ট্রাম্প আমাকে নিয়ে 'অবসেসড', তার মাথার ভেতর আমার জন্য একটা 'স্যুইট' বরাদ্দ আছে: ওবামা
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে নিয়ে যেন একধরনের 'ঘোরের' (অবসেশন) মধ্যে আছেন। ওবামা এ-ও বলেছেন, ট্রাম্প খুব ভালো করেই জানেন যে সামনাসামনি তাকে অপমান করার সাহস তার নেই। ট্রাম্পের মাথায় তার জন্য পুরো একটি স্যুইট বরাদ্দ রয়েছে বলেও রসিকতা করেন ওবামা।
বুধবার 'অল দ্য স্মোক' নামের একটি পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওবামা এই মন্তব্য করেন।
পডকাস্টের উপস্থাপক, এনবিএর সাবেক খেলোয়াড় ম্যাট বার্নস ও স্টিফেন জ্যাকসন তাকে প্রশ্ন করেছিলেন—ট্রাম্প বছরের পর বছর ধরে তাকে এবং তার পরিবারকে নিয়ে যেভাবে মেতে আছেন, তার পরও ওবামা কীভাবে নিজের 'ভদ্রতা বজায় রাখেন'?
জবাবে ওবামা বলেন, 'দেখুন, এই ঘোর বা আচ্ছন্ন থাকার বিষয়টি আপনাদের তাকেই (ট্রাম্পকে) জিজ্ঞাসা করতে হবে। তবে এটা পরিষ্কার যে তার মাথার ভেতর আমার জন্য একটি ঘর বরাদ্দ আছে—শুধু ঘর নয়, পুরো একটি স্যুইট।'
তিনি আরও বলেন, 'যার কথা আপনারা বলছেন, সে যখন আমার সামনে পড়ে, যা দু-একবার ঘটেছে, তখন সে এ রকম ভাষায় কথা বলে না।'
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের বেপরোয়া মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে ওবামা বলেন, 'আমার মনে হয়, ফোন মানুষকে এমন একটা সুযোগ করে দেয়, যেখানে তারা এমন সব আজেবাজে কথা বলতে পারে, যা সামনাসামনি বলার সাহস তাদের কখনো হবে না—কারণ তারা জানে অনলাইনে কিছু বললে এর কোনো তাৎক্ষণিক পরিণতি ভোগ করতে হয় না।'
উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের শেষকৃত্যে ট্রাম্প ও ওবামাকে সর্বশেষ একসঙ্গে জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল। সেখানে তারা পাশাপাশি বসেছিলেন এবং তাদের হাসিমুখে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল।
সাক্ষাৎকারে ওবামা সূক্ষ্মভাবে ট্রাম্পকে খোঁচাও দেন। তিনি বলেন, যখন তিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন তার পূর্বসূরিদের নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো সময় তার ছিল না, কারণ এই কাজের জন্য 'সব সময় মনোযোগ ধরে রাখতে হয়'। তিনি এ-ও জানান, ট্রাম্পের মতো সারাক্ষণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা কেবল টিভি নিয়ে পড়ে থাকার মতো সময় তার ছিল না।
ওবামা বলেন, 'আমার আগের প্রেসিডেন্ট কী করেছেন বা আজ তিনি কী করছেন, তা নিয়ে সারাক্ষণ মাথা ঘামানো আমার কাছে খুব অদ্ভুত লাগে।'
তিনি আরও বলেন, 'এর মানে হলো, ওই ব্যক্তি আমেরিকান জনগণ এবং তার যে কাজ করার কথা, সেদিকে মনোযোগ দিচ্ছেন না।'
ওবামার প্রতি ট্রাম্পের ধারাবাহিক আক্রমণ
আমেরিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে নিয়ে ট্রাম্পের এই আচ্ছন্নতা নতুন কিছু নয়। এর আগেও ট্রাম্প একটি বর্ণবাদী মিথ্যা ছড়িয়েছিলেন যে ওবামা আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করেননি।
সম্প্রতি ট্রাম্প যখন একের পর এক রাজনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়ছেন, তখন তিনি আবারও ওবামাকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন।
গত সপ্তাহে ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প দুই ডজনেরও বেশিবার ওবামার নাম নেন। ইরানের সঙ্গে করা তার ভঙ্গুর শান্তি চুক্তিটিকে ওবামার ২০১৫ সালের চুক্তির চেয়ে 'সেরা' প্রমাণের জন্যই তিনি বারবার ওবামার নাম টেনে আনেন। যদিও ট্রাম্পের মিত্ররাও সমালোচনা করে বলেছিলেন যে তার চুক্তিটি ওবামার চুক্তির মতোই বা তার চেয়েও খারাপ।
ওই সম্মেলনে ওবামার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প ব্যাখ্যা করেন ২০১৫ সালের 'জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন' বা জেসিপিওএ-তে তেহরান কীভাবে সাড়া দিয়েছিল।
ট্রাম্প দাবি করেন, 'ওবামার আমলে তেহরান ঘুষ দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করেছিল। আর জানেন ইরানিরা কী করেছিল? তারা ওবামাকে নিয়ে হেসেছিল এবং বলেছিল, "সে একটা স্টুপিড সন অফ আ বিচ।"'
চলতি সপ্তাহে লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলের সংস্কারকাজ ব্যর্থ হওয়ার দায় এড়াতেও ট্রাম্প ওবামার নাম টেনে আনেন। এ ছাড়া চলতি মাসে ওবামা যখন তার 'প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি' উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন ট্রাম্প দুবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই লাইব্রেরিকে 'ময়লার স্তূপ' হিসেবে ব্যঙ্গ করে ছবি পোস্ট করেছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, এই লাইব্রেরি 'যারা আমেরিকাকে ঘৃণা করে, তাদের মক্কায় পরিণত হবে!'
ওবামা এবং তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের অপমানের শিকার। চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি বর্ণবাদী ভিডিও পোস্ট করেছিলেন, যেখানে ওবামা এবং সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামাকে বানর হিসেবে দেখানো হয়েছিল। পরে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং একজন কর্মীর ঘাড়ে দোষ চাপান। তিনি এ-ও বলেছিলেন যে এর জন্য তার ক্ষমা চাওয়ার কিছু নেই।
ওবামার এই মন্তব্যের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলির কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ওবামা আমলের ইরান চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি ওবামাকে 'ইতিহাসের অন্যতম দুর্বল ও জঘন্য প্রেসিডেন্ট' বলে আখ্যা দেন।
