Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

তাহারা ফুটবলকেও ভালোবাসতেন

গত শতাব্দীর দুরন্ত সাহিত্যিক হিসেবে গ্রাস এবং গালিয়ানোই যে ফুটবল দেখার জন্য তাদের কলম নামিয়ে রেখেছিলেন, তা কিন্তু নয়। মারিও বার্গাস ইয়োসা, গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস এবং আলবেয়ার কামুও এই খেলার ভক্ত ছিলেন। তাহলে একটি বল এবং চারটি খুঁটির দুই গোলপোস্ট কীভাবে একজন মহান ব্যক্তির চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে?
তাহারা ফুটবলকেও ভালোবাসতেন

ইজেল

সৈকত দে
15 June, 2026, 08:45 pm
Last modified: 15 June, 2026, 09:01 pm

Related News

  • ইরানের ম্যাচে মিনাবে নিহত ১৬৮ শিশুকে স্মরণ করলেন সমর্থকরা
  • দুইবার পিছিয়ে গিয়েও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ গোলে ইরানের ড্র
  • ‘প্রেমিকের দায়িত্ব পালন করতে’ কানাডার ম্যাচ বাদ দিয়ে কেটি পেরি-র পারফরম্যান্স দেখতে গেলেন ট্রুডো
  • যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ফুটবলকে কেন ‘সকার’ বলা হয়?
  • ফেসবুকে বিশ্বকাপ: মৌসুমি ফ্যান বনাম আসল ফ্যান

তাহারা ফুটবলকেও ভালোবাসতেন

গত শতাব্দীর দুরন্ত সাহিত্যিক হিসেবে গ্রাস এবং গালিয়ানোই যে ফুটবল দেখার জন্য তাদের কলম নামিয়ে রেখেছিলেন, তা কিন্তু নয়। মারিও বার্গাস ইয়োসা, গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস এবং আলবেয়ার কামুও এই খেলার ভক্ত ছিলেন। তাহলে একটি বল এবং চারটি খুঁটির দুই গোলপোস্ট কীভাবে একজন মহান ব্যক্তির চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে?
সৈকত দে
15 June, 2026, 08:45 pm
Last modified: 15 June, 2026, 09:01 pm

আর সপ্তাহখানেক পরেই শুরু হতে চলেছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ৩৯ দিনব্যাপী আসর। এই আসর ঘিরে নানা সময় জুড়ে বড় কথাসাহিত্যিকেরা, চিন্তকেরা অসামান্য সব গদ্য লিখেছেন। কারও কারও গল্প-উপন্যাসের চরিত্রে ফুটবল খেলার বিষয়টি বাক্যপ্রবাহের আত্মায় মিশে গেছে। এই রচনায় কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক আর চিন্তকের ফুটবল ভাবনা নিয়ে আমরা কথা বলব। 

গুন্টার গ্রাস এবং এদুয়ার্দো গালিয়ানো দুজনেই এমন দুটি দেশের বাসিন্দা যে দেশ দুটিতে ফুটবল জাতীয় খেলার চেয়েও অনেক বেশি কিছু। এটি এমন এক আবেগ, যা শ্রেণি, লিঙ্গ এবং প্রজন্মকে ছাড়িয়ে যায়।

গালিয়ানো অল্প বয়সে উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিওর রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফুটবল নিয়ে পড়ে থাকতেন। অবশ্য পরে তিনি স্বীকার করেছিলেন যে খেলাধুলায় তিনি একেবারেই সুবিধে করতে পারেননি। গুন্টার গ্রাস প্রাপ্তবয়স্কতার সময়েই লেফট-উইং পজিশনে খেলা শুরু করেন। 'আমার কিছু ক্রস ভালো ছিল'—প্রায়ই তিনি বলতেন। 

