আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ‘ঘৃণা’ ছড়ালে বিদেশিদের বের করে দেবেন মিলেই, নির্বাহী আদেশে সই
আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে 'ঘৃণা' ছড়ানো বিদেশিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিধান রেখে জরুরি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জারি করা এ আদেশের বৈধতা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
নতুন আদেশ অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে 'ঘৃণা' ছড়ানো বা দেশটির জাতীয় প্রতীককে অবমাননা করা বিদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া, ফেরত পাঠানো কিংবা ভিসা বাতিল করার ক্ষমতা পাবে সরকার।
আদেশের ঘোষণা দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টিনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে আনে।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়। তবে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ ওঠায় দলের সাফল্য বিতর্কের মুখে পড়ে। মিলেই এসব সমালোচনাকে আর্জেন্টিনার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের পরিকল্পিত প্রচারণা হিসেবে তুলে ধরেন।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, 'সাম্প্রতিক সময়ে আর্জেন্টিনা ও আর্জেন্টিনাবাসীর বিরুদ্ধে যে বৈরী আচরণ দেখা গেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সরকার আবারও স্পষ্ট করে জানাচ্ছে—দেশ, দেশের নাগরিক ও জাতীয় প্রতীকের সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস হবে না।'
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'যে কেউ আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে, তাকে আমাদের দেশে স্বাগত জানানো হবে না।'
সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে নিজেদের দলকে ঘিরে হওয়া সমালোচনাকে অনেক আর্জেন্টিনাবাসী অন্যায্য বলে মনে করছেন।
টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনা রেফারিংয়ে বিশেষ সুবিধা পেয়েছে—এমন অভিযোগও ওঠে। ফাইনাল শেষে মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা তিন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়, একজন কোচ এবং একজন স্প্যানিশ খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে 'অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ'-এর অভিযোগে শৃঙ্খলাবিষয়ক তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয়।
বিশ্বকাপ চলাকালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের, এমনকি লাতিন আমেরিকারও অনেক সমর্থক স্পেনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় আর্জেন্টিনায় অসন্তোষ দেখা দেয়। একই সঙ্গে বর্ণবাদের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছেন, ব্রাজিল, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির বামপন্থীরা অর্থায়ন করে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে একটি সমন্বিত প্রচারণা চালিয়েছে।
এসব অভিযোগ এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ও দেশটির বিচার বিভাগের সদস্যদের উদ্দেশে মিলেইর কটূক্তির জেরে গত সপ্তাহে ব্রাজিল নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয়।
তবে বৃহস্পতিবারের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনার সংবিধান যেসব রাজনৈতিক, একাডেমিক বা নাগরিক সমালোচনার স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।
তবে 'ঘৃণা' বলতে ঠিক কী বোঝানো হবে, কিংবা বিদেশি পর্যটক ও বাসিন্দাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম যাচাই করা হবে কি না—এসব বিষয়ে আদেশে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
