Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

যেভাবে একটি সিনেমা হল থেকে এল গুলিস্তানের নাম

আটশ থেকে এক হাজার দর্শকের বসার ব্যবস্থা ছিলো গুলিস্তানে। ফ্রন্ট স্টল, রিয়ার স্টল, ডিসিতে ভাগ করা ছিল আসনগুলো। ফ্রন্ট স্টলে দেড় টাকা, রিয়ারে আড়াই টাকা, ডিসিতে সাড়ে তিন  টাকায় টিকিট বিক্রি হতো। নারীদের জন্য ছিল আলাদা বসার ব্যবস্থা। পর্দা দিয়ে তাদের জায়গা ভাগ করে দেওয়া হতো যেন অন্যরা দেখতে না পায়।  
যেভাবে একটি সিনেমা হল থেকে এল গুলিস্তানের নাম

ফিচার

সালেহ শফিক , রাফিয়া মাহমুদ & আসমা সুলতানা প্রভা
28 May, 2026, 02:50 pm
Last modified: 28 May, 2026, 02:51 pm

Related News

  • স্থানীয় সিনেমার জনপ্রিয়তায় দ্বিতীয় বছর ১০০ মিলিয়ন রিয়াল আয় করল করল সৌদি চলচ্চিত্র
  • ‘গ্যাংস অভ ওয়াসেপুর ২’-এর পর ২০০ চিত্রনাট্য, ব্ল্যাঙ্ক চেক পেয়েছিলেন নওয়াজুদ্দিন, কিন্তু ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সব 
  • ভারতের সবচেয়ে সফল স্টার কিড, ২৭ বছরেই দিয়েছেন ‘২,০০০ কোটির’ সিনেমা, প্রশংসা কুড়িয়েছেন কান-এ
  • শতবর্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি মহাকালের মহানায়ক
  • সংলাপ সংকটে বলিউড, ধারাবাহিক পারফর্ম করে যাচ্ছেন একমাত্র শাহরুখ খান

যেভাবে একটি সিনেমা হল থেকে এল গুলিস্তানের নাম

আটশ থেকে এক হাজার দর্শকের বসার ব্যবস্থা ছিলো গুলিস্তানে। ফ্রন্ট স্টল, রিয়ার স্টল, ডিসিতে ভাগ করা ছিল আসনগুলো। ফ্রন্ট স্টলে দেড় টাকা, রিয়ারে আড়াই টাকা, ডিসিতে সাড়ে তিন  টাকায় টিকিট বিক্রি হতো। নারীদের জন্য ছিল আলাদা বসার ব্যবস্থা। পর্দা দিয়ে তাদের জায়গা ভাগ করে দেওয়া হতো যেন অন্যরা দেখতে না পায়।  
সালেহ শফিক , রাফিয়া মাহমুদ & আসমা সুলতানা প্রভা
28 May, 2026, 02:50 pm
Last modified: 28 May, 2026, 02:51 pm
গুলিস্তান সিনেমা হল (১৯৫৪), ঢাকা। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

গুলিস্তান নামের কোনো জায়গা ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের কাগজপত্রে খুঁজে পাওয়া যায় না। আছে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, তার আগে ছিল জিন্নাহ এভিনিউ।

গুলিস্তান তবে কোথায়! মূলত একটি সিনেমা হল থেকে এর শুরু। ফুলবাড়িয়া রেল স্টেশনের উত্তরে ছিল সিনেমা হলটি, নাম গুলিস্তান, যাকে ঘিরে জমে উঠেছিল একটি টাউন।

হলের নামে নাম

বর্ষীয়ান গবেষক, সাংবাদিক আফসান চৌধুরী তার স্মৃতিচারণায় বলছেন, 'সিনেমা হলের নাম থেকেই এলাকাটির নাম হয় গুলিস্তান। এটা ছিল নয়া ঢাকার কেন্দ্র। ফলে, সদরঘাট থেকে অফিসগুলো সব এদিকে চলে আসতে লাগলো। সিনেমা হলের পাশেই ছিল ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। উল্টোদিকে জিএমজি নামে একটি অবাঙ্গালী দোকান ছিল। যেখানে কাপড়চোপড় বানানো হতো, আবার কিনতেও পাওয়া যেত। ছিল বেবি আইসক্রিমের দোকান। ছিল রেক্স নামের বেকারি।' 

