এক ঘণ্টার বেশি ফোনালাপ: পেজেশকিয়ানকে যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়ে অবগত করলেন শাহবাজ
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার পথ তৈরি করতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে চালানো কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে অবহিত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শনিবার এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এক ফোনালাপে তিনি এসব তথ্য জানান।
বর্তমানে আঙ্কারা ও কায়রোর সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফোনালাপে দুই নেতা অঞ্চলের চলমান সংঘাত ও শান্তি প্রচেষ্টা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্টকে জানান, তিনি নিজে, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় এবং অন্যান্য ইসলামি দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন। তাদের মূল লক্ষ্য হলো, শান্তি আলোচনার জন্য একটি 'অনুকূল পরিবেশ' তৈরি করা।
পাকিস্তানের এই শান্তি উদ্যোগ বিভিন্ন মহলে 'জোরালোভাবে সমর্থিত' হয়েছে বলেও শাহবাজ শরিফ উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংঘাত নিরসনের একটি কার্যকর পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।
শাহবাজ শরিফ ইরানের ওপর চলমান ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানান। বিশেষ করে গতদিন বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি এই কঠিন সময়ে ইরানের সাহসী জনগণের প্রতি পাকিস্তানের সংহতি ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
এছাড়া, যুদ্ধে ইরানে ১,৯০০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন শাহবাজ শরিফ। তিনি আহত ও বাস্তুচ্যুতদের দ্রুত আরোগ্য ও নিরাপত্তা কামনা করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন এবং ইরানের ওপর ইসরায়েলের চলমান হামলার বিষয়ে তাঁর অবস্থান তুলে ধরেছেন।
আলোচনা ও মধ্যস্থতা সহজতর করার জন্য তিনি পারস্পরিক 'আস্থা তৈরির' ওপর বিশেষ জোর দেন। এ ক্ষেত্রে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের সহযোগিতামূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানি প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান এবং আশ্বস্ত করেন, এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তান তার গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।
এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে যে, পেজেশকিয়ান ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন। ফোনালাপের সময় পেজেশকিয়ান এই উদ্যোগের জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানান।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলের উত্তেজনা কমানোর উপায়সহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনার জন্য ২৯-৩০ মার্চ সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে পাকিস্তান।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার নিশ্চিত করেছেন যে, পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে 'যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে'। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি ১৫ দফার রূপরেখা ইরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সেটি এখন তেহরান পর্যালোচনা করছে। এই শান্তি প্রচেষ্টায় তুরস্ক এবং মিসরও সমর্থন দিচ্ছে।
