Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Sunday
March 29, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
SUNDAY, MARCH 29, 2026
‘মেধাবী গোষ্ঠী’ নির্মূল: যেভাবে ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য বানিয়েছিল ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
18 December, 2025, 09:25 am
Last modified: 18 December, 2025, 09:27 am

Related News

  • ইরান যুদ্ধকে ঘিরে বিশ্ববাজারে তীব্র সার সংকটের আশঙ্কা
  • ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ: ইরানে হামলার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ট্রাম্পবিরোধী মিছিল-সমাবেশ
  • পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে ইরান
  • যুক্তরাষ্ট্র ‘শিগগিরই’ ইরান থেকে বেরিয়ে আসবে: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট
  • সৌদির বিমান ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় গত সপ্তাহে অন্তত ২৯ মার্কিন সেনা আহত

‘মেধাবী গোষ্ঠী’ নির্মূল: যেভাবে ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য বানিয়েছিল ইসরায়েল

১৩ জুন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার ১২ দিনের যুদ্ধের শুরুর মুহূর্তে তেহরানের বিভিন্ন অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক ও বাড়িঘরে ইসরায়েলি হামলা শুরু হয়। ইরানের শীর্ষ পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত ‘অপারেশন নার্নিয়া’র সেদিনই সূচনা ঘটে।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
18 December, 2025, 09:25 am
Last modified: 18 December, 2025, 09:27 am
ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানী পরমাণু বিজ্ঞানিদের ছবি সম্বলিত ব্যানার। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের প্রস্তুতি ছিল প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। ইরানের মাটিতে অবস্থান করছিল ইসরায়েলের বহু প্রশিক্ষিত এজেন্ট, যাদের হাতে ছিল অত্যাধুনিক অস্ত্র। ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলার জন্য ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর পাইলটরা আদেশের অপেক্ষায় ছিলেন।

তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কতটা কাছাকাছি পৌঁছেছে—এ বিষয়ে ইসরায়েল এবং তাদের প্রধান সমর্থক যুক্তরাষ্ট্র মোটামুটি একমত হয়েছিল। একই সঙ্গে আসন্ন হামলার বিষয়টি ইরানের কাছ থেকে গোপন রাখতে চলছিল নানা কূটনৈতিক কৌশল।

তবে ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানতেন, ইরানের বিশাল পারমাণবিক কর্মসূচিকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইলে শুধু স্থাপনা ধ্বংস করলেই হবে না; তাদের তথাকথিত 'মেধাবী গোষ্ঠী'—অর্থাৎ বিজ্ঞানীদেরও নির্মূল করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের বিশ্বাস ছিল, ইরানের এসব প্রকৌশলী ও পদার্থবিদ গোপনে ফিসাইল নিউক্লিয়ার উপাদানকে পারমাণবিক বোমায় রূপান্তরের কাজে যুক্ত ছিলেন।

১৩ জুন ভোর ৩টা ২১ মিনিটের দিকে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার ১২ দিনের যুদ্ধের শুরুর মুহূর্তে তেহরানের বিভিন্ন অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক ও বাড়িঘরে ইসরায়েলি হামলা শুরু হয়। ইরানের শীর্ষ পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত 'অপারেশন নার্নিয়া'র সেদিনই সূচনা ঘটে।

তাত্ত্বিক পদার্থবিদ ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ মেহেদি তেহরানচি—যিনি পারমাণবিক অস্ত্রসংক্রান্ত কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত ছিলেন—তেহরানের 'প্রফেসরস কমপ্লেক্স' ভবনের ষষ্ঠ তলায় নিজের ফ্ল্যাটে নিহত হন। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর তেহরানেই আরেক হামলায় নিহত হন পারমাণবিক পদার্থবিদ ফেরেইদুন আব্বাসি। তিনি একসময় ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন। ইসরায়েলের দাবি, ১৩ জুন এবং পরবর্তী দিনগুলোতে তারা মোট ১১ জন জ্যেষ্ঠ ইরানি পরমাণু বিজ্ঞানীকে হত্যা করেছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যাপক ও বহুমুখী হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলে। এর জেরে ইরান প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয় এবং তেহরানের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চুক্তির সম্ভাবনা আপাতত ভেস্তে যায়।