তবে চলচ্চিত্র গবেষক শামসুল আলম বাবু জানিয়েছেন, ফজলে দোসানি ছিলেন পাকিস্তানের খানদানী চলচ্চিত্র ব্যবসায়ী। দেশভাগের আগে কলকাতাসহ অনেক শহরে সিনেমা পরিবেশনা ও প্রদর্শনের ব্যবসা করতেন। দেশভাগের পরে তিনি ঢাকায় নতুন সম্ভাবনা দেখতে পান। প্রতিষ্ঠা করেন গুলিস্তান সিনেমা হল। 

১৯৫৩ সালে হলটি উদ্বোধন করেছিলেন প্রিন্স আগা খান। এটিই হয়ে ওঠে ঢাকার প্রথম আধুনিক ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সিনেমা হল। পঞ্চাশের দশকে এটি ছিল এক অবিশ্বাস্য আধুনিকতা। 

এসির ঠান্ডা বাতাস

ততদিনে অবশ্য ঢাকায় সিনেমা হল কম নয়। যেমন—রূপমহল, তাজমহল, প্যারাডাইস, পিকচার হাউজ, আজাদ, স্টার, লায়ন ইত্যাদি। তবে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র গবেষক অনুপম হায়াতের মতে, গুলিস্তানের মতো ছিল না কোনোটিই। এটি ছিল তখনকার সবচেয়ে অভিজাত হল। 

যারা আসতেন তাদের বেশিরভাগ ছিল মোটামুটি উঁচুতলার মানুষ। হলের ভেতরে ঢোকার আগেই এক ধরনের অভিজাত আবহ টের পাওয়া যেত। দামি দামি পারফিউমের গন্ধ নাকে ভেসে আসত। হলের ভেতরের পরিবেশ ছিল আরও নান্দনিক। মখমলের পর্দা ছিলো চারপাশে।  

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সহ-সভাপতি মিয়া আলাউদ্দিনেরও অভিজ্ঞতা কাছাকাছি। তিনি জানান, "সিনেমা হলে ঢুকলেই এসির ঠান্ডা বাতাসে মনে হতো যেন 'বেহেশতে' ঢুকছি। তবে এটি বেশিরভাগের নাগালের মধ্যে ছিল না। তখন দেড়-দুই টাকার টিকিট কেটে সিনেমা দেখা ছিল উঁচু তলার ব্যাপার। কারণ ওই টাকাতে কয়েক কেজি চাউল কেনা যেত।" 

"গুলিস্তান এত সুন্দর ছিল যে, মানুষ যেমন তাজমহল দেখতে ভারতে যায়, আমাদের দেশে ঠিক তেমনি শখ করে মানুষ গুলিস্তান দেখতে আসতো," যোগ করেন তিনি। 

গুলিস্তান সিনেমা হল। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

হলের আশপাশে 

শামসুল আলম বাবু জানান, গুলিস্তান শব্দটারও সুন্দর একটি মানে আছে। এর অর্থ ফুলের বাগান। তখন ওই এলাকায় সত্যিই একটি ফুলের বাগান ছিল। সন্ধ্যার পর সেখানে আড্ডা দিতেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা। কেউ কবিতা বলতেন, কেউ রাজনীতি নিয়ে তর্ক করতেন, কেউবা সিনেমার কথা বলতেন। রাত গভীরে রেলস্টেশন থেকে ট্রেনের হুইসেল ভেসে এলে বাড়ি যাওয়ার কথা মনে পড়ত আড্ডাবাজদের। হলের পূব পাশে ছিল একটি মোগলাই কামান। এটি মীর জুমলার হলেও লোকে গুলিস্তানের কামান বলতেই ভালোবাসতেন। 

মিয়া আলাউদ্দিনের মনে পড়ে, হলের বাম পাশে ছিল একটি ইলেকট্রনিক পার্টসের দোকান। ছিল ঐতিহ্যবাহী লন্ড্রির দোকান গিল্ডার্স এবং দুই-তিনটি কনফেকশনারির দোকান। আর হলের উত্তর পাশে ছিল 'পূর্বাশা বার এন্ড রেস্টুরেন্ট'। 

