বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় ৭ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম মূল্যায়ন ও ১২০ দিনের পরিকল্পনা উপস্থাপন
জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে সরকারি দল বিএনপির সংসদীয় দলের এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সাতটি মন্ত্রণালয়ের কাজের মূল্যায়ন করা হয় এবং মন্ত্রণালয়গুলোর পক্ষ থেকে আগামী ১২০ দিনের বিশেষ কার্যক্রম উপস্থাপন করা হয়।
আজ শনিবার (৬ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সংসদীয় সভা শুরু হয় বেলা ৩টায়; শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে। সংসদীয় এ সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভা পরিচালনা করেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। সভায় সমাপনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।
রোববার (৭ জুন) থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনে কৌশল নির্ধারণ এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় আগামী ১১ জুন নতুন অর্থবছরের বাজেট এবং ১৫ জুন সম্পূরক বাজেট সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সভা শেষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষায় বিদ্যমান কারিকুলামের ভুলত্রুটি সংশোধন করে তা আপডেট করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন—যে শিক্ষা কর্মমুখী নয় এবং মানুষকে কাজ শেখাতে পারে না, তা আসলে কোনো কাজে আসে না। তাই কারিকুলামে কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ফি দুই থেকে তিন হাজার টাকা কমানো হয়েছে। অতিরিক্ত ফি আদায়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'একজন শিক্ষক একটি ট্যাব, সেই হিসাব করে এবং হ্যাপি লার্নিংয়ের অ্যারেঞ্জমেন্ট এবং মিড-ডে মিল চালু করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কার্যক্রম ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তার মধ্যে হাসপাতালগুলো আপডেটেড করা, হাসপাতালে ইকুইপমেন্টস দেওয়া এবং হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহ করা।'
চিফ হুইপ বলেন, 'চীনের সাথে ১ হাজার বেডের পাঁচটা হাসপাতালের চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে নীলফামারীতে একটা হবে। কমপক্ষে একটি হাসপাতাল হবে শুধুমাত্র মেয়ে ও শিশুদের জন্য। যদি দুটি হয় তাতে কোনো অসুবিধা নেই। সেভাবে কার্যক্রম চলছে স্বাস্থ্য খাতে।'
নূরুল ইসলাম বলেন, 'বিগত সরকার যখন ক্ষমতা ছাড়ে, তারা ডলারের দাম ৮৬ টাকা থেকে ১১৯-১২০ টাকা করে গিয়েছিল। এই ৩৫-৪০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির কারণেই জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। আমরা মানুষের কষ্ট লাঘব করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।' ৩০ লাখ কোটি টাকা ঘাটতি নিয়ে যাত্রা শুরু করার পরও বর্তমান সরকার কল্যাণমুখী, জনদরদী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে বলে জানান চিফ হুইপ।
সংবিধান সংশোধন বিষয়ে এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, 'সংস্কার যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। এখন যা হবে তা সংশোধন। আর সেই সংশোধন করবে বিএনপি।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'কল্যাণমুখী, জনদরদী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।'