পিবিএসের 'ফ্রন্টলাইন'-এর সঙ্গে যৌথভাবে ওয়াশিংটন পোস্ট এই হামলার পরিকল্পনা, এর পেছনের কারণ এবং ইরানে এর প্রভাব নিয়ে নতুন তথ্য উন্মোচন করেছে। প্রতিবেদনটি বর্তমান ও সাবেক একাধিক ইসরায়েলি, ইরানি, আরব ও মার্কিন কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং গোপন অভিযান ও মূল্যায়নের বর্ণনা দিতে গিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়েছেন।

ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম সম্ভবত কয়েক বছর পিছিয়ে গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির মতো ইরানের কর্মসূচি 'সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস' হয়ে গেছে—বাস্তবতা তা নয়।

ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বেসামরিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য, অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যে নয়। দেশটি এখনো সেই অবস্থানে অনড় রয়েছে।

নিহত বিজ্ঞানী মোহাম্মদের ভাই আমির তেহরানচি ফ্রন্টলাইনকে বলেন, তার ভাইয়ের কাজ থেমে যাবে না। তিনি বলেন, 'এই অধ্যাপকদের হত্যা করে হয়তো তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাদের জ্ঞান আমাদের দেশ থেকে মুছে যায়নি।'

ইসরায়েল অতীতেও ইরানি বিজ্ঞানীদের হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, তবে প্রতিবারই তারা দায় স্বীকার এড়িয়ে গেছে বা অস্বীকারের সুযোগ রেখেছে। তেহরানের যানজটে মোটরসাইকেলে করে আসা এজেন্টরা বিজ্ঞানীদের গাড়িতে চৌম্বক বোমা লাগিয়ে দিত। ২০১০ সালে এমনই এক হামলা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান আব্বাসি। পরে ২০২০ সালে ইরানের রাজধানীর বাইরে এক অতর্কিত হামলায় রিমোট-কন্ট্রোলড মেশিনগানের গুলিতে নিহত হন বিশিষ্ট পারমাণবিক বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহ।

কিন্তু জুনের অভিযানে ইসরায়েল আর আড়ালে থাকেনি; তাদের ভূমিকা প্রকাশ্যে সামনে আসে। গাজা উপত্যকা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইরান-সমর্থিত প্রক্সি বাহিনীর ওপর প্রকাশ্য হামলার পর তারা আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল।

ইরানের ওপর হামলার পরিকল্পনায় সহায়তাকারী ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর এক জেনারেল বলেন, 'অবশেষে কাজটি সম্পন্ন করার জন্য আমরা একটি অপারেশনাল সুযোগ পেয়েছিলাম।'

'অপারেশন নার্নিয়া'র জন্য ইসরায়েলি গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০০ জন পারমাণবিক বিজ্ঞানীর একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করেছিলেন। পরে একাধিক ধাপে যাচাই-বাছাই ও কাটছাঁটের মাধ্যমে সেই তালিকা কমিয়ে আনা হয় প্রায় এক ডজনে। কয়েক দশকের সংগৃহীত গুপ্তচরবৃত্তির তথ্য কাজে লাগিয়ে ওই বিজ্ঞানীদের প্রত্যেকের কাজের ধরন, চলাচলের রুট এবং বাসস্থানের ওপর ভিত্তি করে বিস্তারিত নথিপত্র তৈরি করা হয়।

তবে অভিযানটি পুরোপুরি নিখুঁত ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য পোস্ট' এবং ওপেন-সোর্স অনুসন্ধানী প্ল্যাটফর্ম 'বেলিংক্যাট' স্বাধীনভাবে যাচাই করে দেখেছে, পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে চালানো পাঁচটি হামলায় অন্তত ৭১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। স্যাটেলাইট চিত্র, ভিডিওর জিওলোকেশন (অবস্থান শনাক্তকরণ), মৃত্যুসংবাদ, কবরস্থানের নথি এবং ইরানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত জানাজার খবর বিশ্লেষণ করে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