ঢাকার পুরোনো বাসিন্দা টুটু সা'দের বেড়ে ওঠা গুলিস্তানের কাছেই। তার মনে আছে, পল্টন ময়দানের দিকে মুখ করে ছিল হলটি। আর গুলিস্তান মোড় থেকে বায়তুল মোকাররম পর্যন্ত ওষুধের, কাপড়ের বা জুতার অনেক দোকান ছিল। হলের কাছে সিঙ্গার কোম্পানির একটি শো রুম ছিল। গুলফিতান বলে একটি বড় রেস্টুরেন্ট ছিল যেখানে প্রায় একশোজন খেতে পারতেন। সিনেমা দেখা শেষ করে গুলফিতানে খেয়ে বাড়ি ফেরা – একটি উৎসবমুখর ব্যাপার ছিল।  

হলের ভেতরে বাইরে 

হলে ঢোকার মুখে একটি লোহার ফ্রেম ছিল। ওখানে পোস্টার লাগানো থাকত। পোস্টারগুলো হাতে আঁকা হতো। 

টুটু সা'দ জানান, কলকাতা থেকে আসা এক মুসলিম পরিবার ছিল। তারা বাঁশের মই বানিয়ে রঙের ডিব্বা ঝুলিয়ে বড় বড় ক্যানভাসে হাতে ছবি আঁকতেন। প্রথমে কয়লা দিয়ে আউটলাইন করে তারপরে রং চড়াতেন। কোনো কোনো ক্যানভাস ৪০ ফুট উঁচুও হতো। 

এছাড়া, ঢাকার প্রথম চাইনিজ রেস্তোরাঁ 'চু চিং চৌ' ছিল হলের দোতলায়। পরিচালক এহতেশামের সুইট হ্যাভেন বেকারিও ছিল। টুট সা'দের আরো যা মনে আছে তা হলো, সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় পপকর্ন, হাওয়াই মিঠাইয়ের দোকান পড়ত। সেই পপকর্ন আবার ছিল দু ধরনের- সলটেড বা নোনতা পপকর্ন আর মধু মাখানো পপকর্ন। ওপরে একটি জায়গা ছিল যেখানে বসে চা কফি অর্ডার দেয়া যেত। 

খানসামার মতো কিছু লোক দাঁড়ানো থাকত সবসময়, যাদের কোটে গোল্ডেন বোতাম লাগানো থাকত আর মাথায় ছিল সাদা পাগড়ি। যারা সিট চিনিয়ে দিতেন তাদের পোশাক খানসামার মতো না হলেও নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম তারাও পরতেন। গেঞ্জি বা শার্ট যা-ই পরতেন বুকের ওপর লেখা থাকত 'গুলিস্তান'।

তিনি আরো জানান, "বাড়ির সাথে যেমন বারান্দা থাকে তেমন একটি বারান্দার মতো ছিল হলের দোতালায়। কেচি গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকলে চত্বরের মধ্যে প্রায় ছয়-সাতটা টিকেটের কাউন্টার দেখা যেত।"

গুলিস্তান, ১৯৬৩। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

হলরুমের ছাদ ছিল তিনতলা সমান উঁচু। বিরাট টিনের ছাদকে ফলস সিলিং করে সাউন্ডপ্রুফ করা হয়েছিল। ছাদে বিরাট ঝালরবাতি ছিল। হাতের ডানদিকে গিয়ে ঘুরিয়ে দোতালায় ডিসিতে যাওয়া যেত। 

আটশ থেকে এক হাজার দর্শকের বসার ব্যবস্থা ছিলো গুলিস্তানে। ফ্রন্ট স্টল, রিয়ার স্টল, ডিসিতে ভাগ করা ছিল আসনগুলো। ফ্রন্ট স্টলে দেড় টাকা, রিয়ারে আড়াই টাকা, ডিসিতে সাড়ে তিন  টাকায় টিকিট বিক্রি হতো। নারীদের জন্য ছিল আলাদা বসার ব্যবস্থা। পর্দা দিয়ে তাদের জায়গা ভাগ করে দেওয়া হতো যেন অন্যরা দেখতে না পায়।  

পোস্টার কর্নার ছিল হলের আরেকটি আকর্ষণীয় জায়গা। অনুপম হায়াত জানান, একটি নির্দিষ্ট জায়গায় 'আগামীর আকর্ষণ' শীর্ষক পোস্টার টাঙানো থাকত। সেখানে নায়ক-নায়িকা বা নাটকীয় দৃশ্যের ছবি থাকত। পোস্টারগুলোর ওপর ছিল দৃষ্টিনন্দন লাইট। রাতের বেলায় পুরো ভবনটি অনেকটা দিল্লীর লালকেল্লার মতো আলোয় সজ্জিত করা হতো। লাইট শো দেখতেও বাইরে অনেক লোক জড়ো হতো। 

