ব্যায়াম ‘বোরিং’, চিকিৎসকের পরামর্শের চেয়েও অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যাসপিরিন সেবন করেন ট্রাম্প
নিজেকে 'পুরোপুরি' সুস্থ দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করেন না, কারণ তার কাছে এটি 'বোরিং' (বিরক্তিকর) মনে হয়। পাশাপাশি তিনি চিকিৎসকের পরামর্শের তুলনায় অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যাসপিরিন সেবন করেন এবং হাতে কালশিটে দাগ পড়লে তা ঢাকতে মেকআপ ব্যবহার করেন। খবর বিবিসি'র।
সম্প্রতি দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-কে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে নানা তথ্য তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় তার বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আলোচনা চলছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, গত অক্টোবরে তার একটি সিটি স্ক্যান করা হয়েছিল। যদিও এর আগে তিনি সাংবাদিকদের ভুলবশত জানিয়েছিলেন, তার আরও বিস্তারিত একটি 'এমআরআই' করা হয়েছে।
নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে বারবার জনসমক্ষে বিতর্ক ওঠায় বিরক্তি প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি কানে কম শোনেন—এমন দাবি কিংবা হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানে ঘুমিয়ে পড়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন। স্বাস্থ্য প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, 'চলুন ২৫ বারের মতো আবারও স্বাস্থ্য নিয়েই কথা বলি।'
অ্যাসপিরিন সেবনের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, গত ২৫ বছর ধরে তিনি নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি ওষুধ খাচ্ছেন। চিকিৎসকেরা সাধারণত রক্ত পাতলা রাখার জন্য ৮১ মিলিগ্রাম অ্যাসপিরিনের পরামর্শ দিলেও, তিনি প্রতিদিন ৩২৫ মিলিগ্রাম গ্রহণ করেন। তার বিশ্বাস, এটি হৃৎপিণ্ডের জন্য ভালো। বেশি মাত্রায় অ্যাসপিরিন সেবনের ফলে হাতে সহজেই কালশিটে দাগ পড়ে—এ কথা জানলেও তিনি দীর্ঘদিনের এই অভ্যাস বদলাতে চান না। এ বিষয়ে তিনি নিজেকে কিছুটা 'কুসংস্কারাচ্ছন্ন' বলেও উল্লেখ করেন।
মেয়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্ত পাতলা রাখার জন্য কম মাত্রার অ্যাসপিরিন হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে বয়স বৃদ্ধির কারণে অ্যাসপিরিন সেবনে অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। ট্রাম্পের চিকিৎসক নেভি ক্যাপ্টেন শন বারবাবেলা এক বিবৃতিতে জানান, সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের হৃৎপিণ্ড পরীক্ষা করা হয়েছে এবং এতে কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি।
বার্ধক্যজনিত কারণে ট্রাম্পের পায়ে রক্ত চলাচলের সমস্যা দেখা দেওয়ায় চিকিৎসকেরা তাকে বিশেষ মোজা (কমপ্রেশন মোজা) পরার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প তা পরতে রাজি হননি। এর বদলে তিনি ডেস্কে বসে থাকার চেয়ে বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকছেন, যা তার পায়ের ফোলা ভাব কমাতে সহায়তা করেছে। গলফ ছাড়া অন্য কোনো ব্যায়াম তার পছন্দ নয় বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, 'ট্রেডমিলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটা বা দৌড়ানো আমার জন্য নয়।'
বিভিন্ন ছবিতে হাতে কালশিটে দাগ দেখা যাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, এখন তিনি সঙ্গে মেকআপ রাখেন, যাতে দাগ পড়লে সহজেই ঢেকে দেওয়া যায়। তার দাবি, এই মেকআপ ব্যবহার করা খুব সহজ এবং এতে মাত্র ১০ সেকেন্ড সময় লাগে। জনসমক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি আসলে মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নেন। ক্যামেরায় চোখের পলক পড়ার দৃশ্য ধরা পড়লে সেটিকে ঘুম ভেবে নেওয়া হতে পারে।
ট্রাম্পের চিকিৎসক শন বারবাবেলা দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প 'অসাধারণ' স্বাস্থ্যের অধিকারী এবং দেশ পরিচালনার জন্য তিনি পুরোপুরি উপযুক্ত। উল্লেখ্য, বয়স ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে বিতর্কের জেরে ট্রাম্পের পূর্বসূরি জো বাইডেন নির্বাচনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।
