ইরান যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম খসড়া প্রস্তাবের ওপর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভোট আজ
ইরান যুদ্ধ এবং পুরো অঞ্চলে এর প্রভাব নিয়ে আজ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দুটি পাল্টাপাল্টি খসড়া প্রস্তাবের ওপর ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম নিরাপত্তা পরিষদ কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
প্রথম প্রস্তাবটি পেশ করেছে উপসাগরীয় দেশগুলো। এতে জর্ডান এবং তাদের ওপর ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। এই খসড়া প্রস্তাবে বর্তমানে যুক্তরাজ্যসহ ৯০টিরও বেশি দেশ সমর্থন দিচ্ছে। এতে ইরানের পক্ষ থেকে (সরাসরি বা প্রক্সি বাহিনীর মাধ্যমে) ছয়টি উপসাগরীয় দেশ ও জর্ডানের ওপর সব ধরনের হামলা ও হুমকি অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া, আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ 'হরমুজ প্রণালী' বন্ধ করা বা এতে বিঘ্ন ঘটানোর যেকোনো চেষ্টারও নিন্দা জানানো হয়েছে এই প্রস্তাবে।
অন্যদিকে, নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত রাশিয়া একটি বিকল্প খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে। ইরান, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে এই প্রস্তাবে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সব ধরনের হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সাথে সব পক্ষকে যুদ্ধ বন্ধ করে অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছিলেন, ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা এবং এ অঞ্চলে ইরানের পাল্টা হামলা—উভয়ই জাতিসংঘের সনদের লঙ্ঘন।
তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি একে 'পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে অভিহিত করেন। তার অভিযোগ, এই খসড়ার মাধ্যমে আক্রমণকারী ও আক্রান্তের ভূমিকা উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