গুলিস্তান ভবনের পিছনের এক্সটেনশন ভবনের পিছনে ছিল সব ফিল্ম প্রোডাকশন হাউজের অফিস। হলটি হওয়ার পর ভিক্টোরিয়া পার্ক, নবাবপুর, বেচারাম দেউড়ি থেকে অফিস উঠিয়ে হাউজগুলো এখানে চলে আসে। 

দোসানীর ডিস্ট্রিবিউশন অফিস—আনিস ফিল্ম কর্পোরেশনও ছিল এখানে। ছিল খান আতার সেভেন আর্থ কর্পোরেশন, বলকান পিকচার্স, আশা, রিনা ফিল্মস, পিপলস পিকচার, জ্যাম্বস, চিত্রদূত, জুপিটার ইত্যাদি। এছাড়া ওয়েস্ট টেক নামে একটি ওয়ার্কশপ ছিল যেখানে ফিল্মের প্রজেক্টর ও আনুষাঙ্গিত যন্ত্রপাতি সারানো হতো। 

মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, "তখন দেশী সিনেমা বেশি না থাকায় বিদেশি সিনেমা আমদানী করতে হতো। এফডিসি সিনেমাগুলো আমদানী করত, বিক্রি হতো নিলামে। ডিস্ট্রিবিউটররা নিলাম থেকে কিনে সিনেমাগুলো বিভিন্ন হলে চালাতেন।" 

"পরে অবশ্য নিয়ম বদলায়; সিনেমা আমদানী করতে সরকারের অনুমতি লাগত, তারপর সেন্সর বোর্ডের মাধ্যমে সেন্সর করিয়ে প্রদর্শন করা হতো। দেশীয় সিনেমা 'জীবন থেকে নেয়া' এবং 'বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না' মুক্তি পেয়েছিল গুলিস্তানে প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে," যোগ করেন তিনি।

টাইম অফ রক অ্যান্ড রোল 

টুটু সা'দ রক অ্যান্ড রোলের ভক্ত ছিলেন। তার স্মৃতিতে আছে, জেলহাউজ রক (এলভিস প্রিসলি অভিনীত, ১৯৫৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত) নামের ছবিটি গুলিস্তানে দেখতে দেখতে সিটের ওপর দাঁড়িয়ে রক অ্যান্ড রোল করেছিলেন। গুলিস্তানের প্রথম সিনেমাস্কোপ মুভি ছিল ১৯৫৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'দ্য রোব'। 

তিনি জানান, এটি দেখাতে গিয়ে নাকি স্ক্রিনটাকে বদলাতে হয়েছিল। তবে যুদ্ধের ছবিই আসত বেশি। গানস অব নাভারন, ব্রিজ অন দ্য রিভার কাওয়াই ইত্যাদি ছবিগুলোও টুটু সা'দ গুলিস্তানেই দেখেছেন। কোনো কোনো ছবি ছয় মাসও চলেছে। সব শো-ই হাউজফুল যেত। 

আশির দশকের গুলিস্তান। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

আবার হলে যখন যে সিনেমা  আসত, স্টেডিয়ামের বইয়ের দোকান আইডিয়াজে (পরে নাম হয় ম্যারিয়েটা) সে বইটিও চলে আসত। তরুণরা সিনেমা দেখে বইগুলোও কিনে বাড়ি নিয়ে যেতেন।

প্রথম থ্রিডি সিনেমা 'হাউজ অব ওয়াক্সও' (১৯৫৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত, হরর ছবি) টুটু সা'দ দেখেছেন গুলিস্তানে। সে আমলে থ্রিডি মানে এক চোখে লাল, অন্য চোখে নীল চশমা। 

"মনে হতো বলটা স্ক্রিন থেকে এসে মুখে পড়ল বা ঘুষিটা ঠিক চোয়ালের ওপর। লোকজন ভয়ে চিৎকার জুড়ে দিতেন," বলেন তিনি। 

গুলিস্তানে আফসান চৌধুরী যে কয়টি ইংরেজী ছবি দেখেছিলেন তার মধ্যে রোমান হলিডের কথাই বেশি মনে আছে তার। কয়েক মাস চলেছিল ছবিটি। অড্রে হেপবার্নকে নিয়ে সে কী মাতামাতি! 

