মোসাব্বির হত্যা মামলা: ৩ আসামির ৭ দিনের রিমান্ড, একজনের স্বীকারোক্তি
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজনের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার অন্য এক আসামি মো. জিন্নাত (২৪) হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত জিন্নাতের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
অন্যদিকে, শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত তিন আসামির সাত দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. বিল্লাহ (২৯), মো. আব্দুল কাদির (২৮) ও মো. রিয়াজ (৩১)।
এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করেন। আসামি মো. জিন্নাত স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পাশাপাশি গ্রেপ্তার অপর তিন আসামিকে সাত দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামি পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় বাদীনির স্বামীকে গুলি করে হত্যা করেছে। ঘটনার সাক্ষী সুফিয়ান বেপারী মাসুদ গুরুতর জখম অবস্থায় বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মূল রহস্য উদঘাটন, ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রের উৎস শনাক্তসহ পলাতক মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।
জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হত্যাকাণ্ডের সময় আসামি জিন্নাতের দায়িত্ব ছিল মূল শ্যুটার রহিমকে নিরাপদে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া। ঘটনার সময় জিন্নাত নিজে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন, যার একটি ফাঁকা এবং অন্যটি মোসাব্বিরের সঙ্গে থাকা ব্যক্তির গায়ে লাগে। জিন্নাত ঘটনার সাথে জড়িত অন্য আসামিদের চেনেন এবং জিজ্ঞাসাবাদে নিজের দায় স্বীকার করেছেন। তিনি বর্তমানে অনুতপ্ত হয়ে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে ইচ্ছুক।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, 'মোসাব্বিরকে হত্যার ঘটনায় চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মোসাব্বির আন্দোলন করেছেন। ওই কাঠগড়ায় শতবার দাড়িয়েছেন মোসাব্বির। ১৮ মাস জেলও খেটেছেন তিনি। মামলার কারণে তিনি তার ফ্যামিলির খোঁজ খবর রাখতে পারেননি। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য তিনি সারাজীবন লড়াই করেছেন। হত্যার আগে তারা রেকিংও করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা মামলার মূল শ্যুটার রহিমকে এখনো ধরতে পারেননি। রহিম এখনো পুলিশের ধরা-ছোঁয়ার বাহিরে আছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামিদের সাত দিনের রিমান্ডের প্রার্থনা করছি।'
শুনানি চলাকালে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। এ সময় আসামি মো. বিল্লাহ আদালতের উদ্দেশে বলেন, 'আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমি কিছুই বলতে পারব না। আমি কিছুই জানি না। আমি কাজে ছিলাম। আমাকে শুধু শুধু গ্রেপ্তার করা হয়েছে।' অপর আসামি মো. রিয়াজ বলেন, 'আমিও কিছুই জানি না স্যার।'
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে, গত ১১ জানুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন পূর্ব নাখালপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৭ জানুয়ারি আজিজুর রহমান মোসাব্বির বন্ধুদের সঙ্গে তেজতুরী বাজার এলাকায় আড্ডা শেষে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। ১০ মিনিট পর আহসানউল্লাহ ইনস্টিটিউটের সামনে অজ্ঞাত ৪-৫ জন তার গতিরোধ করে গুলি চালায়। গুলিতে মোসাব্বির মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে বাঁচাতে আসা সুফিয়ান বেপারী মাসুদকেও গুলি করা হয়। হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয়রা তাদের হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মোসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মোসাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
