হংকং-স্টাইলে ফকল্যান্ডকে আর্জেন্টিনার কাছে হস্তান্তর করুন: প্রেসিডেন্ট মিলেই
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্টিনার নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৯৯৭ সালে চীনের কাছে হংকং হস্তান্তরের চুক্তিকে মডেল হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট একটি "সর্বসম্মত সমাধান"-এর আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'আর্জেন্টাইনরা যুদ্ধে বিশ্বাস করে না এবং এই দূরবর্তী দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে তারা বর্বরদের মতো চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করবে না।'
বৃহস্পতিবার রাতে এক জাতীয়তাবাদী টেলিভিশন ভাষণের পর 'দ্য ইকোনমিস্ট'-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তার এই মন্তব্যগুলো সামনে আসে। উক্ত টিভি ভাষণে তিনি 'তিয়েরা দেল ফুয়েগো'তে একটি নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যকে একটি "ক্ষয়িষ্ণু রাষ্ট্র" হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'যুক্তরাজ্য তো হংকংয়ের ক্ষেত্রে এমন একটি চুক্তি করেছিল, তাহলে এমন কোনো সমঝোতা কেন নয় যার মাধ্যমে আজ হোক বা কাল দ্বীপগুলো আর্জেন্টিনার কাছে ফিরে আসবে? এগুলো তো আমাদেরই।'
তিনি 'চীন-যুক্তরাজ্য যৌথ ঘোষণা'র উদাহরণ আনেন, যা ১৯৮৪ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং যার অধীনে অবশেষে ১৯৯৭ সালে হংকংকে চীনের হাতে তুলে দেয় যুক্তরাজ্য।
সেই চুক্তির অধীনে হংকং আগামী ৫০ বছরের জন্য নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থা বজায় রেখে চীনের জাতীয় ভূখণ্ডের অংশ হয়। তবে বিতর্কিত বিষয় হলো, ওই চুক্তির ক্ষেত্রে হংকংয়ের সাধারণ মানুষকে কোনো ভোটাধিকার দেওয়া হয়নি।
এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, হংকংয়ে ভিন্নমত দমনে স্বৈরাচারী কড়াকড়ির কারণে চীন এখন ব্যাপকভাবে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকারীদের জেলে পুরে রাখা এবং অধুনালুপ্ত 'অ্যাপল ডেইলি' পত্রিকার মালিক জিমি লাইকে রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া।
বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার আগেই মিলেইয়ের এই সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়, তবে এটি প্রকাশিত হয় ভাষণের পর। ভাষণের তীব্রতার তুলনায় তার সাক্ষাৎকারের সুর ছিল লক্ষণীয়ভাবেই অনেক বেশি আপসমুখী ও ইতিবাচক।
জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট মিলেই জানান, 'ফকল্যান্ডসের সমুদ্রসীমায় খনিজ তেল উত্তোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনার পাশাপাশি দ্বীপপুঞ্জটি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে।'
আঞ্চলিক এই বিরোধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হস্তক্ষেপকে পুঁজি করে দেওয়া উক্ত ভাষণে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট যুক্তরাজ্যকে একটি ক্ষয়িষ্ণু রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি ফকল্যান্ডসের চারপাশের সমুদ্রে তেল উত্তোলনে নিয়োজিত কোম্পানিগুলোকে শাস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে একটি নতুন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন যা ব্রিটিশ রাজনীতিবীদ অ্যান্ডি বার্নহামের সাথে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে।
এর জবাবে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, ফকল্যান্ডস রক্ষায় যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতি "অবিচল ও সুদৃঢ়"।
তিনি আরও বলেন, 'দ্বীপগুলো ব্রিটিশ ভূখণ্ড এবং ব্রিটিশই থাকবে, কারণ এটিই সেখানকার বাসিন্দাদের চূড়ান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ মত। তাদের 'স্বনিয়ন্ত্রণের অধিকার' সর্বাগ্রে প্রযোজ্য এবং আন্তর্জাতিক আইনে প্রতিষ্ঠিত; আর আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে তা ধরে রাখব।'
এদিকে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক লেবার সরকারের সমালোচনা করে তাদেরকে "অসচেতন বা নিস্তেজ" বলে আখ্যা দেন। তিনি দাবি করেন, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ হস্তান্তর করার কারণেই আর্জেন্টিনা আরও আগ্রাসী অবস্থান নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
তিনি বলেন, 'হাভিয়ের মিলেই মার্গারেট থেচারের প্রশংসা করার দাবি করেন, কিন্তু এই শিক্ষাটি ভুলে যান যে: ব্রিটেন কখনোই ধমক প্রদানকারী বা নিপীড়কদের কাছে নতি স্বীকার করে না।'
