সিলেটে জামায়াতের সমাবেশে প্রথমবার নারীদের প্রকাশ্য অংশগ্রহণ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশে আগে কখনো এমন দৃশ্য দেখা যায়নি। এই প্রথম দলটির কোনো বিশাল রাজনৈতিক জনসভায় প্রকাশ্যে বিপুলসংখ্যক নারী অংশগ্রহণ করেছেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেট নগরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় এই ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা যায়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সমাবেশস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের উত্তরদিকের একটি বড় অংশকে বাঁশের বেড়া দিয়ে আলাদা করে নারীদের জন্য নির্ধারিত রাখা হয়েছে। সেখানে টাঙানো হয়েছিল কালো পর্দাও। এই অংশে শুধু নারীদের বসার সুযোগ ছিল এবং পুরুষদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, নারীদের জন্য সেখানে পৃথকভাবে ৫ হাজার চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর পর্যন্ত মাঠ প্রায় ফাঁকা থাকলেও বেলা আড়াইটার পর থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে আসতে শুরু করেন। এসময় নারীরাও বিভিন্ন এলাকা থেকে দল বেঁধে মিছিল সহকারে জনসভায় যোগ দেন।
সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান নারীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে আলাদা করে কিছু না বললেও নিজের 'এক্স' (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের একটি পোস্ট নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, 'একদল মা-বোনদের সম্মান দিতে জানে না। আমি এর প্রতিবাদ করেছি এজন্য তারা আমার দিকে মিসাইল ছুড়েছে। হাতে হাত মিলিয়ে আমার চরিত্র হনন করা হচ্ছে। কিন্তু এরা জানে না আধুনিক বিশ্বে মিসাইল ছুড়লে অ্যান্টি মিসাইলও খেতে হয়।'
তিনি আরও বলেন, 'আমার এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে মা-বোনদের নিয়ে অপমানজনক পোস্ট দিয়েছে। এখন তারা কী বলবে, চোর তো ধরা পড়েছে। কিন্তু এখনো তারা চোরের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে। একেই বলে চোরের মায়ের বড় গলা। আমি তাদের মাফ করে দিয়েছি। আমি আর এ নিয়ে কথা বলব না।'
সিলেটে জামায়াতের কোনো সমাবেশে এবারই প্রথম নারীদের এমন উপস্থিতি সম্পর্কে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের দেশে একটি বিশালসংখ্যক ভোটার হচ্ছেন নারী। এজন্য তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এবার এই জনসভার আয়োজন করা হয়েছে।'
