ইসরায়েলি মন্ত্রী বেন-গভির ও স্মোট্রিচের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিল আয়ারল্যান্ড
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আয়ারল্যান্ড। ফিলিস্তিনপন্থী অধিকারকর্মীদের প্রতি তাদের অসদাচরণ এবং ফিলিস্তিনিদের নিজেদের মাতৃভূমি থেকে উচ্ছেদের নীতিকে সমর্থন করার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, উগ্র ডানপন্থী এই দুই মন্ত্রী এমন সব নীতি সমর্থন করেছেন, যা মূলত 'ফিলিস্তিন থেকে ফিলিস্তিনিদের সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করার আকাঙ্ক্ষারই' সমতুল্য।
বেন-গভির এবং স্মোট্রিচ—দুজনই বারবার ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল এবং গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ইসরায়েলি সরকারকে উসকানি দিয়েছেন। তাদের এসব কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও বিদেশি সরকার।
গত মাসে গাজাগামী একটি ত্রাণবাহী ফ্লোটিলায় অংশ নেওয়া ফিলিস্তিনপন্থী অধিকারকর্মীদের সঙ্গে ইসরায়েলের আচরণের কথাও তুলে ধরেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।
চোখে পট্টি এবং হাত বাঁধা অবস্থায় মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে থাকা আটক অধিকারকর্মীদের নিয়ে উপহাস করার একটি ভিডিও শেয়ার করে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছিলেন বেন-গভির।
আয়ারল্যান্ডের বিচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিচারমন্ত্রী জিম ও'কালাঘান ইতিমধ্যে অভিবাসন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে বেন-গভির এবং স্মোট্রিচ যদি আয়ারল্যান্ডে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তবে যেন তাদের প্রবেশাধিকার প্রত্যাখ্যান করা হয়।
২০২২ সালের সাধারণ নির্বাচনে স্মোট্রিচের উগ্র ডানপন্থী 'রিলিজিয়াস জায়োনিস্ট' পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে তৃতীয় হওয়ার পর মন্ত্রী হন বেন-গভির।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের একটি অবৈধ বসতিতে বসবাস করা স্মোট্রিচ অধিকৃত পশ্চিম তীর ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার একজন কট্টর সমর্থক। তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের 'ধারণাটিকেই হত্যা করার' কথা ব্যক্ত করেছিলেন।
এই দুজন—বেন-গভির ও স্মোট্রিচ—বর্তমানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট সরকারের মূল খুঁটি হিসেবে কাজ করছেন।
'ইইউর নিষেধাজ্ঞারও দাবিদার তারা'
মন্টেনেগ্রোতে এক সম্মেলনে আয়ারল্যান্ডের এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কথা তুলে ধরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্টিন বলেন, এই দুই ইসরায়েলি মন্ত্রীর ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।
আইরিশ সম্প্রচারমাধ্যম আরটিই-এর খবরে মার্টিনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, 'আমার মতে, তাদের আচরণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার দাবিদার। আমরা এই বিষয়টি সেখানে তুলব, যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নে আমরা পর্যাপ্ত সমর্থন পাব কি না, সেটা ভিন্ন বিষয়।'
গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক হামলার পর থেকে আয়ারল্যান্ড ইসরায়েলের সবচেয়ে কট্টর সমালোচকদের একটিতে পরিণত হয়েছে।
২০২৪ সালে আয়ারল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ডাবলিনে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করার নির্দেশ দেয় ইসরায়েল।
এর আগে বিতর্কিত আচরণের কারণে ব্রিটেন, স্পেন ও স্লোভেনিয়াসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশও বেন-গভির এবং স্মোট্রিচের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। গত মাসে ফ্রান্সও বেন-গভিরের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