গালিয়ানো লিখেছিলেন, 'আমি একজন ফুটবলার হতে চেয়েছিলাম। শুধু ফুটবলার। আমি হয়ে উঠেছিলাম সেরাদের সেরা, এক নম্বর। ম্যারাডোনার চেয়ে ভালো, পেলের চেয়ে ভালো, এমনকি মেসির চেয়েও ভালো। তবে এসব ভাবনা আসত কেবল রাতে, আমার স্বপ্নের মধ্যে। জেগে ওঠার পর আমি বুঝতে পারি, এই সব স্বপ্নে ঘটেছে এবং আমার পা জোড়া আসলে কাঠের। আমি বুঝে উঠতে পারি, লেখক হওয়াই আমার জন্য নিয়তির ঠিক করে দেওয়া জীবন পদ্ধতি।' গালিয়ানো উরুগুয়ের অন্যতম সেরা দল ন্যাশিওনালের ভক্ত ছিলেন। সব সময়ই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল দলের প্রতি অনুগত থাকার বিশ্বাস। 'মানুষ তার জীবনে নারী, রাজনৈতিক দল অথবা ধর্ম পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু সে তার ফুটবল ক্লাব পরিবর্তন করতে পারে না'—পরবর্তী সময়ে তিনি লিখেছিলেন। গ্রাস তুলনামূলকভাবে কম চেনা এক দল, হামবুর্গের সেন্ট পাউলিকে সমর্থন করতেন। অ্যান্টি ক্যাপিটালিস্ট সমর্থকদের জন্য পরিচিত এই ক্লাবটির তহবিল সংগ্রহের জন্য তিনি একবার মাঠে দাঁড়িয়ে নিজের বইয়ের খানিকটা পড়েছিলেন।

গুন্টার গ্রাস। ছবি: সংগৃহীত

এল ফুটবল আ সোল ই সোম্ব্রা (ফুটবল ইন সান অ্যান্ড শেড), ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়। অনেকের মতে, এটি ফুটবলের ইতিহাস আর দর্শন নিয়ে লেখা সেরা বই। বইটির শুরুতে তিনি লেখেন, ফুটবল দৃষ্টির জন্য এক মহাভোজ আর ক্রীড়ারত শরীরের জন্য পরম আনন্দ। বইয়ের একটি পৃষ্ঠায় তিনি একটি বড় ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম খালি হয়ে যাওয়ার পরের মুহূর্তগুলোর কথা লিখেছেন। 'স্টেডিয়াম একা একা বিশ্রাম নেয় আর সমর্থকও তার নির্জনতায় ফিরে যায়। যে "আমি" এতক্ষণ "আমরা" হয়ে উঠেছিল, সে আবার একা হয়ে যায়। সমর্থক দলছুট হয়, ছড়িয়ে পড়ে, হারিয়ে যায় এবং রবিবার দিনটি হয়ে ওঠে ঠিক ততটাই বিষাদময়, যেমনটা উৎসব শেষের বুধবার হয়ে থাকে, ছাইপ্রতিম।' গালিয়ানো নিজেকে সুন্দর ও নিঁখুত ক্রীড়াশৈলীর খোঁজে থাকা এক সর্বহারা হিসেবে বর্ণনা করেছেন: আমি সারা বিশ্বে হাত পেতে ঘুরে বেড়াই এবং স্টেডিয়ামগুলোতে গিয়ে মিনতি করি: 'ঈশ্বরের দোহাই, চমৎকার একটা পাস বা ড্রিবলিং দেখান।' তিনি বার্সেলোনা এবং আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসির অনন্য প্রতিভার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি তত্ত্ব নিয়ে আসেন। এই তত্ত্বের নাম তিনি দিয়েছিলেন 'মেসি তত্ত্ব'। আগে প্রায়ই বলা হতো দিয়েগো ম্যারাডোনার বুটের সাথে বল বাঁধা থাকত। গালিয়ানো প্রস্তাব করেন, লিওনেল মেসি আসলে বলটি তার পায়ের মধ্যেই লুকিয়ে রাখেন। 'এই বল নিয়ে ছুটতে থাকার দৃশ্যসমারোহ বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব। কিন্তু আপনি দেখতে পাবেন সাত, এগারো বা বারোজন প্রতিপক্ষ বলটি কেড়ে নেওয়ার জন্য তাকে তাড়া করছে এবং তারা কিছুতেই বলের নাগাল পাচ্ছে না। কারণ কী? কারণ, তারা বলটি তার পায়ের বাইরে খুঁজছে, অথচ সেটি রয়েছে পায়ের ভেতরে।' নিউইয়র্ক টাইমসকে গালিয়ানো বলেছিলেন, 'মেসির মতো এত আনন্দ নিয়ে আর কেউ খেলে না। যেন এক শিশু মাঠের ঘাসের ওপর দৌড়ে খেলতে থাকা উপভোগ করছে, সে খেলে খেলার আনন্দের জন্য, জেতার বাধ্যতা থেকে নয়।'