ছবি শুরুর আগে  

আরেকটি বিষয় আফসান চৌধুরীর মনে আছে, সিনেমা শুরুর আগে পাকিস্তান সরকারের প্রচারণামূলক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হতো পাঁচ-দশ মিনিট ধরে। এছাড়া, গুলিস্তান সিনেমা হলের বিজ্ঞাপনও 'আগামীর আকর্ষণ' শিরোনামে দেখানো হতো। সেটাও সিনেমা শুরুর আগে। আবার, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়েও প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হতো। আর বিরতির সময় দেখানো হত, সিনেমা হলের আশপাশের দোকান ও শোরুমগুলোর বিজ্ঞাপন। 

বাজত পাকিস্তানী জাতীয় সংগীত 'পাক সার জমিন সাদ বাদ'। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সিনেমা শুরু হয়ে চলতো রাত ১২টা অব্দি। শুক্র ও রবি- এই দুদিনে শো হত পাঁচটি। মর্নিং, স্পেশাল, ম্যাটিনি, ইভনিং, এবং নাইট। আবার অন্য দিনগুলোতে থাকত স্পেশাল, ম্যাটিনি, ইভনিং আর নাইট শো। কোনো কোনো সময় রাত ১২টার পরেও বিশেষ অনুমতিতে চলতো শো। 

অনুপম হায়াৎ বলেন, "গুলিস্তান হলের দারুণ প্রজেকশন, ঝকঝকে স্ক্রিন আর পরিস্কার সাউন্ডে বেশ আরাম করেই সিনেমা দেখা যেত।"

সত্তরের দশকের গুলিস্তান সিনেমা হল। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

'প্লিজ কাম ওয়েল ড্রেসড'

চারতলায় দোসানীরা ১০০ সিটের আরেকটি হল করেছিলেন, নাম ছিল নাজ। নাজে গুলিস্তানের প্রধান গেট দিয়ে ঢোকা যেত না। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের একটি জুতোর দোকানের পাশ দিয়ে কেচি গেট পার হলে ছিল প্যাচানো সিড়ি। সেটি দিয়ে ঘুরে ঘুরে উঠতে হতো। 

সেখানে ক্লাসিক্যাল ইংরেজি সিনেমাই বেশি দেখানো হতো। নির্দিষ্ট শ্রেণির দর্শক ছিলেন সেখানে। ছোটো একটি হল, কিন্তু আসতে হতো হলের নিয়ম মেনে। নাজই সম্ভবত দেশের একমাত্র হল যেখানে বলা হতো–'প্লিজ কাম ওয়েল ড্রেসড'। এখানে লুঙ্গি পরে যাওয়া যেত না, স্যান্ডেল পরে যেতে হত। এ কারণে এক শ্রেণির দর্শক যেতে অস্বস্তিবোধ করতেন।  

দেশভাগের পর করাচি আর লাহোরের অনেক ব্যবসায়ী পূর্ব পাকিস্তানে এসে বসবাস শুরু করেন। তার বাংলাও বলতে পারতেন, হিন্দি-উর্দুও বলতে পারতেন। তাদের পোশাক ছিল সালোয়ার কামিজ। বাঙালি মেয়েরা শাড়ি পরে আসতেন। ছেলেরা অবশ্য প্যান্টই পরতেন। অনেকে আবার পড়তেন লুঙ্গি। এজন্যই নাজ বিনয়ের সঙ্গে বলত–'প্লিজ কাম ওয়েল ড্রেসড'। 

এখন এক্সেসরিজ মার্কেট

দেশ স্বাধীন হলে দোসানীরা পাকিস্তান চলে গিয়েছিল। ১৯৭২ সালে সিনেমা হলসহ পুরো এলাকা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০০৫ সালে সিনেমা হল ভেঙে শপিং কমপ্লেক্স গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিকল্পনা ছিল ভবন হবে ২০তলা আর সবার ওপরে একটি আধুনিক সিনেমা হলও থাকবে। 

তবে ১০তলা পর্যন্ত হয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এখন পাঁচ তলা পর্যন্ত শপিং কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় স্পোর্টস আইটেমের দোকান আর বাকি তলাগুলোয় মোবাইল এক্সেসরিজের। এটি দেশের অন্যতম মোবাইল এক্সেসরিজের মার্কেট। প্রায় ১৫০০ দোকান আছে মার্কেটটিতে। 

কাগজে নাম না থাকলেও হলটি ইতিহাসের পাতায় দাগ রেখে গেছে গভীর, মানুষের মনে আরো বেশি। তাইতো বাস কন্ডাক্টর তেড়ে চেঁচায়, 'হল মার্কেট, হল মার্কেট।'  

