পঞ্চগড় সীমান্তে পুশ ইন চেষ্টা: ৩৬ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখায় নারী ও শিশুসহ ১০ জন
পঞ্চগড় সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) 'পুশ-ইন' চেষ্টায় নারী ও শিশুসহ ১০ জন ব্যক্তি ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শূন্যরেখায় আটকা পড়ে আছেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফ-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠক এই সংকটের সমাধান করতে ব্যর্থ হওয়ায় আজ শনিবার (৬ জুন) পর্যন্ত এই অচলাবস্থা কাটেনি।
স্থানীয় সূত্র এবং বিজিবি জানায়, গত শুক্রবার ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাঁড়িভাসা ইউনিয়নের বারাবারি প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিএসএফ এই দলটিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে বিজিবি সদস্যরা তাদের প্রবেশে বাধা দেন এবং যেকোনো ধরনের 'পুশ-ইন' ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়ে তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে বিএসএফও ওই দলটিকে ফিরিয়ে না নেওয়ায় তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকা পড়েন।
এই পরিস্থিতি নিরসনে আজ শনিবার দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকে কোনো পক্ষই সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে শুক্রবার সকাল থেকেই দলটি সীমান্তের ভারতীয় অংশের শূন্যরেখার কাছে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছে। দিনে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ সহ্য করার পর গত রাতটি তারা খোলা আকাশের নিচে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে কাটিয়েছেন।
ভুক্তভোগী এই দলটিতে নারী ও শিশু থাকায় তাদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "সারারাত ধরে চলা ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে ঘরের ভেতরে থাকাই যেখানে কঠিন ছিল, সেখানে এই নারী ও শিশুরা কোনো আশ্রয় ছাড়াই বাইরে পড়ে ছিল।" তিনি দ্রুত এই অমানবিক পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, গত শুক্রবার এই পুশ-ইন চেষ্টা শুরু হওয়া মাত্রই টহলরত বিজিবি সদস্যরা তা রুখে দেন। পরবর্তীতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম এ বিষয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিজিবি কোনো ধরনের 'পুশ-ইন' গ্রহণ করবে না। তিনি বলেন, "সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।" বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
