হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখলেন চেম্বার আদালত
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় খোবাইব নিহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু, সাঈদ আহমেদ রাজা ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু গণমাধ্যমকে বলেন, 'এই জামিন বহালের আদেশসহ খায়রুল হকের বিরুদ্ধে সবগুলো মামলায় জামিন বহাল থাকায় তার কারামুক্তিতে আর বাধা নেই।'
এর আগে গত ৩০ জুন এ মামলায় খায়রুল হককে জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
গত ২৩ মে পৃথক সাত মামলায় জামিন পাওয়ার পর সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে নতুন করে যাত্রাবাড়ী থানার খোয়াইব হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে, ১৬ মে এ মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. ইব্রাহিম খলিল।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী পদচারী সেতুর নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন খোবাইব। বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে যাত্রাবাড়ী মোড়ের দিকে অগ্রসর হন। শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের নির্দেশ ও মদদে পুলিশ, র্যাব এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত গুলি চালায়। এতে গুরুতর আহত হন খোবাইব। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর নিহত খোবাইবের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।
গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর তাকে একে একে আটটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
