বাগেরহাটে উদ্ধার হলো বিপন্ন ‘ধূসর মাথাযুক্ত মেছো ঈগল’, প্রাণ বাঁচাল স্থানীয়রা
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার চাল রায়েন্দা গ্রামে বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীরের জালে আটকা পড়ে আহত হওয়া একটি ধূসর মাথাযুক্ত মেছো ঈগল উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টার দিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাখিটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পাখিটি সুস্থ হলে পুনরায় প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থা ওয়াইল্ডটিম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাল রায়েন্দা গ্রামের বাসিন্দা জাকির মিরের বাড়ির সীমানা প্রাচীরের জালে বড় আকৃতির ওই পাখিটি আটকা পড়ে ছটফট করছিল। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীদের ডাকেন। পরে খবর দেওয়া হয় ওয়াইল্ডটিমের শরণখোলা ফিল্ড অফিসে। খবর পেয়ে সংস্থাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলম হাওলাদার ঘটনাস্থলে গিয়ে পাখিটিকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বাড়ির মালিক জাকির মির বলেন, "সকাল দিকে দেখি সীমানা প্রাচীরে জালে বড় একটা পাখি আটকা পড়ে আছে। প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম। পরে বুঝলাম বিরল কোনো পাখি হতে পারে। তাই আমরা নিজেরা কিছু না করে দ্রুত ওয়াইল্ডটিমে খবর দেই। পাখিটা যেন বেঁচে যায়, এটাই চেয়েছি।"
ওয়াইল্ডটিমের শরণখোলা ফিল্ড অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলম হাওলাদার বলেন, "খবর পাওয়ার পর সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে পাখিটিকে উদ্ধার করি। এর ডানায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং জালে আটকা পড়ে অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হলে এটিকে নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।"
তিনি আরও জানান, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় মাঝে মাঝে এ ধরনের শিকারি পাখি লোকালয়ে চলে আসে। স্থানীয়রা সচেতন হয়ে দ্রুত খবর দেওয়ায় পাখিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।
ধূসর মাথাযুক্ত মেছো ঈগল মূলত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জলাভূমি অঞ্চলের একটি শিকারি পাখি। বাংলাদেশে এটি সাধারণত সুন্দরবন ও উপকূলীয় নদী-খাল সংলগ্ন এলাকায় দেখা যায়। পূর্ণবয়স্ক একটি ঈগলের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৫ থেকে ৭৫ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। এর মাথা ও ঘাড় ধূসর, বুক হালকা বাদামি এবং ডানা গাঢ় বাদামি রঙের হয়। শক্ত ঠোঁট ও ধারালো নখর দিয়ে পানির ওপর থেকে মাছ শিকার করাই এই পাখির প্রধান বৈশিষ্ট্য। এরা সাধারণত একা বা জোড়ায় বিচরণ করে এবং উঁচু গাছে বাসা বাঁধে।