দ্য পোস্ট ও বেলিংক্যাট নিশ্চিত করেছে, তেহরানের সাদাত আবাদ এলাকার 'প্রফেসরস কমপ্লেক্স'-এ চালানো এক হামলায় দুই মাস বয়সী এক শিশুসহ মোট ১০ জন বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারান। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ, বিস্ফোরণের ভিডিও ও স্থিরচিত্র এবং ভবনের কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ওই বিস্ফোরণের তীব্রতা ছিল প্রায় ৫০০ পাউন্ড ওজনের বোমার সমান।

হামলার শুরুর দিকে ইসরায়েল তেহরানে আরেক বিজ্ঞানী মোহাম্মদ রেজা সিদ্দিকি সাবেরের বাসভবনে তাকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। সে সময় সাবের বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না, তবে হামলায় তার ১৭ বছর বয়সী ছেলে নিহত হয়।

সংঘাতের শেষ দিন অর্থাৎ ২৪ জুন রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ২০০ মাইল দূরে গিলান প্রদেশের আস্তানেহ-ইয়ে আশরাফিয়েহ শহরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী সাবের নিহত হন। সরকারি প্রতিশোধের আশঙ্কায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা দ্য পোস্টকে জানান, ছেলের শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে সাবের তার পৈতৃক বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন এবং সেখানেই অন্যান্য আত্মীয়দের সঙ্গে তিনি নিহত হন। দ্য পোস্টের যাচাইকৃত তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় চারজন অপ্রাপ্তবয়স্কসহ মোট ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান। হামলায় দুটি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং ভবন দুটি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, সেখানে তৈরি হয় বিশাল দুটি গর্ত।

ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এড়াতে তারা সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, 'অপারেশন নার্নিয়ার পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয় ছিল সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি বা কোল্যাটারাল ড্যামেজ যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা।'

ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড সদর দপ্তরের চিফ অব স্টাফ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এলাদ এদরি জানান, ইরানের পাল্টা হামলায় স্কুল, হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে ৩১ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। অপরদিকে ইরান সরকারের এক মুখপাত্র জুলাই মাসে জানান, ইসরায়েলি হামলায় মোট ১ হাজার ৬২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৭৬ জন ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।

বিশেষ অস্ত্র ও স্লিপার এজেন্ট

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল তাদের এই ব্যাপক অভিযানের নাম দিয়েছিল 'রাইজিং লায়ন'। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন, ইরানের ভেতরে অবস্থানরত এজেন্টদের সহযোগিতায় দেশটির ব্যালিস্টিক মিসাইল লঞ্চারের অর্ধেকের বেশি ধ্বংস করে দেয় এবং অবশিষ্ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও কার্যত তছনছ করে ফেলে। এই হামলায় ইরানের সামরিক বাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ নিহত বা নির্মূল হয়। নাতাঞ্জ ও ফোরদোতে অবস্থিত ইরানের প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোতে সেন্ট্রিফিউজ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভেন্টিলেশন ব্যবস্থায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে বোমা বর্ষণ করা হয়। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্পিরিট স্টিলথ বোমারু বিমান দিয়ে ব্যাপক হামলা চালানো হয় এবং ঝাঁকে ঝাঁকে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, ইরানের ভেতরে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তাদের শতাধিক ইরানি এজেন্টকে সক্রিয় করেছিল। সামরিক স্থাপনায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য এদের কয়েকজনকে তিন অংশবিশিষ্ট একটি 'বিশেষ অস্ত্র' দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছিল।

ওই জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ কিছু লঞ্চার উদ্ধার করতে পারলেও সংশ্লিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র বা ওই অস্ত্রের গোপন তৃতীয় অংশটি খুঁজে পায়নি।

হামলার পর ইরানের ফোরদো পারমাণবিক কেন্দ্রের স্যাটেলাইট চিত্র। ছবি: রয়টার্স

এই ইরানি এজেন্টদের দলগুলোকে ইসরায়েলসহ বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। তাদের কেবল নির্দিষ্ট মিশনের কথা জানানো হয়েছিল; ইসরায়েল যে এত বড় পরিসরের প্রস্তুতি নিচ্ছে, সে বিষয়ে তাদের অবহিত করা হয়নি। ওই কর্মকর্তা বলেন, 'এই অভিযান ইতিহাসে নজিরবিহীন। [ইসরায়েলি] বিমান বাহিনী ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই আমরা তেহরানের একেবারে কাছাকাছি গিয়ে স্থল অভিযান শুরু করতে আমাদের নিজস্ব সম্পদ ও এজেন্টদের কাজে লাগিয়েছি।'

