রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ: হাসিনাসহ ২৮৬ জনের মামলার চার্জগঠন শুনানি ১৫ এপ্রিল
'জয় বাংলা ব্রিগেড'-এর জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন (অভিযোগ গঠন) শুনানির জন্য আগামী ১৫ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার (৯ মার্চ) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালত এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোর্শেদ হোসেন শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলাটি সম্প্রতি বিচারের জন্য এই আদালতে বদলি হয়ে এসেছে। আসামিদের চার্জগঠন শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ এপ্রিল পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলাটি করেন সিআইডির সহকারী বিশেষ পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক। তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন তিনি। এরপর গত ১৪ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় এবং ১৪ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ পলাতক ২৬১ জনকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন আদালত। গত ১১ নভেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।
এর আগে মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক আব্দুস সালামের আদালতে শুনানির পর্যায়ে ছিল। তবে দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলাটি বর্তমান আদালতে (তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ) বদলি করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে 'জয় বাংলা ব্রিগেড'-এর একটি জুম মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শেখ হাসিনাসহ কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নেন। বৈঠকে শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেশবিরোধী বক্তব্য দেন এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন। এই বক্তব্যের ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
