‘প্রেমিকের দায়িত্ব পালন করতে’ কানাডার ম্যাচ বাদ দিয়ে কেটি পেরি-র পারফরম্যান্স দেখতে গেলেন ট্রুডো
কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো নিজের দেশের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে উপস্থিত না থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ম্যাচে যাওয়ার কারণে যে সমালোচনার মুখে পড়েছেন, তার জবাব দিয়েছেন।
তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, 'কখনও কখনও সহায়ক প্রেমিকের দায়িত্ব পালন করতে হয়। তবে আপনারা জানেন, কাপ জয়ের জন্য আমি কাকে সমর্থন করছি।' পোস্টের সঙ্গে তিনি কানাডার পতাকার ইমোজিও যুক্ত করেন।
টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী ম্যাচ দুটি কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ক্যামেরায় ধরা পড়ে, কেটি পেরি মঞ্চ থেকে দৌড়ে নেমে এসে সাবেক কানাডীয় নেতাকে একটি চুম্বনের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান।
খেলা চলাকালীন পুরো সময় জুড়ে এই জুটিকে টেলিভিশনের বিভিন্ন ক্লিপ বা ভিডিওতে গ্যালারিতে বসে বিয়ারের চুমুক দিতে এবং প্রেমের আমেজে মেতে থাকতে বা আলিঙ্গনাবদ্ধ অবস্থায় দেখা গেছে। কিন্তু অনলাইনে অনেক কানাডীয় এ ঘটনায় সন্তুষ্ট ছিলেন না।
টরন্টোর একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী একে 'এই দেশের মুখে চপেটাঘাত' বলে অভিহিত করেন। তিনি লেখেন, 'অরুচিকর বললেও এর গুরুত্ব পুরোপুরি বোঝানো যায় না।'
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে অন্যরাও ট্রুডোকে 'দেশদ্রোহী' এবং 'প্রতারক' বলে আখ্যা দেন।
শুক্রবার পূর্বাঞ্চলীয় দিবালোক সময় বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া টরন্টোর ম্যাচে কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ১-১ গোলে ড্র করে। কিন্তু সেই ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন না সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
পরিবর্তে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে যুক্তরাষ্ট্রের প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারানোর ম্যাচটি উপভোগ করেন, যা রাত ৯টায় শুরু হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেটি পেরি তার ২০২৪ সালের অ্যালবাম 'একশ তেতাল্লিশ' থেকে তুলনামূলক কম পরিচিত গান 'ওয়ান্ডার' পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানের আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, 'ক্যালিফোর্নিয়া গার্লস' এবং 'টিনেজ ড্রিম' থেকে শুরু করে 'ফায়ারওয়ার্ক' এবং 'ইটি'সহ তার জনপ্রিয় গানগুলোর কোনোটি তিনি গাইবেন না।
তিনি 'পিপল' সাময়িকীকে বলেন, 'আমি তুলনামূলক কম পরিচিত এই ব্যালাডটি বেছে নিয়েছি, কারণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য আমি যে গানটি গাওয়ার সুযোগ পেয়েছি, তার সঙ্গে এটি খুবই মানানসই।'
২০২৫ সালের জুলাই থেকে ট্রুডো ও পেরির সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আলোচনায় আসে।
ডিসেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
টেলিভিশন উপস্থাপক সোফি গ্রেগোয়ারের সঙ্গে ট্রুডোর ১৮ বছরের বৈবাহিক জীবন ছিল। তবে ২০২৩ সালে তারা বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন।
তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে।
অন্যদিকে, কেটি পেরি ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ইংরেজ কৌতুক অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ডের সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন।