ইসরায়েল কয়েক দশক ধরেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা বিবেচনা করে আসছিল। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যখন ইসরায়েলের শত্রুদের ধ্বংস করার নির্দেশ দেন, তখন একে একে সম্ভাব্য বাধাগুলো সরে যেতে থাকে।

হামাসের ওই হামলায় প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত হয়, যার পর ইসরায়েল গাজা উপত্যকা অবরুদ্ধ করে ফেলে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ইসরায়েলি অভিযানে হামাসের সামরিক শাখা ধ্বংস হয়ে যায় এবং ৭০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন। তেহরানের আরও শক্তিশালী প্রক্সি বা প্রতিনিধি বাহিনী হিজবুল্লাহকেও লেবাননজুড়ে ধারাবাহিক বিমান হামলার মাধ্যমে কোণঠাসা করে ফেলা হয়। একই সঙ্গে মোসাদের এক বিস্ময়কর অভিযানে সংগঠনটির ব্যবহৃত পেজারের ভেতরে লুকিয়ে রাখা বিস্ফোরক দিয়ে হামলা চালানো হয়। হিজবুল্লাহর দীর্ঘদিনের নেতা হাসান নাসরুল্লাহ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন।

কর্মকর্তাদের মতে, আরও কয়েকটি ঘটনাপ্রবাহ ইসরায়েলের পরিকল্পনাকে দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে ঠেলে দেয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইরানের দীর্ঘদিনের মিত্র সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারের পতন ঘটে। এই ক্ষমতার শূন্যতার সুযোগ নেয় ইসরায়েল। তারা শত শত বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সিরিয়ার অবশিষ্ট সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দেয় এবং দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি কৌশলগত এলাকা দখলে নেয়।

এদিকে, দুই পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘাত চলতেই থাকে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানি দূতাবাস ভবনে ইসরায়েলের হামলায় তিনজন শীর্ষ ইরানি কমান্ডার নিহত হন। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এরপর ওই বছরের অক্টোবরে তেহরানে হামাসের রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়াকে হত্যার পর ইরান আবারও হামলা শুরু করে। পাল্টা জবাবে ইসরায়েল বিমান হামলা চালায় এবং ইরানের নিক্ষিপ্ত অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করে, যা তেহরানের ভবিষ্যৎ প্রতিশোধমূলক সক্ষমতাকে অনেকটাই ভোঁতা করে দেয়। এই দ্বিতীয় দফার সংঘাতে ইসরায়েল রাশিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক এস-৩০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়, যা 'রাইজিং লায়ন' অপারেশনের সময় তাদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারত।

ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর এক জেনারেল জানান, হিজবুল্লাহর বিনাশ এবং আসাদের পতন ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি বলেন, 'বছরের পর বছর ধরে পরিকল্পনা বদলেছে, কিন্তু ওই দুটি ঘটনার পরই তা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট রূপ নেয়।'

পারমাণবিক জটিলতা

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প—উভয়ের শাসনামলেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এ বিষয়ে ঐকমত্য ছিল যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে। তবে ইরানি বিজ্ঞানীরা বাস্তবে কী করছেন এবং তার প্রকৃত তাৎপর্য কী—এ নিয়ে দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্লেষণে মাঝে মাঝে মতভেদ দেখা দিত।

২০২৩ সাল থেকে সিআইএ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করে যে, ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন 'এসপিএনডি' নামের একটি ইউনিটের গবেষকেরা দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপায় খুঁজছিলেন। তবে বিষয়টি নির্ভর করছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ২০০৩ সালে পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে দেওয়া তার 'ফতোয়া' প্রত্যাহার করবেন কি না, তার ওপর।

সিআইএ-এর মূল্যায়ন ছিল, ইরানিরা একটি অপরিশোধিত বা প্রাথমিক মানের পারমাণবিক বোমা নিয়ে গবেষণা করছিল, যা তাদের হাতে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে তৈরি করতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগতে পারত। এই ধরনের প্রাথমিক বোমা আগে থেকে পরীক্ষা করা বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে দূরপাল্লায় নিক্ষেপ করা সম্ভব ছিল না। তবে এটি তৈরি ও ব্যবহার করা হলে তা নিঃসন্দেহে ধ্বংসাত্মক হতো।

