ট্রাম্প-সংযোগের জেরে ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি ইউরোপীয় এমপিদের
লাল কার্ড দেখার পরেও নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে পরের ম্যাচে মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানকে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে নামার অনুমতি দিয়েছিল ফিফা। এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পেছনে ফিফা-প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর হাত ছিল কি না, তা নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তদন্ত শুরুর চেষ্টা চলছে। কয়েক ডজন ইউরোপীয় এমপি ইতিমধ্যেই এই তদন্তের পক্ষে সমর্থন জোগাড় করতে মাঠে নেমেছেন।
বিপত্তি এখানেই শেষ নয়। একটি মানবাধিকার সংগঠন বুধবার অভিযোগ দায়েরের ঘোষণা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) জেরার মুখেও পড়তে পারেন ইনফান্তিনো।
১ জুলাই বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে আমেরিকার জয়ের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন বালোগান। নিয়ম অনুযায়ী, পরের ম্যাচে তার মাঠে নামার সুযোগ ছিল না। কিন্তু গত সোমবারের ম্যাচের আগে নাটকীয়ভাবে তার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ফিফা।
২৫ বছর বয়সি এই স্ট্রাইকারের পক্ষে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইনফান্তিনোকে ফোন করার পরই এই সিদ্ধান্ত আসে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতা ব্যারি অ্যান্ড্রুজ, লারা ওল্টার্স ও নিলস ফুগলসাং এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, 'টুর্নামেন্টের মাঝপথে লাল কার্ডের নিয়ম বদলে ফেলা লজ্জাজনক এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।'
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'আমরা আবারও দেখলাম কীভাবে ইনফান্তিনো ও ফিফা ট্রাম্প প্রশাসনের দাবির কাছে মাথা নত করল।'
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে ফিফা এথিকস কমিটিকে দিয়ে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্ত করাতে বলছেন এই আইনপ্রণেতারা। তারা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের চাপেই এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।
সেইসঙ্গে ট্রাম্পকে ফিফা শান্তি পুরস্কার দেওয়ার মতো 'রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা লঙ্ঘনের অন্যান্য সম্ভাব্য ঘটনাগুলোও' তদন্তের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন তারা।
অবশ্য ফিফার দাবি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে তাদের ডিসিপ্লিনারি কমিটির।
আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৩৫ জন এমপি এই তদন্তের দাবিতে চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন।
তারা বলেন, 'খেলাটির আসল সৌন্দর্যই হলো এর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নিয়মকানুন। ইনফান্তিনো যখন রাজনৈতিক চাপের মুখে কে খেলবে আর কে খেলবে না তা ঠিক করেন, তখন খেলাধুলার সেই সততা আর বজায় থাকে না।'
এদিকে আইওসি-ও ইনফান্তিনোর আচরণ নিয়ে তদন্তে নামতে পারে। ফিফার মতো ক্রীড়া সংস্থাগুলোর জন্য অলিম্পিকের অন্যতম মূল ভিত্তিই হলো 'রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা'। ২০২০ সালে ইনফান্তিনো যখন আইওসির ১০০ জনের এক্সক্লুসিভ আমন্ত্রিত সদস্য ক্লাবে যোগ দেন, তখন থেকেই তার ওপর আইওসির আইনি কর্তৃত্ব তৈরি হয়েছে।
লন্ডনভিত্তিক ক্রীড়া ও মানবাধিকার সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছে, 'ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যেভাবে বারবার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘন করছেন, তা নিয়ে আমরা আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিতে (আইওসি) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করতে যাচ্ছি।'
অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট কার্স্টি কভেন্ট্রির এক মন্তব্যের ঠিক পরদিনই আইওসি এথিকস কমিশনের কাছে এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়ার ঘোষণাটি এল।
মঙ্গলবার এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে কভেন্ট্রি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তখন পর্যন্ত এমন কোনো অভিযোগ তারা পাননি। ট্রাম্প প্রশাসনের তদবিরে ফিফা ও ইনফান্তিনোর এই বালোগান-বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কভেন্ট্রি বলেন, 'অভিযোগ এলে আমরা অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখব।'
বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ, যারা ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকেরও আয়োজক—তাদের এভাবে মাঠের খেলায় হস্তক্ষেপ করা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আইওসি প্রেসিডেন্ট এর আগে বলেছিলেন, 'হ্যাঁ, পুরো ঘটনাটা কীভাবে ঘটছে তা আমরা পর্যবেক্ষণ রাখছি।'
প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আইওসিতে জমা পড়তে যাওয়া এই অভিযোগ নিয়ে ফিফার মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংস্থাটি কোনো জবাব দেয়নি।
