সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়ে সংসদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ইসি
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নের বিধান থাকবে কি না, সে বিষয়ে জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বর্তমানে অধ্যাদেশের মাধ্যমে দলীয় প্রতীকের বিধান বাতিল করা হলেও, সংসদ অধিবেশনে এটি বহাল থাকবে নাকি আগের নিয়মে ফিরবে, তা মূলত ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ। একই সঙ্গে তিনি সংরক্ষিত নারী আসন ও স্থগিত হওয়া উপ-নির্বাচন নিয়ে কমিশনের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন।
নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ বলেন, 'আমার জানামতে অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে মেয়র প্রার্থী পদে দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন সংসদ বসবে। সংসদ বসার পর এই বিল বা অর্ডিন্যান্স যদি রেটিফাই (অনুমোদন) হয়, তবে সেভাবেই নির্বাচন হবে। আর যদি পরিবর্তন হয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যায়, তবে অন্যরকম হবে। আমরা মূলত সংসদ অধিবেশনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছি।'
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। ফলে স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ভাগ্য কার্যত দলটির রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল শিগগিরই
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন প্রসঙ্গে ইসি রহমানেল মাছউদ জানান, এই নির্বাচনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে কার্যকরভাবে শুরু হয়েছে। বিধি অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন শেষ করতে হয়। ১৭ নভেম্বর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ায় কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করবে।
তিনি বলেন, 'সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো যেসব প্রার্থী মনোনীত করবে, মূলত তারাই নির্বাচিত হবেন। দলগুলো প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে, শিগগিরই তফসিল ঘোষণা করা হবে।'
সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তোড়জোড়
এদিকে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ সচিবের পাঠানো পৃথক চিঠিতে বলা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়াদ গত বছরের ১ জুন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়াদ গত ২ জুন শেষ হয়েছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর মেয়াদ আজ ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে এবং ১৭ নভেম্বর নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে নতুন মন্ত্রীসভা দায়িত্ব পালন করছে।