একই সঙ্গে ইরানিরা 'ফিউশন ওয়েপন' বা আরও উন্নত ও শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা নিয়েও গবেষণা চালাচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা একমত ছিলেন যে, ফিউশন বোমা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও তা আপাতত ইরানের সক্ষমতার বাইরে।

হামলার পর ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রের স্যাটেলাইট চিত্র। ছবি: রয়টার্স

২০১৮ সালে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসার পর ইরান উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়ায়। সিআইএ বা মোসাদ—কেউই বিশ্বাস করত না যে ইরান ইতোমধ্যে বোমা তৈরির কাজ শুরু করেছে। তবে ২০২৫ সালের বসন্ত নাগাদ ইসরায়েলি বিশ্লেষকেরা আর নিশ্চিত থাকতে পারছিলেন না যে খামেনি প্রকাশ্যে তার ফতোয়া পরিবর্তনের ঘোষণা দেবেন কি না, কিংবা ইরান অস্ত্র সংযোজন শুরু করলে তা সময়মতো শনাক্ত করা যাবে কি না।

'অপারেশন রাইজিং লায়ন' শুরুর ঠিক আগের দিন, ১২ জুন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ঘোষণা দেয় যে তেহরান তার পারমাণবিক বিস্তার রোধসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে। গত ২০ বছরের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে এটিই ছিল এ ধরনের প্রথম অভিযোগ।

কূটনীতি ও বিভ্রান্তির খেলা

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই প্রথম বিদেশি নেতা হিসেবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে তিনি ইরানে হামলার চারটি সম্ভাব্য রূপরেখা তুলে ধরেন। বিষয়টি ব্যক্তিগত কূটনৈতিক আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী প্রথমে ট্রাম্পকে দেখান—ইসরায়েল যদি এককভাবে ইরানে হামলা চালায়, তাহলে সেটি দেখতে কেমন হতে পারে। দ্বিতীয় বিকল্পে ইসরায়েল নেতৃত্বে থাকবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা থাকবে ন্যূনতম। তৃতীয় রূপরেখায় ছিল দুই মিত্রের পূর্ণ সহযোগিতায় হামলা। আর শেষ বিকল্পটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সামরিক অভিযান।

এরপর মাসের পর মাস ধরে গোপনে ও নিবিড়ভাবে কৌশলগত পরিকল্পনা চলতে থাকে। ট্রাম্প একদিকে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক কূটনীতিকে একটি সুযোগ দিতে চেয়েছিলেন, অন্যদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও অপারেশনাল পরিকল্পনাও অব্যাহত রাখেন বলে এ বিষয়ে অবগত দুজন ব্যক্তি জানিয়েছেন। তাদের একজন বলেন, 'ভাবনাটা ছিল এমন—যদি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তাহলে যেন হামলার জন্য আমরা প্রস্তুত থাকি।'

ইসরায়েলি নেতারা মনে করতেন, শেষ পর্যন্ত ইরানে হামলা চালাতে হলে বিশ্ব জনমতের কথা বিবেচনায় রেখে আগে কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়া জরুরি। তবে একই সঙ্গে তাদের শঙ্কা ছিল—চুক্তির জন্য অতিমাত্রায় আগ্রহী ট্রাম্প হয়তো কোনো দুর্বল বা অপ্রত্যাশিত চুক্তিতে রাজি হয়ে যেতে পারেন।

এপ্রিলের মাঝামাঝি ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন। ১২ জুন সেই সময়সীমা শেষ হয়। এরপর কী ঘটতে যাচ্ছে—সে বিষয়ে ইরানকে অপ্রস্তুত ও অন্ধকারে রাখতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু নানা কৌশল গ্রহণ করেন।

১২ জুন ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানে ইসরায়েলি হামলা 'খুব সম্ভবত ঘটতে পারে', তবে একই সঙ্গে তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ইঙ্গিতও দেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়ান যে, নেতানিয়াহুর শীর্ষ উপদেষ্টা রন ডার্মার ও মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়া শিগগিরই মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি ১৫ জুন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক আলোচনার নতুন তারিখও নির্ধারণ করা হয়।

