয় গড় মূল্য ছিল গ্যালনপ্রতি ৪ দশমিক ৩১ ডলার।
চলমান এই সংঘাতের পক্ষে অবস্থান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার যুক্তি দিয়ে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা আমেরিকার জন্য জরুরি ছিল।
গত সপ্তাহে ৯/১১ স্মরণসভায় ট্রাম্প বলেন, 'আমরা আমাদের ফার্স্ট রেসপন্ডার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে স্যালুট জানাই, আমরা তাদের ভালোবাসি। পাশাপাশি বিশ্বের শীর্ষ সন্ত্রাসী মদদদাতা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যাতে কখনই পারমাণবিক অস্ত্র না পায় তা নিশ্চিত করতে এই মুহূর্তে যেসব সামরিক সদস্য কাজ করছেন, তাদেরও আমরা স্যালুট জানাই।'
আয়ারল্যান্ড সফরকালে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরই ইরানে যুদ্ধ শেষ হবে, হয়তো আগেও হতে পারে; তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরই এটি শেষ হবে। আর জ্বালানি তেলের দামও তখন হু হু করে কমবে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি আপনাদের এইটুকু বলছি, ইরান একটি চুক্তি করতে ভীষণ মরিয়া। তারা প্রতিনিয়ত ফোন করছে। তারা চুক্তি করতে চায়। তাদের সঠিক একটি চুক্তি করতেই হবে। আমি কোনো অনুপযুক্ত চুক্তি করতে যাচ্ছি না।'
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বা সমঝোতা নিয়ে এ ধরনের আলাপের বিষয়টি অবশ্য আগেও অস্বীকার করেছেন ইরানি কর্মকর্তারা।
