পোস্টাল ভোট: ফেনী-৩ আসনে সর্বোচ্চ নিবন্ধন ১৬,০৩৮; বাগেরহাট-৩ আসনে সর্বনিম্ন ১,৫৪৪
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন–সংক্রান্ত গণভোটে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যায় আসনভেদে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, পোস্টাল ভোটে সর্বোচ্চ নিবন্ধন হয়েছে ফেনী-৩ আসনে—১৬ হাজার ৩৮ জন। আর সর্বনিম্ন নিবন্ধন বাগেরহাট-৩ আসনে—১ হাজার ৫৪৪ জন। এই ব্যবধানে বোঝা যাচ্ছে, অঞ্চলভেদে ভোটে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যায় ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে; বিশেষ করে প্রবাসী বেশি এমন এলাকা ও প্রবাসী কম বা নেই—এমন এলাকার মধ্যে।
ইসির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশ–বিদেশ মিলিয়ে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে ১০ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন, এমন আসন রয়েছে ১৮টি। এর মধ্যে সিলেট-১ আসন ছাড়া বাকি সবগুলোই চট্টগ্রাম বিভাগে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য দেশে ও বিদেশে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেন। গত ৫ জানুয়ারি মধ্যরাতে অ্যাপের মাধ্যমে এ নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হয়। এর মধ্যে ১৫ লাখ ২৮ হাজার ১৩১ জন ভোটারের নিবন্ধন অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এর মধ্যে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি ভোটারদের জন্য আউট অব কান্ট্রি ভোটিং (ওসিভি) পদ্ধতিতে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন এবং দেশে অবস্থানরত ভোটারদের জন্য ইন কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং (আইসিপিভি) পদ্ধতিতে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন ভোটারকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক 'ওসিভি-এসডিআই' প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এদিন বেলা ১১টা পর্যন্ত মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট প্রবাসীদের কাছে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২২ হাজার ৩১৫ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন। ভোট প্রদান সম্পন্ন করেছেন ৪ লাখ ৬৪ হাজার ২২৫ জন। এছাড়া ৪ লাখ ১৮ হাজার ৯৬২ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাকবাক্সে জমা দিয়েছেন। বিডি পোস্ট এরই মধ্যে ১ হাজার ৮৫৯টি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩০০ আসনে। এর মধ্যে পোস্টাল ভোটে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন হয়েছে ফেনী-৩ আসনে—১৬ হাজার ৩৮ জন। এদের মধ্যে প্রবাসী ভোটার ১২ হাজার ৫৩৬ জন।
চট্টগ্রাম-১৫, কুমিল্লা-১০, নোয়াখালী-১সহ আরও কয়েকটি আসনেও একই প্রবণতা দেখা গেছে, যেখানে পোস্টাল ভোটারদের বড় অংশই প্রবাসী।
সাবেক নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. মো. আবদুল আলীম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "এই সব পোস্টাল ভোট একই প্রতীকে যাবে—এমন কোনো সুযোগ নেই। দেশের মানুষ যেমন বিভিন্ন প্রতীকে ভোট দেয়, তারাও বাংলাদেশেরই মানুষ। তারা এমন নয় যে নির্দিষ্ট কোনো প্রতীক বা দলকে ভোট দেবে। কাজেই এই ভোট সব দলের দিকেই যাবে। আবার ফেনী-৩ আসনে সর্বোচ্চ পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন হয়েছে ১৬ হাজারের কিছু বেশি—মোট ভোটারের তুলনায় যা খুবই সামান্য। এখানে দেশের ভেতরের ভোটের টার্নআউটই বেশি প্রভাব ফেলবে। আবার অনুমোদিত সব পোস্টাল ভোট যে আসবেই, এমনটাও নয়।"
প্রসঙ্গত, ফেনী-৩ আসন দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩ হাজার ৮৭ জন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে যেসব পোস্টাল ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছাবে, কেবল সেগুলোই গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নির্ধারিত সময়ের পর পৌঁছানো ব্যালট গণনা করা হবে না।
এদিকে দেশের ভেতরের পোস্টাল ব্যালটে প্রতীক বরাদ্দের বিধানেও পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন। এখন দেশের ভেতরের পোস্টাল ব্যালটে কেবল সংশ্লিষ্ট আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী ও তাদের প্রতীকই থাকবে।
এরই মধ্যে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সারা দেশে প্রায় দুই হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ২৫০ জনের বেশি স্বতন্ত্র প্রার্থী। নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল তাদের নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে।
