এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান বিধ্বস্ত ‘ইচ্ছাকৃত’, পাইলটই জ্বালানি ফুয়েল বন্ধ করেছিলেন: ইতালির প্রতিবেদন
গত বছর ভারতের আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার 'ফ্লাইট ১৭১' বিধ্বস্তের ঘটনায় তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন, এর পেছনে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং এটি ছিল একটি 'ইচ্ছাকৃত কাজ'। ইতালীয় সংবাদপত্র 'কোরিয়ারে দেলা সেরা'র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
২০২৫ সালের জুনে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় ২৬০ জন প্রাণ হারান, অলৌকিকভাবে বেঁচে যান মাত্র একজন যাত্রী। যদিও ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (ডিজিসিএ) এখনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি, তবে ইতালীয় সংবাদপত্রের দাবি—তদন্তকারীদের মতে, ঘটনাটি কোনও দুর্ঘটনা ছিল না।
তদন্তকারীদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উড্ডয়নের পরপরই সুপরিকল্পিতভাবে বিমানের ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
গত বছরের জুলাইয়ে প্রকাশিত একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, উড্ডয়নের ঠিক পরেই ককপিটের 'ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ' 'রান' পজিশন থেকে 'কাট-অফ' পজিশনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে শোনা গেছে, এক পাইলট অন্যজনকে জিজ্ঞেস করছেন—কেন তিনি জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করলেন? অন্য পাইলট তখন অস্বীকার করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীদের ধারণা—বিমানের কমান্ডিং পাইলট ইচ্ছাকৃতভাবে ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচটি বন্ধ করে দিয়েছিলেন, যার ফলে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে। ওই সময় ফ্লাইটের কমান্ডিং পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন সুমিত সভারওয়াল এবং কো-পাইলট ছিলেন ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্ডার।
ভারত সরকার এখন পর্যন্ত এই দুর্ঘটনার জন্য সরাসরি পাইলটদের দায়ী করেনি। চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে ফ্লাইটের কমান্ডার ক্যাপ্টেন সুমিত সভারওয়ালের নাম উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার এক মাস পর জানা গেছে যে ক্যাপ্টেন সুমিত বিষণ্নতায় ভুগছিলেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককপিটের ব্ল্যাক বক্সের তথ্য বিশ্লেষণে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরং দেখা গেছে, বিমানের দুটি ইঞ্জিনই ম্যানুয়ালি বা হাত দিয়ে বন্ধ করা হয়েছিল। ইঞ্জিন সচল রাখা বা বন্ধ করার 'ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ' দুটি কেউ একজন ইচ্ছাকৃতভাবে সরিয়ে দিয়েছিলেন, যার ফলে মাঝআকাশে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে বিমানটি আছড়ে পড়ে।
তবে ক্যাপ্টেন সুমিতের পরিবারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে নতুন করে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
সুমিতের বিবাহবিচ্ছেদ বা ব্যক্তিগত সংকটের কারণে তিনি উদ্বেগ বা বিষণ্নতায় ভুগছিলেন কিংবা ছেলের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ওঠা সব গুঞ্জন উড়িয়ে দেন তার বাবা। পাইলটদের সংগঠনগুলোও এ ধরনের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ইতালীয় সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে পাইলটদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বড় ধরনের সুপারিশ আসতে পারে। বিশেষ করে পাইলটদের নিয়মিত মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন এবং মানসিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হতে পারে।
দুর্ঘটনার পর প্রথম দিকে যান্ত্রিক ত্রুটি বা মানুষের ভুলের মতো অনেকগুলো তত্ত্ব সামনে এসেছিল। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তদন্তকারীদের নজর ককপিটের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচের দিকেই স্থির হয়। ব্ল্যাক বক্সের তথ্যানুযায়ী, উড্ডয়নের পরপরই সুইচগুলো 'রান' থেকে 'কাট-অফ' পজিশনে নেওয়া হয়েছিল, যা ইঞ্জিন দুটিকে পুরোপুরি অকেজো করে দেয়।