বাস্তবে অবশ্য ইসরায়েল হামলার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়ে ফেলেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র তা ভালোভাবেই জানত। এই পরিকল্পিত কূটনীতি ছিল মূলত একটি ফাঁদ বা ধোঁয়াশা তৈরির কৌশল। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতানৈক্য বা ফাটল দেখা দিয়েছে—এমন ধারণা ছড়াতে দুই দেশের কর্মকর্তারাই সংবাদমাধ্যমকে উৎসাহিত করেছিলেন।

বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত ওই ব্যক্তি নেতানিয়াহুর ডাকনাম ব্যবহার করে বলেন, 'উইটকফ বা ট্রাম্পের সঙ্গে বিবির (নেতানিয়াহু) মতের মিল নেই—এমন যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছিল, সেগুলো সত্য ছিল না। তবে মানুষ তা বিশ্বাস করায় ভালোই হয়েছে। এতে লোকচক্ষুর আড়ালে পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া সহজ হয়েছে।'

এমনকি ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ ও গুপ্তহত্যা অভিযান শুরু হওয়ার পরও ট্রাম্প প্রশাসন শেষবারের মতো একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়। পারমাণবিক অচলাবস্থা নিরসনে তারা গোপনে ইরানের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠায়। তবে ইরান জানত না যে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার অনুমোদন দেওয়ার আগে এটিই ছিল তাদের জন্য শেষ সুযোগ।

'দ্য পোস্ট'-এর হাতে আসা ওই প্রস্তাবিত চুক্তির শর্তগুলো ছিল অত্যন্ত কঠোর এবং আগে কখনো প্রকাশ্যে আসেনি। এতে বলা হয়েছিল, তেহরানকে হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো প্রক্সি বা প্রতিনিধি বাহিনীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ফোরদো ফুয়েল এনরিচমেন্ট প্ল্যান্ট এবং 'অন্য যেকোনো সক্রিয় স্থাপনা'র পরিবর্তে এমন বিকল্প স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে, যেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্ভব নয়। ১৫ জুন তারিখের ওই প্রস্তাবে বলা হয়, এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।

কাতারি কূটনীতিকদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি ইরানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে। প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জানান, এর পরপরই ট্রাম্প মার্কিন হামলার অনুমোদন দেন।

'আবিষ্কার তো আর কেড়ে নেওয়া যায় না'

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষতি পুরোপুরি না হলেও তা ছিল অত্যন্ত গুরুতর। এর ফলে কর্মসূচিটি কয়েক বছর পিছিয়ে গেছে এবং আপাতত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা ইরানের নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

নভেম্বরে স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে 'ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি' প্রকাশিত এক মূল্যায়নে বলা হয়, 'সামগ্রিকভাবে বিমান হামলায় বহু পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে যা ছিল বিপর্যয়কর।'

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের কর্মসূচি 'উল্লেখযোগ্যভাবে বিলম্বিত' হয়েছে। হামলায় নাতাঞ্জ সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে, ইসফাহান পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রের একটি অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে এবং মাটির গভীরে অবস্থিত ফোরদো সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আইএইএ-এর মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি 'ফ্রন্টলাইন'-কে বলেন, ক্ষতির মাত্রা 'খুবই বেশি'। তিনি জানান, ইরানের কাছে এখনো প্রায় ৯০০ পাউন্ড ওজনের ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ রয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতা থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে। গ্রসির ভাষায়, এই মজুদ মূলত ইসফাহান, ফোরদো ও নাতাঞ্জেই রয়েছে। তবে হামলার পর থেকে আইএইএ পরিদর্শকদের প্রধান প্রধান স্থাপনায় প্রবেশ করতে না দেওয়ায়, ইরান বর্তমানে এসব উপাদান ব্যবহার করতে পারছে কি না—তা স্পষ্ট নয়।

গ্রসি বলেন, 'স্বাভাবিকভাবেই কোনো স্থানে সরাসরি না গিয়ে সেখানকার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করলে তা আংশিকই হতে বাধ্য।'

