কক্সবাজারে বন্যায় ৩০ প্রাণহানি, আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি ও ৪ হাজার হেক্টর ফসল ক্ষতিগ্রস্ত
দশম দিনে এসে কক্সবাজারে বৃষ্টির তীব্রতা কমেছে। প্লাবিত এলাকার পানি নামতে শুরু করায় ধীরে ধীরে ভেসে উঠছে দীর্ঘ নয় দিনের ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষতচিহ্ন। জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এরই মধ্যে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ৪ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত নয় দিনে কক্সবাজারে মোট ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭০টি এবং ৫টি পৌরসভার মধ্যে ৪টির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েন প্রায় আড়াই লাখ মানুষ।
ভারী বৃষ্টি ও পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত জেলায় ১৩ জন রোহিঙ্গাসহ মোট ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাথমিক হিসাবে জেলায় ১ হাজার ৬১৩টি বসতবাড়ি এবং ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবকাঠামোগত ক্ষতির মধ্যে ২ হাজার ৪৮ কিলোমিটার সড়ক এবং ৭৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা। চকরিয়ার ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে ৬ জন নিহত ও ১ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এখানে ৩৫০ কিমি সড়ক ও ২০টি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেকুয়া উপজেলার ৯৫ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে; ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৫০টি বাড়ি ও ২৩০ কিমি সড়ক।
উখিয়া উপজেলায় পাহাড় ধসে ১৩ জন রোহিঙ্গাসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজার সদরে ৩ জন, রামুতে ২ জন এবং মাতামুহুরী, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও টেকনাফে ১ জন করে নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মহেশখালীতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় ১৫টি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে ঈদগাঁও উপজেলায় ৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হলেও সেখানে ৩০টি বাড়ি ও ৫ কিমি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ৪৪টি স্থানে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী পূর্বপাড়া এলাকায় ২৫ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে।
কৃষিখাতে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল কুমার প্রমাণিক জানান, নয় দিনের এই দুর্যোগে ৪ হাজার ২১২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৬২০ হেক্টর আউশ ধান, ৪৭০ হেক্টর আমন বীজতলা, ৯৯৫ হেক্টর শাক-সবজি এবং ১৬৬ হেক্টর পানের বরজ রয়েছে। এতে ৪৩ হাজার ২১০ জন কৃষক প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, 'জেলার ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। প্লাবিত এলাকার মানুষদের ৭ হাজার ৭৯০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ২৯৮ মেট্রিক টন চাল ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আরও ত্রাণের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।'
