‘মৃত্যুর জন্য আমি প্রস্তুত’, সব সময় নিজের ‘কাফনের কাপড়’ সঙ্গেই থাকে: লাকি আলী
ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী লাকি আলীর সাম্প্রতিক কিছু কথা তার ভক্তদের আবেগাপ্লুত করেছে। একটি লাইভ কনসার্টে মৃত্যু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে লাকি আলী বলেন, তিনি 'মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত'।
দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে শিল্পী নিজেও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এসময় বলা তার কিছু কথা কথা এবং এরপরে গাওয়া গান উপস্থিত অনেক দর্শককে আবেগাপ্লুত করেছে।
'ভ্রমণের সময় আমি কাফনের কাপড় সঙ্গে রাখি'
সাম্প্রতিক এক কনসার্টে ৬৭ বছর বয়সী এই সংগীতশিল্পী আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, 'আমি জানি, আমিও তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি। একদিন আমাদের সবাইকেই চলে যেতে হবে। আমি তোমাদের এর জন্য প্রস্তুত হতে বলছি না, তবে আমি আসলে প্রস্তুত।'
এই শিল্পী আরও বলেন, 'আমি যখনই ভ্রমণ করি, সঙ্গে আমার ইহরাম রাখি। এটিই আমার কাফনের কাপড়। যেখানেই আমার মৃত্যু হবে, সেখান থেকেই আমাকে বিদায় দিও।'
তার কথায় ভক্তরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ইনস্টাগ্রামে লাকি আলী ভিডিওটি প্রকাশ করার পর অনেক ভক্ত প্রতিক্রিয়া জানান।
একজন লিখেছেন, 'আমি এই বাস্তবতা মেনে নিতে চাই না। এখনও যেন ৯০-এর দশকের শেষ সময় চলছে। আমি ডিডিতে আপনার গান দেখছি, আপনি চির তরুণ। মানসিকভাবে আমি সেখানেই আটকে আছি।'
আরেক ভক্ত মন্তব্য করেন, 'ইহরাম সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ করা আপনার হৃদয়ে ধারণ করা বিশ্বাসের পরিচয়। আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন এবং আরও সুন্দর পরকাল দান করুন... আমিন।'
আরেক ভক্ত দীর্ঘ একটি নোটে লেখেন, 'প্লিজ এভাবে বলবেন না। আপনাকে দেখে, আপনার গান শুনে আমি বড় হয়েছি। আপনার কণ্ঠ আমার বেড়ে ওঠার একটি অংশ হয়ে উঠেছিল। আমি আপনার কণ্ঠ অনুকরণ করার চেষ্টা করেছি, আপনার গান গেয়েছি এবং একসময় আপনি আমার কাছে শুধু একজন শিল্পীর চেয়েও অনেক বেশি কিছু হয়ে উঠেছিলেন।'
অভিনেতার ছেলে থেকে গায়ক হয়ে ওঠা
কিংবদন্তি অভিনেতা মেহমুদের ছেলে লাকি আলী মূলত স্বাধীন সংগীতের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি প্লেব্যাক গানও করেছেন তিনি।
৯০-এর দশকে স্বাধীন সংগীতের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর লাকি আলী 'তামাশা', 'আনজানা আনজানি', 'বচনা অ্যায় হাসিনো', 'ইউভা', 'কহো না পেয়ার হ্যায়'সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় বলিউড সিনেমায় প্লেব্যাক গান করেন।
গত বছর 'নবভারত টাইমস'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লাকি আলী বলিউডে তার অভিনয়জীবন নিয়ে কথা বলেছিলেন।
তিনি বলেন, 'একটা সময় আমি সিনেমায় অভিনয় করতাম এবং গানও গাইতাম। কিন্তু একসময় বুঝতে পারছিলাম না, এরপর আর কী করার আছে। আমি নিজের স্টাইলে গান গাইতে চেয়েছিলাম—স্বাধীনতার সেই খোঁজ থেকেই 'ও সনম' গানটির জন্ম।'
তিনি আরও বলেন, '২০১৫ সালে আমি ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে সরে যাই। মানুষ আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছিল। কিন্তু সেই বিষাক্ত পরিবেশ আমাকে দূরে সরিয়ে দেয়নি, আমার দূরে সরে যাওয়ার কারণ ছিল একঘেয়েমি। বাবার মৃত্যুর পর আমার মনে হয়েছিল, ওখানে (বলিউডে) আমার আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এমনকি আমার কোনো বন্ধুও ছিল না।'
লাকি আলী বলেন, শ্যাম বেনেগালের সঙ্গে 'ত্রিকাল' ও 'ভারত এক খোঁজ'-এ কাজ করেছি। নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি ও ওম পুরির মতো শিল্পীদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। কয়েক বছর পর আমি আবার সংগীতে ফিরে আসি। আমি বুঝেছিলাম, আমার যদি সত্যিই প্রতিভা থাকে, মানুষ আমার গান শুনবে। আর যদি না থাকে, তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে।'
ব্যক্তিগত জীবন
ব্যক্তিগত জীবনে লাকি আলী তিনবার বিয়ে করেছেন। প্রথমে তিনি মেগান জেন ম্যাকক্লিয়ারিকে বিয়ে করেন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। দ্বিতীয়বার তিনি ইনায়াকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন পারস্যের একজন নারী। তাদেরও দুই সন্তান রয়েছে।
২০১০ সালে ব্রিটিশ মডেল ও সাবেক সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিজয়ী কেট এলিজাবেথ হ্যালামকে বিয়ে করেন লাকি আলী। তাদের একটি ছেলে রয়েছে। ২০১৭ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
ব্যর্থ বিয়ে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে লাকি আলী বলেন, 'একই সঙ্গীর সঙ্গে জীবন শুরু করে শেষ করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। আমি তিনবার বিয়ে করেছি, প্রতিবারই ভিন্ন দেশে এবং প্রতিটি পরিস্থিতিই ছিল আলাদা। আমার বাবাও ভারতের বাইরে বিয়ে করেছিলেন। তাই আমাদের বাড়ির পরিবেশ ছিল অনেকটাই বৈশ্বিক।'
তিনি আরও বলেন, 'আমার কোনো বিয়েই টেকেনি, কিন্তু আমার সব সম্পর্ক এখনও টিকে আছে। আমরা একসঙ্গে থাকি না, তবে সবসময় একে অন্যের পাশে আছি। আমি সবসময় আমার সন্তানদের প্রতি দায়িত্বশীল ছিলাম। আমি বিশ্বাস করি, সন্তান পালনের একমাত্র সত্যিকারের উপায় হলো ভালোবাসা—শিশুরা তাদের বাবা-মা কী করেন, তা দেখেই শেখে।'