গ্রাসেরও নিজের কিছু প্রিয় খেলোয়াড় ছিল, যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জর্জিয়ার আলসে খেলোয়াড় আলেকজান্ডার ইয়াশভিলি। ইয়াশভিলি তার ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময় জার্মান ক্লাবগুলোতে কাটিয়েছেন। ৯ বছর আগে 'ল্যুবেকার নাখরিকতেন' পত্রিকাকে গ্রাস বলেছিলেন, 'এমনকি গোল করার পরও তাকে দেখলে মনে হয়, মুখটিতে আশ্চর্য এক বিষাদমাখা সৌন্দর্য মিশে আছে।'

রাজনৈতিকভাবে গ্রাস এবং গালিয়ানো উভয়েই বামপন্থায় বিশ্বাসী ছিলেন। যদিও ২০০৬ সালে গ্রাস স্বীকার করেছিলেন, তরুণ বয়সে তাকে জোরপূর্বক 'ওয়াফেন এসএস'-এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। গ্রাস সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট চ্যান্সেলর উইলি ব্রান্টের বক্তৃতা লিখে দিতেন। অন্য এক চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোয়েডারের বন্ধু ছিলেন। গেরহার্ডের একজন ভালো খেলোয়াড় হিসেবে সুনাম ছিল। অন্যদিকে গালিয়ানো ছিলেন একজন কট্টর সমাজতান্ত্রিক। তার সবচেয়ে বড় কাজটি ছিল বিদেশি শক্তি এবং একনায়কেরা যেমন করে লাতিন আমেরিকাকে ছিন্ন করে শোষণ করছে, সেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো। সত্তরের দশকে উরুগুয়ের সামরিক শাসকেরা তাকে কারারুদ্ধ করেছিলেন।

এদয়ার্দো গালিয়ানোই। ছবি: সংগৃহীত

গালিয়ানো ফুটবলের করপোরেটায়ন আর পেছনে থাকা টাকার খেলাকে তীব্র ঘৃণা করতেন। আধুনিক খেলোয়াড়দের সম্পর্কে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন: ব্যবসায়ীরা একজন ভালো খেলোয়াড় কেনে, বিক্রি করে, ধারে দেয়। বাছাধন আরও খ্যাতি, আরও টাকার আশায় এসব কিছু মুখ বন্ধ করে মেনে নেয়। মেসি অবশ্য এর ব্যতিক্রম ছিলেন।

গ্রাসও তার সাথে একমত ছিলেন। ২০০৬ সালে একটি জার্মান সংবাদপত্রকে তিনি বলেছিলেন: 'ফুটবলের এই বাণিজ্যিকীকরণ আমার কাছে ভয়াবহ লাগে। জার্মানির প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগে এখন আর কোনো সত্যকারের প্রতিযোগিতা অবশিষ্ট নেই।' ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা যেভাবে খেলাটি পরিচালনা করে, গ্রাস তারও সমালোচনা করেছিলেন: 'এই সংস্থার কাজকারবার নিশ্চিত করেছে যে ফুটবল এখন আর সাধারণ মানুষের খেলা নয়, বরং এটি কেবলই এক বড় লাভজনক ব্যবসা।'

