‘গ্যাংস অভ ওয়াসেপুর ২’-এর পর ২০০ চিত্রনাট্য, ব্ল্যাঙ্ক চেক পেয়েছিলেন নওয়াজুদ্দিন, কিন্তু ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সব
নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকীকে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছিল অনুরাগ কাশ্যপের 'গ্যাংস অভ ওয়াসেপুর ২'। সম্প্রতি এই অভিনেতা জানিয়েছেন, সিনেমাটি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ানোর পর থেকেই নিজেকে তারকা মনে হতে শুরু হয়েছিল তার।
এনডিটিভিকে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে নওয়াজুদ্দিন স্মৃতিচারণ করে বলেন, 'গ্যাংস অভ ওয়াসেপুর ২' মুক্তির পর তার হাতে অন্তত ২০০ চিত্রনাট্য এসেছিল। তবে তড়িঘড়ি করে নতুন কোনো কাজে হাত না দিয়ে তিনি সঠিক চরিত্রের অপেক্ষায় ছিলেন। তাই এসবের কোনোটিতেই চুক্তিবদ্ধ হননি।
'গ্যাংস অভ ওয়াসেপুর ২'-এর পরের জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নওয়াজুদ্দিন স্বীকার করেন, সিনেমাটির পর নিজেকে তারকা মনে হতে শুরু করেছিল তার।
তিনি বলেন, '"গ্যাংস অভ ওয়াসেপুর ২" মুক্তির পর আমি অন্তত ২০০ চিত্রনাট্য পেয়েছি। আমার টেবিলে ব্ল্যাঙ্ক চেক পড়ে থাকত। লোকে বলত, "এই নিন চিত্রনাট্য আর এই ব্ল্যাঙ্ক চেক। আপনি যত টাকা চান বসিয়ে নিন, আপনার ফাঁকা সময় অনুযায়ী আমাদের শিডিউল দিন।"'
নওয়াজুদ্দিন আরও বলেন, 'আমি সেসব চিত্রনাট্যের একটিও গ্রহণ করিনি, কারণ কোনোটিই আমার পছন্দ হয়নি। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সঠিক চিত্রনাট্যের জন্য অপেক্ষা করব। বছরের পর বছর কাজের জন্য অপেক্ষা করার অভ্যাস আমার আগে থেকেই ছিল। তাই আমি ভেবেছিলাম, তাড়াহুড়ো করে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করার চেয়ে বরং আরও দুই-তিন বছর অপেক্ষা করাই ভালো।'
তবে অভিনেতা জানান, তাকে খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। খুব শিগগিরই তিনি কাজ পেতে শুরু করেন।
অনুরাগ কাশ্যপের 'গ্যাংস অভ ওয়াসেপুর ২' সিনেমায় নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকী ফয়জল খানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। চরিত্রটিকে শুরুতে কিছুটা উদাসীন ও লক্ষ্যহীন মানুষ হিসেবে দেখানো হলেও, ব্যক্তিগত ক্ষতি ও বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হওয়ার পর ধীরে ধীরে সে নিষ্ঠুর গ্যাংস্টারে পরিণত হয়। তার অসাধারণ অভিনয় সিনেমাটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল।
২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'গ্যাংস অভ ওয়াসেপুর ২' খান ও কুরেশি পরিবারের কয়েক দশক ধরে চলা শত্রুতার গল্পকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। ভারতের ধানবাদের অপরাধ জগতের রূঢ় ও বাস্তবসম্মত চিত্রায়ণ, চিত্রনাট্য ও অভিনয়ের জন্য সিনেমাটি ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