হলটি বন্ধ হয়ে গেছে ২০০৫ সালে। সেই সিনেমা হল আর ফিরে পাওয়া যাবে না। তবে পরিকল্পনামাফিক বাকি নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে একটি সিনেমা হল তো পাওয়া যাবে। তখন স্মৃতিতেই নয় কেবল, বাস্তবেও ধরা দেবে গুলিস্তান। 

Related Topics

টপ নিউজ

গুলিস্তান / সিনেমা হল / সিনেমা / প্রেক্ষাগৃহ

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ছবি: নিউ ইয়র্ক টাইমস
    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেন সানগ্লাস পরলেন?
  • অনন্ত আম্বানি (বাঁয়ে) ও মুকেশ আম্বানি। ছবি: সংগৃহীত
    বিতর্কিত চিড়িয়াখানা চালানো আম্বানির ছেলেকে অধ্যাপক বানাল ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়; সমালোচনা
  • চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও কুমিল্লা ইপিজেডের চার কারখানায় তৈরি হচ্ছে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের সেফটি ও ফাংশনাল জুতা। খনি, ভারী শিল্প, নির্মাণকাজ, নৌযান, পর্বতারোহণ ও সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত এসব জুতা রপ্তানি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে। ছবি:মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন/টিবিএস
    যুদ্ধ-অভিযান থেকে পর্বতারোহণ: বিশ্বের সর্বত্র শ্রমিকদের সুরক্ষা দিচ্ছে বাংলাদেশে তৈরি সেফটি জুতা
  • প্রতীকী ছবি: এআই
    বিস্কুট-স্ন্যাকস থেকে মসলা: মালয়েশিয়ার বাজারে জায়গা করে নিচ্ছে বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্য
  • প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
    সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী
  • নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ছবি: পিটিআই
    ২০২৪ সাল থেকে জেন-জিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছে না ভারত

Related News

  • স্থানীয় সিনেমার জনপ্রিয়তায় দ্বিতীয় বছর ১০০ মিলিয়ন রিয়াল আয় করল করল সৌদি চলচ্চিত্র
  • ‘গ্যাংস অভ ওয়াসেপুর ২’-এর পর ২০০ চিত্রনাট্য, ব্ল্যাঙ্ক চেক পেয়েছিলেন নওয়াজুদ্দিন, কিন্তু ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সব 
  • ভারতের সবচেয়ে সফল স্টার কিড, ২৭ বছরেই দিয়েছেন ‘২,০০০ কোটির’ সিনেমা, প্রশংসা কুড়িয়েছেন কান-এ
  • শতবর্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি মহাকালের মহানায়ক
  • সংলাপ সংকটে বলিউড, ধারাবাহিক পারফর্ম করে যাচ্ছেন একমাত্র শাহরুখ খান

Most Read

1
ছবি: নিউ ইয়র্ক টাইমস
আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেন সানগ্লাস পরলেন?

2
অনন্ত আম্বানি (বাঁয়ে) ও মুকেশ আম্বানি। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

বিতর্কিত চিড়িয়াখানা চালানো আম্বানির ছেলেকে অধ্যাপক বানাল ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়; সমালোচনা

3
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও কুমিল্লা ইপিজেডের চার কারখানায় তৈরি হচ্ছে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের সেফটি ও ফাংশনাল জুতা। খনি, ভারী শিল্প, নির্মাণকাজ, নৌযান, পর্বতারোহণ ও সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত এসব জুতা রপ্তানি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে। ছবি:মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন/টিবিএস
অর্থনীতি

যুদ্ধ-অভিযান থেকে পর্বতারোহণ: বিশ্বের সর্বত্র শ্রমিকদের সুরক্ষা দিচ্ছে বাংলাদেশে তৈরি সেফটি জুতা

4
প্রতীকী ছবি: এআই
বাংলাদেশ

বিস্কুট-স্ন্যাকস থেকে মসলা: মালয়েশিয়ার বাজারে জায়গা করে নিচ্ছে বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্য

5
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
বাংলাদেশ

সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

6
নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ছবি: পিটিআই
আন্তর্জাতিক

২০২৪ সাল থেকে জেন-জিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছে না ভারত

The Business Standard
Top

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net

Copyright © 2022 THE BUSINESS STANDARD All rights reserved. Technical Partner: RSI Lab