গালিয়ানোর তুলনায় গ্রাস ফুটবল নিয়ে অনেক কম লিখেছেন। তিনি ফুটবলকে যুদ্ধ-পরবর্তী যুগে জার্মানির আত্মপরিচয়ের লড়াইয়ের একটি প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। গ্রাসের নিজের এবং তার দেশবাসীর জন্য একটি বড় পরিবর্তনের মুহূর্ত ছিল ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল। যেখানে পশ্চিম জার্মানি প্রবল ফেবারিট হাঙ্গেরিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কাক্সিক্ষত ট্রফিটি জয় করে। নাৎসিবাদ এবং যুদ্ধের ধাক্কায় বিপর্যস্ত একটি দেশের জন্য এই জয়ের ঘটনা ছিল বিরল উদ্্যাপনের একটি উপলক্ষ। গ্রাসের তৈরি একটি চরিত্র প্রশ্ন করে—হাঙ্গেরির শেষ মুহূর্তের গোলটি যদি বাতিল না হতো, তবে জার্মান ফুটবলের কী হতো এবং আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরিবর্তে যদি আবারও পরাজিত হয়ে মাঠ ছাড়তাম…

বিশ বছর পর, গ্রাস ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে দুই জার্মান জাতীয় দলের মধ্যে প্রথম (আর একমাত্র) প্রতিযোগিতামূলক খেলাটিকে তাদের দুটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর একটি মন্তব্য হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। তিনি কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, পূর্ব জার্মানির হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করতে গিয়ে সম্প্রতি পশ্চিমে ধরা পড়া এক গুপ্তচর কোন পক্ষকে সমর্থন করে থাকতে পারে! 'আমি কার পক্ষে ছিলাম? কার জন্য উল্লাস করব?' কারাগারের সেল থেকে সেই গুপ্তচর প্রশ্ন করে, 'এমনকি উরুগুয়ের রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিও পক্ষপাতমূলক মন্তব্য করতাম—কখনো এই জার্মানিকে, কখনো ওই জার্মানিকে সমর্থন জানাতাম।'

গত শতাব্দীর দুরন্ত সাহিত্যিক হিসেবে গ্রাস এবং গালিয়ানোই যে ফুটবল দেখার জন্য তাদের কলম নামিয়ে রেখেছিলেন, তা কিন্তু নয়। মারিও বার্গাস ইয়োসা, গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস এবং আলবেয়ার কামুও এই খেলার ভক্ত ছিলেন। কেবল তিনজনের নাম উল্লেখ করা হলো। তাহলে একটি বল এবং চারটি খুঁটির দুই গোলপোস্ট কীভাবে একজন মহান ব্যক্তির চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে?

শেষ কথাটি কামুর, যিনি একাধারে একজন প্রখ্যাত অস্তিত্ববাদী এবং একজন উচ্চমানের গোলরক্ষক ছিলেন: 'নৈতিকতা এবং মানুষের দায়িত্ব সম্পর্কে আমি নিশ্চিতভাবে যা কিছু জানি, তার সবটুকুর জন্যই আমি ফুটবলের কাছে ঋণী।'

আলবেয়ার কামু। ছবি: সংগৃহীত

ফুটবলের প্রতি কামুর ভালোবাসাকে কেবল তার সারা জীবনের বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের পরিপ্রেক্ষিতেই বোঝা সম্ভব। পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি নিশ্চিত হয়েছিলেন, এক অবাস্তব ও জনগণবিচ্ছিন্ন আদর্শবাদ সমসাময়িক চিন্তাভাবনাকে একধরনের রক্তহীন অসত্যে সংক্রামিত করেছে। কামুর মতে, খুনে কমিউনিজমকে সমর্থন ঠিক তেমনই একটি ঘটনা। এমন তখনই ঘটে, যখন বুদ্ধিজীবীরা নিজেদের যুক্তিবাদী ক্ষমতার প্রেমে পড়েন আর সেই সাথে বাস্তব মানুষের চেয়ে তত্ত্বকে বেশি প্রাধান্য দেন। পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি সময়ে কামু বিশ্বাস করতে শুরু করেন, প্যারিসে তিনি যে ধরনের চিন্তাভাবনা দেখছেন, 'দুষ্টমি, নিন্দা এবং পদ্ধতিগত মিথ্যার এক মহানগর' ছিল তার কাছে এই শহর আর তার অধিবাসীরা বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন। দুঃখ ও আনন্দের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে সম্পূর্ণ ছিন্ন। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি যখন প্রচারণার আলো থেকে বাঁচতে আলজেরিয়ায় ফিরে আসেন, তখন একজন ট্যাক্সিচালক তাকে কোনো বিখ্যাত লেখক হিসেবে নয়, বরং আরইউএ দলের সাবেক গোলরক্ষক হিসেবে চিনতে পারায় অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন।

