এপস্টিন ফাইলে থাকা শত শত প্রভাবশালীর নাম কংগ্রেসে পাঠালো মার্কিন বিচার বিভাগ
দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত তদন্তের সাথে সম্পর্কিত কয়েক মিলিয়ন ফাইলের মধ্যে থাকা 'রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের' একটি তালিকা গত শনিবার মার্কিন কংগ্রেসের কাছে পাঠিয়েছে বিচার বিভাগ।
ছয় পৃষ্ঠার এই চিঠিটি—যার একটি অনুলিপি সিএনএন সংগ্রহ করেছে—তাতে এমন অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যাদের নাম ওই ফাইলগুলোতে কোনো না কোনোভাবে এসেছে। তবে এই ব্যক্তিরা এপস্টাইনের সাথে ঠিক কতটুকু যুক্ত ছিলেন বা তার সঙ্গে সাথে তাদের যোগাযোগের ধরণ কী ছিল, সে সম্পর্কে চিঠিতে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। চিঠিটিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ স্বাক্ষর করেছেন এবং এটি হাউজ ও সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির শীর্ষ সদস্যদের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে।
কংগ্রেস কর্তৃক পাস হওয়া 'এপস্টিন ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট'-এর অধীনে বিচার বিভাগ এই তালিকাটি তৈরি করতে বাধ্য হয়েছে। সিএনএন এই তালিকার বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে বিচার বিভাগের সাথে যোগাযোগ করেছে।
তালিকায় থাকা কিছু ব্যক্তির সাথে দণ্ডিত এই যৌন অপরাধীর সুপরিচিত সম্পর্কের নথি থাকলেও, অন্যদের সঙ্গে এপস্টিনের কখনো ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছিল কি না—তা জানা যায়নি। এই তালিকায় প্রেসিডেন্ট, ব্যবসায়ী নেতা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রিন্সেস ডায়ানা, এলভিস প্রিসলি এবং মাইকেল জ্যাকসনের মতো প্রয়াত সাংস্কৃতিক আইকনদের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এতে এমন অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তির নামও উল্লেখ করা হয়েছে যাদের সাথে এপস্টিনের সম্পর্কের বিষয়টি আগেও সামনে এসেছিল; তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন, হোয়াইট হাউসের সাবেক কাউন্সিল ক্যাথি রুয়েমলার এবং বিলিয়নেয়ার ব্যবসায়িক টাইকুন লেস ওয়েক্সনার।
তবে এই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে জেফ্রি এপস্টিন এবং তার সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েল ছাড়া অন্য কারোর বিরুদ্ধেই এপস্টিনের করা অপরাধের সাথে জড়িত থাকার কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কখনও আনা হয়নি।
কংগ্রেসের কাছে পাঠানো এই চিঠিতে নতুন করে আরও কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—যাদের মধ্যে কেউ কেউ শুধু বিভিন্ন সংবাদ নিবন্ধ বা নিউজলেটারে স্থান পেয়েছিলেন। এটি প্রতীয়মান হয় যে, তাদের সঙ্গে জেফ্রি এপস্টিনের কোনো সরাসরি যোগসূত্র ছিল না অথবা তারা কখনও তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগও করেননি।
বিচার বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, 'আইনের অধীনে প্রকাশিত ফাইলগুলোতে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে নামগুলো উঠে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু ব্যক্তি এপস্টিন বা ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে সরাসরি অনেক ইমেইল চালচালি করেছেন। আবার অন্য ব্যক্তিদের নাম নথির এমন একটি অংশে (সংবাদ প্রতিবেদনসহ) উল্লেখ করা হয়েছে যা আপাতদৃষ্টিতে এপস্টিন ও ম্যাক্সওয়েল সংক্রান্ত বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।'
এই ফাইলগুলো প্রকাশে বাধ্যকারী আইনের অন্যতম সহ-রচয়িতা প্রতিনিধি রো খান্না বলেন, ৩০০-এর বেশি মানুষের এই তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে বিচার বিভাগ 'কারা প্রকৃত শিকারী (অপরাধী) ছিল এবং কাদের নাম কেবল ইমেইলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই পার্থক্যটি ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট করে দিচ্ছে।'
এপস্টিনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষে সোচ্চার থাকা রিপাবলিকান প্রতিনিধি ন্যান্সি মেস শনিবার রাতে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বিচার বিভাগের সমালোচনা করে দাবি করেন, 'আজ সন্ধ্যায় প্রকাশিত তালিকায় কিছু নাম বাদ পড়েছে।'
কংগ্রেসের কাছে পাঠানো আগের চিঠিগুলোর মতোই, এবারও বিচার বিভাগ ফাইলগুলোর তথ্য গোপন করার পেছনে এমন কিছু কারণ দেখিয়েছে যা কংগ্রেসের পাস করা আইনের প্রয়োজনীয়তার বাইরে। এর মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত নথি, কাজের প্রস্তুতিমূলক নথিপত্র এবং আইনজীবী–মক্কেল যোগাযোগ, যেগুলো বিশেষাধিকারভুক্ত হিসেবে গোপন রাখা হয়।
লাখ লাখ নথিপত্র প্রকাশের পর থেকে নাম এবং তথ্যের অসংলগ্ন কাটছাঁট বা মুছে ফেলার কারণে জেফ্রি এপস্টিনের শিকার হওয়া ব্যক্তি এবং কংগ্রেস সদস্যদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে বিচার বিভাগ।
নথিগুলোর অগোপন (আনরিডাক্টেড) সংস্করণ যেসব কংগ্রেস সদস্য দেখেছেন, তারা পরবর্তীতে বলেছেন, বিচার বিভাগ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে। তাদের এই পর্যবেক্ষণ অনেক আইনপ্রণেতাকে নথিতে থাকা আরও কিছু মুছে ফেলা নাম জনসমক্ষে প্রকাশের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে।
