বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী হত্যা: আদালতে হোটেলকর্মী মিলনের স্বীকারোক্তি
রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার নিলিকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া হোটেলকর্মী মিলন হোসেন আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক (রাজু) আসামি মিলনকে আদালতে হাজির করেন। আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তারকৃত মিলন নিহত নিলির বাবার হোটেলেই কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কী তথ্য দিয়েছেন বা কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, তা বিস্তারিত জানা যায়নি। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. মারুফুজ্জামান জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় নিলির বাবা মো. সজিবের 'শাহজালাল হোটেল' নামে একটি খাবারের দোকান রয়েছে। সজিব ও তার ছেলে শাকিল কর্মচারীদের সহায়তায় ব্যবসাটি পরিচালনা করে আসছিলেন। গত ৭ জানুয়ারি জমি সংক্রান্ত কাজের জন্য স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে হবিগঞ্জ যান সজিব। এসময় বাসায় ছিলেন তার দুই মেয়ে শোভা ও নিলি।
ঘটনার দিন অর্থাৎ গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে বড় বোন শোভা জিম সেন্টারে যান। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসায় ফিরে তিনি রান্নাঘরের মেঝেতে নিলিকে গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওই রাতেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে খিলগাঁও থানায় মামলা করেন নিলির বাবা মো. সজিব। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, 'পূর্ব শত্রুতার' জেরে অজ্ঞাতনামা এক বা একাধিক ব্যক্তি তার মেয়েকে হত্যা করেছে। মামলা দায়েরের পরদিন ১১ জানুয়ারি মিলনকে গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