ফুটবল টিমে আলবেয়ার কামু। ছবি: সংগৃহীত

কামুর ১৯৫৬ সালের উপন্যাস 'দ্য ফল'-এ তার সবচেয়ে আত্মজীবনীমূলক চরিত্র জঁ-ব্যাপটিস্ট ক্ল্যামেন্সকে পাওয়া যায়। ক্ল্যামেন্স পাঠককে বলে, 'আমি যখন খেলাধুলা করতাম, সেই সময় বাদে  অন্য কোনো সময়ে কখনোই সত্যিকারের আন্তরিক ও উদ্যমী হতে পারিনি।' সে আরও বলে, 'আজ পর্যন্ত থিয়েটারে অভিনয় করা আর এক জনাকীর্ণ স্টেডিয়ামে রবিবারের ফুটবল ম্যাচ—কেবল এই জায়গাগুলোতেই আমি নিজেকে নিষ্পাপ বলে ভাবি।' এই একই সময়ে আরইউএর প্রাক্তন ছাত্রদের ম্যাগাজিন কামুকে তার খেলার দিনগুলো নিয়ে কিছু লিখতে বলেছিল। জবাবে তিনি লিখেছিলেন, 'বহু বছর ধরে পৃথিবী আমাকে অনেক অভিজ্ঞতা দেওয়ার পর, শেষ পর্যন্ত নৈতিকতা ও মানুষের দায়িত্ব সম্পর্কে আমি যা সবচেয়ে নিশ্চিতভাবে জানি... তা আমি আরইউএর সাথে থেকেই শিখেছি।' এই মহৎ মন্তব্যের ভেতরে লুকিয়ে ছিল প্যারিসে কাটানো কামুর আগের দশকের সমস্ত স্বপ্ন আর মোহভঙ্গ। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দুটি কাজ করছিলেন। প্রথমত, সার্ত্রীয় পাণ্ডিত্যপূর্ণ বয়ানের অমানবিক 'অবাস্তবতা বা বিমূর্ততা'কে প্রত্যাখ্যান করছিলেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, লেফট ব্যাংকের ধোঁয়াটে ক্যাফেগুলোর চেয়ে একটি ফুটবল খেলার মানসিক উত্তেজনা অনেক বেশি সৎ নৈতিক ক্ষেত্র। তার ভেতরে জড়িয়ে ছিল সামগ্রিকভাবে যুক্তিবাদের প্রতি একটি বৃহত্তর সমালোচনা। এই সমালোচনা জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে গভীর চিন্তাভাবনাকে একমাত্র পথ মনে করার ধারণার বিরুদ্ধে কামুর আজীবন সন্দেহেরই এক প্রকাশ। বুদ্ধিজীবীদের ফুটবলকে (বা যেকোনো খেলাকে) নিচু, শিশুসুলভ এবং কেবলই শারীরিক ভাবার প্রবণতার বিপরীতে, কামু এই খেলাকে সম্মান জানিয়েছিলেন জীবন সম্পর্কে দূর থেকে নয়, বরং তাৎক্ষণিকভাবে জ্ঞান লাভ করার এক কার্যকর উপায় হিসেবে।

গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস। ছবি: সংগৃহীত

'এবং এই জন্য আমি স্টেডিয়ামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম'—গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস তার এই গল্প এভাবে শুরু করেছিলেন। এই শুরুর ফলে বাক্যবিন্যাসে সময়ের গতিময়তার একটি চমৎকার অনুভূতি ছিল। ১৯৮৩ সালে তার 'দ্য ওথ' গল্পটি প্রণীত হয়। পুরোপুরি কাল্পনিকও নয়, আবার একদম বাস্তব ঘটনাও নয়। বারানকিয়ার দল 'আতলেতিকো জুনিয়র' বোগোতার 'মিলিওনারিওস' দলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বহুল প্রতীক্ষিত একটি ম্যাচ। গল্পের বিষয় বলতে এইমাত্র কিন্তু কেউ যদি গল্পটা পড়েন, তাহলে বিশ্ববিখ্যাত এই লেখকের ফুটবলের প্রতি প্রেম উপলব্ধি করতে পারবেন। 

