হুথিরা ফোনে বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চায় না, লড়তেও চায় না আমাদের বিরুদ্ধে: ট্রাম্প
ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ দখলকারী ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা ওয়াশিংটনকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধ জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার এমন তথ্য জানান।
এক ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে ইয়েমেনের তিনটি কৌশলগত দ্বীপ দখলের পর হুথিরা পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে। পারস্য উপসাগর দিয়ে জাহাজ চলাচলে ইরানের হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করার পর থেকে বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব এই লোহিত সাগর রুটের ওপরই নির্ভর করে আসছিল।
আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সফরকালে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, 'হুথিরা আমাদের ফোন করেছিল এবং তারা আমাদের সাথে লড়াই করতে চায় না।' তিনি আরও বলেন, 'তারা চায় না আমরা তাদের পিছু নিই।' তার মতে, 'এই অঞ্চলে সবকিছু খুব সুন্দর ও চমৎকারভাবেই সমাধান হয়ে যাবে।'
ট্রাম্প সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে কথা বলার বিষয়টিও উল্লেখ করেন, যাকে তিনি তার একজন "বন্ধু" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর তথ্য অনুযায়ী, হুথিদের ওপর মার্কিন বিমান হামলার অনুরোধ জানাতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে দুবার ফোন করেন, কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট তা প্রত্যাখ্যান করেন।
চলতি সপ্তাহে হুথিরা বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে সৌদি আরবের বিভিন্ন তেল স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করে।
মোখায় হুথিদের ওপর ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর আঘাত
ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী শনিবার জানিয়েছে, লোহিত সাগরের কৌশলগত শহর মোখায় তারা হুথি যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
সপ্তাহব্যাপী অভিযানের পর হুথিরা শুক্রবার ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল নিজেদের দখলে নেয়। এর মাধ্যমে তারা বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় করেছে। মার্কিন-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এটি সৌদি আরবের তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছিল।
সরকারি বার্তা সংস্থা 'সাবা' জানিয়েছে, 'সশস্ত্র বাহিনী শহরের মোখা বন্দরের কাছে ইরানি শাসকগোষ্ঠী সমর্থিত "হুথি সন্ত্রাসী মিলিশিয়াদের" যানবাহন ও অস্ত্র ধ্বংস করেছে এবং তাদের সদস্যদের হত্যা করেছে।'
সাবার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি জানান, শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে মোখা-ধুবাব সড়কে তারা হুথিদের যানবাহন ও সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
নাজিলি শুক্রবার জানান, তারা মোখা এলাকার নির্দিষ্ট স্থানে গোলাবর্ষণ শুরু করেছেন এবং নাগরিকদের তায়েজ-মোখা এবং মোখা-ধুবাব সড়ক ব্যবহার না করার আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার হুথিরা মোখার নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেয়, এবং তাদের এই আক্রমণের মুখে অনেকেই পালিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার পরিচালিত এডেনে গিয়ে আশ্রয় নেন।
শুক্রবার হুথিদের গণমাধ্যম দাবি করেছে, মোখা বিমানবন্দরে দুটি সৌদি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানান, শহরের সমুদ্রবন্দরে অজ্ঞাত উৎসের ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত এনেছে।
উভয় পক্ষের সূত্র অনুযায়ী, গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এই হুথি অভিযানে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা শুক্রবার জানিয়েছে, এই সংঘাতের ফলে প্রায় ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
২০১৪ সালে এই গোষ্ঠী কর্তৃক রাজধানী সানা দখলের মাধ্যমে ইয়েমেনে যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, এটি তারই পুনরায় জেগে ওঠা নতুন সংঘাতের অংশ।
