সেউতা অভিবাসী সংকটে ইন্ধন দিয়েছে রাশিয়া ও ইসরায়েল: দাবি স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইনে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে ও অপপ্রচার করে রাশিয়া এবং ইসরায়েল সেউতা সংকটে ইন্ধন জুগিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস (ইএএস)-এর গবেষণার উল্লেখ করে সানচেজ বলেন, উত্তর আফ্রিকান উপকূলে অবস্থিত স্প্যানিশ ছিটমহল সেউতাতে মরক্কোর অভিবাসীদের বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অনুপ্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও ইসরায়েলি নেটওয়ার্কগুলো স্পেনের ওপর ভার্চ্যুয়াল হামলা চালিয়েছিল।
গত ৩০ জুলাই মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে অন্তত ৭২ হাজার অভিবাসী সেউতাতে প্রবেশ করে। এর ফলে একটি কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২২টি দেশ তাদের অভিবাসন নীতির কারণে স্পেনের সমালোচনা করে। অধিকাংশ অভিবাসী মরক্কোতে ফিরে গেলেও ৮২ হাজার জনসংখ্যার এই অঞ্চলে এখনো অন্তত ৫ হাজার অভিবাসী রয়ে গেছেন, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
গত সোমবার 'কাদেনাে এসইআর' রেডিও স্টেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সানচেজ বলেন, এটি 'স্পষ্ট' যে স্পেনকে আক্রমণ করার মাধ্যম হিসেবে ইসরায়েল এবং রাশিয়া সেউতা সংকটকে ব্যবহার করেছে। কারণ ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ এবং গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের বিরোধিতা করার কারণে স্পেন সরকার সাথে তাদের মতবিরোধ চলছিল।
তবে এই ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার অভিযোগকে "লজ্জাহীন মিথ্যাচার" বলে আখ্যা দিয়ে সানচেজের তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরায়েল। সানচেজ বলেন, 'বাস্তব সত্য হলো—রাশিয়ান এবং ইসরায়েলি কিছু নেটওয়ার্ক একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে স্পেন সরকার ও ইউরোপীয় কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে লড়াইকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বহু ইউরোপীয় দেশ বিভক্ত, বিচ্ছিন্ন এবং মেরুকৃত হয়ে পড়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'এটা স্পষ্ট যে এই ইস্যুতে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর পেছনে রাশিয়ার হাত রয়েছে। পাশাপাশি স্পেন সরকারের সমালোচনা করে ইসরায়েলও এ সংক্রান্ত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আর এর কারণ এটা নয় যে তারা ইউরোপ থেকে স্পেনে অভিবাসন নিয়ে চিন্তিত। বরং গাজায় গণহত্যা এবং ইউক্রেনে পুতিনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমরা যে সাহসী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছি, ঠিক সেই কারণেই তারা এমনটা করছে।'
এর জবাবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার বলেন, 'আজকে 'কাদেনা সের'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সানচেজ আবারও মিথ্যা বলেছেন। অত্যন্ত বিস্ময়করভাবে তিনি সেউতার ঘটনার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর দায় ইসরায়েলের ওপর চাপিয়েছেন।' তিনি আরও বলেন, 'এটি একটি অমার্জনীয় ও নির্লজ্জ মিথ্যাচার। এ ধরনের মানহানিকর মিথ্যা ছড়িয়ে সানচেজ তার দেশ পরিচালনায় যে চরম ব্যর্থতা দেখিয়েছেন, তা থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানো যাবে না।'
সানচেজ গাজা যুদ্ধের বিষয়ে ইসরায়েলের একজন প্রখর সমালোচক হিসেবে পরিচিত, এবং স্পেন শুরু থেকেই ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এসেছে। তবে দ্য টেলিগ্রাফের পক্ষ থেকে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের 'ইএএস' তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সোমবার স্পেনের সাথে থাকা 'শেনজেন মুক্ত ভ্রমণ চুক্তি' স্থগিতের মেয়াদ আরও ১৫ দিনের জন্য বৃদ্ধি করেছে ইতালি। সেউটা সংকট মোকাবিলায় জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন রোমের রক্ষণশীল জোট সরকার গত ১ আগস্ট প্রথম স্পেনের সাথে এ ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।
এর জবাবে স্পেনও ইতালি থেকে আসা বন্দর ও বিমানবন্দরের যাত্রীদের ওপর তল্লাশি শুরু করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতালি সরকারের মূল দুশ্চিন্তা হলো—সেউতা সংকটের এক মাস পার হয়ে গেলেও স্প্যানিশ ছিটমহলে এখনো হাজার হাজার অভিবাসী রয়ে গেছেন এবং সানচেজ সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অনিচ্ছুক কিংবা অসমর্থ বলে মনে হচ্ছে।
তবে এই অনুপ্রবেশের পেছনে মরক্কোর হাত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সানচেজ। তিনি বলেন, 'স্পেন সরকার সাধারণত যেসকল গোয়েন্দা সংস্থার সাথে কাজ করে, তাদের কেউই কোনোভাবে মরক্কো কর্তৃপক্ষের জড়িত থাকার বিষয়ে বিন্দুমাত্র সংশয় বা ইঙ্গিত প্রকাশ করেনি।'
