সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছে জামায়াত, আমরা ক্ষমা করে দিয়েছি: শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গত ৫৪ বছর ধরে দেশে জুলুমের রাজনীতি চলছে এবং এই সময়ে সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দল হিসেবে জামায়াত কোনো জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ না নেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছিল, তা পালন করা হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'বাংলাদেশে গত ৫৪ বছর ধরে জুলুমের রাজনীতি চলছে। সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে আমরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরই বলেছিলাম, দল হিসেবে জামায়াত কোনো জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে না। আমরা ক্ষমা করে দিয়েছি। আমাদের নেতাকর্মীরা কথা রেখেছেন। দল হিসেবে আমরা প্রতিশোধ নিইনি। আমরা মামলা-বাণিজ্য করিনি। কিন্তু অনেকে মামলা-বাণিজ্য করেছে।'
সিলেটের পুণ্যভূমির ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, এই সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) তৎকালীন ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এসেছিলেন এবং জামায়াত তারই উত্তরসূরি।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ৫৪ বছরে দেশের টাকা লুট হয়েছে। কেউ ফেরেশতা ছিলেন না, সবাই কম-বেশি চুরি করেছেন। তিনি বলেন, 'যারা জনগণের টাকা চুরি করেছে আমরা দায়িত্ব পেলে তাদের শান্তি দেব না। তাদের মুখের ভেতর হাত ঢুকিয়ে পেটের ভেতর থেকে টাকা বের করে আনব। দুর্নীতি ও চুরি বন্ধ হলে উন্নয়নও হবে।' তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কেউ আর চাঁদাবাজি করতে পারবে না এবং কোনো অফিস-আদালতে কারও ঘুষ নেওয়ার সাহস ও সুযোগ হবে না।
সিলেটের আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, খনিজ সম্পদে ভরপুর হলেও সিলেটবাসী এর ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছে না। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সব জায়গায় পৌঁছায়নি। নদীগুলো মেরে ফেলা হয়েছে এবং সিলেট মদ-গাঁজায় ছেয়ে গেছে। দায়িত্ব পেলে এসব বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, কেবল নদী খনন নয়, বাংলাদেশ হবে নদীবান্ধব। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন। কেবল নামেই আন্তর্জাতিক, কিন্তু কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এখানে নামে না। আমরা নামে নয়, কাজে এই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করব।'
কৃষক, জেলে ও চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের হাতে সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হবে, পণ্যের বাজার নিশ্চিত করা হবে। জাল যার, জলা তার—এই নীতিতে জেলেদের অধিকার দেওয়া হবে এবং চা বাগানের সন্তানদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে।
নিজের 'এক্স' অ্যাকাউন্ট নিয়ে সম্প্রতি তৈরি হওয়া বিতর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, একদল মা-বোনদের সম্মান দিতে জানে না। এর প্রতিবাদ করায় তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, 'চোর তো ধরা পড়েছে। কিন্তু এখনো তারা চোরের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে। একেই বলে চোরের মায়ের বড় গলা। আমি তাদের মাফ করে দিয়েছি।'
সবশেষে নিজেকে সিলেটের সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'আমি আপনাদেরই একজন। আমাদের একবার সুযোগ দিন। আমরা দেশের মালিক হব না, আপনাদের চৌকিদার হব। যার যা মর্যাদা তা নিশ্চিত করব।'
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ, জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং সিলেটের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। সভায় প্রথমবারের মতো জামায়াতের কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক নারী ভোটারের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। সিলেট ছাড়াও শনিবার হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির।