দ্য পোস্ট সেপ্টেম্বরে জানিয়েছিল, ১২ দিনের যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে ইরান নাতাঞ্জের ঠিক দক্ষিণে 'পিক্যাক্স মাউন্টেন' নামে পরিচিত একটি রহস্যময় ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় নির্মাণকাজ জোরদার করেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্লেষকেরা দ্য পোস্টকে জানান, চীনের সহায়তায় ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার পুনর্গঠনের চেষ্টাও চালাচ্ছে।

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি আবার উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করে, তবে নতুন করে হামলা চালানো হবে।

জুনের যুদ্ধের পর বিদেশি গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি 'ফ্রন্টলাইন'-কে বলেন, তিনি এতে বিচলিত নন। তিনি বলেন, 'ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কখনোই সম্পূর্ণ ধ্বংস করা সম্ভব নয়। কারণ একবার কোনো প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়ে গেলে, সেই জ্ঞান আর কেড়ে নেওয়া যায় না।'

Related Topics

টপ নিউজ

ইরান / পরমাণু বিজ্ঞানী / ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ / অপারেশন নার্নিয়া

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • জেরুজালেমে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (ডানে) এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: মার্ক ই সরায়েল সেলেম/পুল
    ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে বাড়িয়ে বলায় ফোনে নেতানিয়াহুকে তিরস্কার ভ্যান্সের
  • ইরানের সঙ্গে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি সংঘাতের মাঝেই ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত লেবাননের একটি শহর। ছবি: রয়টার্স
    এফবিআই পরিচালকের ব্যক্তিগত ই-মেইল হ্যাক, অনলাইনে কিছু অংশ প্রকাশ করেছে ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা
  • ছবি: সৌজন্যে
    পল্লবীতে যুবদল নেতা হত্যা: বিদেশ যাওয়ার কাগজপত্র করতে এসে ধরা পড়লেন ২ শ্যুটার
  • যাত্রাপথে জ্বালানিবাহী ট্যাংকার রং লিন ওয়ান। ছবি: শিপনেক্সট ডটকম
    মধ্যপ্রাচ্যের জেট ফুয়েল সরবরাহে ‘এয়ার গ্যাপ’, সংকট পৌঁছাতে যাচ্ছে চূড়ান্ত পর্যায়ে
  • ছবি: টিবিএস
    জ্বালানি তদারকি শক্তিশালী করতে দেশের সব পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিচ্ছে সরকার

Related News

  • ইরান যুদ্ধকে ঘিরে বিশ্ববাজারে তীব্র সার সংকটের আশঙ্কা
  • ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ: ইরানে হামলার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ট্রাম্পবিরোধী মিছিল-সমাবেশ
  • পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে ইরান
  • যুক্তরাষ্ট্র ‘শিগগিরই’ ইরান থেকে বেরিয়ে আসবে: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট
  • সৌদির বিমান ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় গত সপ্তাহে অন্তত ২৯ মার্কিন সেনা আহত

Most Read

1
জেরুজালেমে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (ডানে) এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: মার্ক ই সরায়েল সেলেম/পুল
আন্তর্জাতিক

ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে বাড়িয়ে বলায় ফোনে নেতানিয়াহুকে তিরস্কার ভ্যান্সের

2
ইরানের সঙ্গে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি সংঘাতের মাঝেই ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত লেবাননের একটি শহর। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

এফবিআই পরিচালকের ব্যক্তিগত ই-মেইল হ্যাক, অনলাইনে কিছু অংশ প্রকাশ করেছে ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা

3
ছবি: সৌজন্যে
বাংলাদেশ

পল্লবীতে যুবদল নেতা হত্যা: বিদেশ যাওয়ার কাগজপত্র করতে এসে ধরা পড়লেন ২ শ্যুটার

4
যাত্রাপথে জ্বালানিবাহী ট্যাংকার রং লিন ওয়ান। ছবি: শিপনেক্সট ডটকম
আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যের জেট ফুয়েল সরবরাহে ‘এয়ার গ্যাপ’, সংকট পৌঁছাতে যাচ্ছে চূড়ান্ত পর্যায়ে

5
ছবি: টিবিএস
বাংলাদেশ

জ্বালানি তদারকি শক্তিশালী করতে দেশের সব পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিচ্ছে সরকার

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net