ফেসবুকে বন্যপ্রাণীর বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ; হাট-বাজারেও কেনা-বেচা করা যাবে না
ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যপ্রাণীর বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাট-বাজার বা অন্য কোনো মাধ্যমে বন্যপ্রাণী বেচা-কেনা করা যাবে না। দেশের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় প্রণীত 'বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬'- এ এসব নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে।
গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) এই অধ্যাদেশ গেজেট হিসেবে জারি করেছে সরকার।
নতুন অধ্যাদেশে ৯টি অধ্যায়ে বন অধিদপ্তরের দায়িত্ব ও কর্তব্য, বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ রক্ষা, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা, রক্ষিত এলাকা ঘোষণা ও ব্যবস্থাপনা, পারমিট লাইসেন্স ও পজিশন সার্টিফিকেট, আমদানি-রপ্তানি, বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্র, বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট গঠন, অপরাধ জরিমানা ও দন্ড ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এতে বন্যপ্রাণীর বাংলা, ইংরেজি ও বৈজ্ঞানিক নাম এবং গোত্র পরিচিতি সম্বলিত তফসিলও অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বন্যপ্রাণী রক্ষায় সরকার বন অধিদপ্তরের অধীন 'বন্যপ্রাণী উইং'- নামে একটি উইং প্রতিষ্ঠা করবে। সরকার বন্যপ্রাণী কল্যাণ ও সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসাকেন্দ্র ও চিকিৎসকের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেবে।
নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে দেশের বন্যপ্রাণীর তালিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদ করতে হবে এবং অবস্থান অনুযায়ী মহাবিপন্ন, বিপন্ন, সংকটাপন্ন ও প্রায় বিপদাপন্ন বন্যপ্রাণীর তালিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদ করতে হবে।
উল্লেখিত তালিকায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বিভিন্ন প্রকার বন্য প্রাণীর ঝুঁকিহ্রাস, কল্যাণ, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধানে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও করিডোর চিহ্নিত ও সুরক্ষিত রাখতে হবে।
বন্যপ্রাণীর কল্যাণ সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিষয়ে, মানুষ ও বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্ব নিরসনে ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে, বন্য প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ রোধে এবং বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা, ক্ষতিপূরণ প্রদান, আইনি প্রক্রিয়া, উদ্দীপণামূলক কর্মসূচি গ্রহণ, স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তা গ্রহণসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
উদ্ধারকৃত ও আহত বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় নির্দেশিকা প্রণয়ন করতে হবে এবং বন্যপ্রাণী শুশ্রুষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী বন্যপ্রাণী, বন ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও কল্যাণ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা এবং দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা বোর্ড গঠন করতে হবে।
অভিজ্ঞ বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ বিশারদগণের সমন্বয়ে একটি বৈজ্ঞানিক কমিটি গঠন করতে হবে। সরকার বন্যপ্রাণীর কল্যাণ, সংরক্ষণ, উদ্ধার ও উদ্ধার পরবর্তী শুশ্রূষা নিশ্চিতকরণ, পুনর্বাসন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ প্রজনন, বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, গবেষণা, জনসচেতনতা ইত্যাদি কাজের জন্য বন্যপ্রাণী ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করতে হবে।
অধ্যাদেশে ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যপ্রাণীর বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাট-বাজার বা অন্য কোনো মাধ্যমে বন্যপ্রাণী ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না। বন্যপ্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ যাবে না।
বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বন্যপ্রাণীর প্রতি কোনো নিষ্ঠুর আচরণ করলে অধ্যাদেশ অনুযায়ী তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
