তারেক রহমানের ফেরা: ৩০০ ফিটে প্রস্তুত হচ্ছে মঞ্চ, ঢাকায় নেমে দেখতে যাবেন খালেদাকে
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে বিএনপি। রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় চলছে এই আয়োজনের প্রস্তুতি, জোরেশোরে চলছে মঞ্চ তৈরির কার্যক্রম।
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ইতোমধ্যে দলটির বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন। দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে তারা নিজ উদ্যোগে বাস, ট্রাক ও মাইক্রোবাস ভাড়া করছেন।
আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) মঞ্চ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর কুড়িল থেকে সংবর্ধনা মঞ্চের পরবর্তী অংশ পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে তারেক রহমানকে স্বদেশে স্বাগত জানিয়ে লাগানো হয়েছে ব্যানার-ফেস্টুন। আর কুড়িল মোড় থেকে বেশ খানিকটা দূরে সড়কের উত্তর অংশে দক্ষিণমুখী করে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুটের বিশাল মঞ্চ। ইতোমধ্যে মঞ্চের মূল কাঠামোর কাজ শেষ। এখন শুধু সাজসজ্জার কাজ বাকি।
এছাড়া, মঞ্চের দুই পাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টে লাগানো হয়েছে মাইক।
উল্লেখ্য, তারেক রহমান ২০০৭ সালে এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার হন। ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান। এর পর থেকে তিনি সেখানেই আছেন।
দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরছেন তারেক। আগামীকাল বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে তারেক রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে সিলেট হয়ে তিনি ঢাকায় আসবেন।
বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সেখান থেকে বনানী ও কাকলী হয়ে সরাসরি ৩০০ ফিট এলাকায় সংবর্ধনা স্থলে যাবেন তিনি।
সংবর্ধনার মঞ্চে তারেক রহমানের সঙ্গে থাকবেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। অনুষ্ঠান শেষে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন। পরে গুলশানে মায়ের বাসভবনে যাবেন।
মঞ্চের আশেপাশে বাড়ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভিড়
সরেজমিনে গিয়ে কুড়িল সংলগ্ন সংবর্ধনা মঞ্চের সামনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতি দেখা গেছে। তাদের কেউ কেউ মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে ফেসবুক লাইভ করছেন, আবার কেউবা 'মা-মাটি ডাকছে, তারেক রহমান আসছে', 'বীরের বেশে তারেক রহমান, আসবে এবার বাংলাদেশে'— এরকম নানা স্লোগান দিচ্ছেন।
সেখানে উপস্থিত গাজীপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সদস্য এম এ রাজ্জাক চৌধুরী বলেন, "দীর্ঘ ১৭ বছর পর আমাদের নেতা তারেক রহমান দেশে ফিরছেন। আমরা খুবই আনন্দিত। গত ১৫ বছর ধরে আমরা জেল, জুলুমের স্বীকার হয়েছি। ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে আমরা নির্যাতনের স্বীকার হয়েছি। নিশ্চয়ই এর থেকে মুক্তি পাওয়া আমাদের জন্য আনন্দের। আমরা গাজীপুর থেকে এসেছি৷ আজ রাতে আমরা থাকবো।"
প্রত্যাশার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমরা দীর্ঘ দুঃশাসন কাটিয়েছি। আশা করবো একটি সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিএনপি সরকার গঠন করবে। বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। আমরা দেশের জন্য কাজ করবো।"
রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্লাহ খাজা বলেন, "ওয়ান-ইলেভেন সরকারের নির্যাতনের স্বীকার হয়ে আমাদের প্রিয় নেতা বিদেশে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন। এরপর ফ্যাসিস্ট সরকার ও তার দোসররা তাকে দেশে ফিরতে দেয়নি। তারেক রহমানকে দেশে ফিরতে না দেয়ার জন্য অনেক অপচেষ্টা করেছে। হাসিনা বলেছিলো, 'তারেক তুমি দেশে এসে দেখাও।' এখন আমি বলবো, 'হাসিনা আমাদের নেতা আসছে, তুমি পারলে ঠেকাও।'"
তিনি বলেন, "বাংলার জনগণ উন্মুখ হয়ে আছে তারেক রহমানের জন্য। আগামীকাল দেশে জাগরণ তৈরি হবে। আমরা চাই আগামীর সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠন করবে জাতীয়তাবাদী দল।"
বাঘাইছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিন্নাত তালুকদার বলেন, "আমরা গতকাল রাঙামাটি থেকে নেতা-কর্মীরা চলে এসেছি আমাদের নেতাকে বরণ করে নিতে। আমরা থাকবো এখানে। অনেক খুশি লাগছে। তারেক রহমানকে নিয়ে অনেক চক্রান্ত হয়েছে। সকল চক্রান্ত ধুলিস্যাৎ করে আমাদের নেতা আমাদের মাঝে ফিরছেন।"