বড় লেখকদের চিন্তায় যে দার্শনিকতা থাকে, তা অনেক সময় ফুটবলকেও স্পর্শ করে গেছে। ফুটবলের মধ্যে যে দ্বৈরথ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্পোর্টসম্যানশিপ থাকে, তা লেখকদের এ বিষয়ে বিবৃতি দিতে, লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছে। সেসব লেখার কয়েকটি টুকরো এই ছোট রচনায় পরিবেশিত হলো। আসুন গভীর আনন্দ নিয়ে আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল উপভোগ করি। খেলার আনন্দই আমাদের স্পর্শ করুক, বৈরিতা নয়।

 

Related Topics

টপ নিউজ

আলবেয়ার কামু / গুন্টার গ্রাস / এদয়ার্দো গালিয়ানোই / গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ / সাহিত্যিক / ফুটবল / ফুটবল বিশ্বকাপ / ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকার। ছবি: রয়টার্স
    হরমুজে টোল আদায়, শেষ মুহূর্তের আলোচনায় যে ছাড় আদায় করল ইরান
  • ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স
    ইরান ফ্রন্টে ট্রাম্পের কাছে অপমানিত হয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জ্বালিয়ে দিতে পারেন নেতানিয়াহু
  • ছবি: সংগৃহীত
    ট্যাক্স ফাইলে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদের মূল্য উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক হচ্ছে
  • শাহে আলম। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
    বগুড়ায় ছেলে-পরিবারের নামে ৩ ইউনিয়নের নামকরণ, প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বললেন, ‘মিরাক্যালি মিলে গেছে’ 
  • প্রতীকী ছবি: টিবিএস
    মেট্রোরেল না মনোরেল? চট্টগ্রামের জন্য কোনোটিই বাস্তবসম্মত নয়, বলছেন বিশেষজ্ঞরা
  • ছবি: টিবিএস
    ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংককে অভিনন্দন গ্রাহক ফোরামের, সৎ ও পেশাদারদের সমন্বয়ে বোর্ড গঠনের দাবি

Related News

  • ইরানের ম্যাচে মিনাবে নিহত ১৬৮ শিশুকে স্মরণ করলেন সমর্থকরা
  • দুইবার পিছিয়ে গিয়েও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ গোলে ইরানের ড্র
  • ‘প্রেমিকের দায়িত্ব পালন করতে’ কানাডার ম্যাচ বাদ দিয়ে কেটি পেরি-র পারফরম্যান্স দেখতে গেলেন ট্রুডো
  • যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ফুটবলকে কেন ‘সকার’ বলা হয়?
  • ফেসবুকে বিশ্বকাপ: মৌসুমি ফ্যান বনাম আসল ফ্যান

Most Read

1
হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকার। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

হরমুজে টোল আদায়, শেষ মুহূর্তের আলোচনায় যে ছাড় আদায় করল ইরান

2
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

ইরান ফ্রন্টে ট্রাম্পের কাছে অপমানিত হয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জ্বালিয়ে দিতে পারেন নেতানিয়াহু

3
ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি

ট্যাক্স ফাইলে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদের মূল্য উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক হচ্ছে

4
শাহে আলম। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
বাংলাদেশ

বগুড়ায় ছেলে-পরিবারের নামে ৩ ইউনিয়নের নামকরণ, প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বললেন, ‘মিরাক্যালি মিলে গেছে’ 

5
প্রতীকী ছবি: টিবিএস
বাংলাদেশ

মেট্রোরেল না মনোরেল? চট্টগ্রামের জন্য কোনোটিই বাস্তবসম্মত নয়, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

6
ছবি: টিবিএস
অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংককে অভিনন্দন গ্রাহক ফোরামের, সৎ ও পেশাদারদের সমন্বয়ে বোর্ড গঠনের দাবি

The Business Standard
Top

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net

Copyright © 2022 THE BUSINESS STANDARD All rights reserved. Technical Partner: RSI Lab