যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান; বৈঠক হতে পারে পাকিস্তান বা তুরস্কে: ইরানি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা
যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান। এই যুদ্ধ বন্ধের বৈঠক পাকিস্তান বা তুরস্কে হতে পারে।
বুধবার রয়টার্সকে একজন ইরানি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
যদিও ইরান বরাবরই বলেছে যে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় যাবে না, তবে এই অজ্ঞাত সূত্রের মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে তেহরান কূটনৈতিক প্রস্তাব বিবেচনা করতে পারে।
ইরানি সূত্র প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।
সূত্র জানিয়েছে, তুরস্কও 'যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় সাহায্য করেছে এবং বৈঠকের স্থান হিসেবে পাকিস্তান বা তুরস্কের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।'
যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ১৫-দফা শান্তি প্রস্তাব দেওয়ার খবর প্রকাশের পর তেলের দাম কমেছে।
এদিকে, ইসরাইলের মন্ত্রিসভার তিনজন সদস্য জানিয়েছেন, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা প্রস্তাবের বিষয়ে অবহিত হয়েছে।
এই প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে ইরানের উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরানো, সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য অর্থায়ন বন্ধ করা।
রয়টার্সকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, পেন্টাগন উপসাগরীয় অঞ্চলে কয়েক হাজার এয়ারবর্ন সৈন্য পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। ইতোমধ্যেই দুইটি মেরিন কন্টিনজেন্ট রওনা হয়েছে। প্রথম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট একটি বিশাল অ্যামফিবিয়াস যুদ্ধজাহাজ, যেটি এই মাসের শেষ নাগাদ পৌঁছাতে পারে।
ইরানের প্রতিবেশী পাকিস্তান ইতিমধ্যেই সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। তুরস্কও বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ভূমিকা পালন করছে।
তুরস্কের সরকার দলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হারুন আরগামান বুধবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আঙ্কারা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ভূমিকা পালন করছে।
তবে ইরান এখনও প্রকাশ্যে আলোচনায় আগ্রহী হয়নি। বরং তাদের বক্তব্য আরও তীক্ষ্ণ ও ধারালো হয়ে উঠেছে।
ইরানের এক সামরিক মুখপাত্র বলেছেন, 'কৌশলগত পরাজয়' থেকে বের হতে যুক্তরাষ্ট্র নিজের সঙ্গেই আলোচনা করছে।
ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের শীর্ষ মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি ট্রাম্পকে উপহাস করে ইরানি রাষ্ট্রীয় টিভিতে বলেছেন, 'আপনাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আপনারা নিজেদের সঙ্গেই আলোচনা করছেন?'
তিনি বলেন, 'আপনাদের সঙ্গে আমাদের মতো মানুষের কখনোই বনিবনা হবে না।'
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বেগায়ে ভারতের টেলিভিশনে বলেন, ট্রাম্প যখন আক্রমণ শুরু করেন, তখন তো পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা চলছিল।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে তিনি 'কূটনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা' আখ্যায়িত করে বলেন, এরপর তাদের সঙ্গে আলোচনা অর্থহীন।
অন্যদিকে, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ট্রাম্পের দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আগ্রহে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা ইরানকে যথেষ্ট দুর্বল না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ট্রাম্পের ওপর চাপ দিচ্ছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন সেনাবাহিনীর এলিট ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় তিন হাজার সদস্যকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। তবে ইরানের মাটিতে সরাসরি সেনা পাঠানোর বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো জানিয়েছে, তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও একটি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের নিচে নেমে গেছে।
এদিকে, ইরানে ট্রাম্পের সামরিক অভিযান সীমিত করার তৃতীয় প্রচেষ্টাও নাকচ করে দিয়েছে মার্কিন সিনেট।
