কৃষি ও কৃষককে অবহেলা করে উন্নয়ন নয়: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও শিল্পোন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার পথে কৃষি ও কৃষকদের পেছনে ফেলে রাখবে না আওয়ামী লীগ সরকার।
বুধবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কৃষকলীগের ১০ম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা উন্নত হবো, তবে আমরা আমাদের কৃষক ও কৃষিকে বাদ না দিয়ে আমরা শিল্পোন্নত হয়ে উঠবো।”
শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে কৃষকদের অধিকার রক্ষা করা। কারণ, খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ করে কৃষিই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি উন্নয়নে কৃষকদের স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।
“১ হাজার ২৭ কোটি টাকার প্রণোদনা দিচ্ছে কৃষিখাতে। এই প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৮ লক্ষ ১৩ হাজার ২৭৭ জন কৃষককে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঋণ বিতরণে অনিয়ম যেন না হয় তাই কৃষকদের জন্য ব্যাংকে ১০ টাকার হিসাব খোলার সুবিধা দিচ্ছে সরকার। এর ফলে সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮২ কোটি টাকা।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সর্বভারতী কিষাণ সভার সাধারণ সম্পাদক অতুল কুমার অঞ্জন, কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহের হোসেন মোল্লা এবং সম্পাদক খন্দকার শামসুল হক রেজা।
এর আগে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে কৃষক লীগের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাংগঠনিক প্রতিবেদন পাঠ করেন এবং দপ্তর সম্পাদক নাজমুল ইসলাম পাটোয়ারী শোক প্রস্তাব পাঠ করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১৯ এপ্রিল “কৃষক বাঁচাও ,দেশ বাঁচাও” এই স্লোগান নিয়ে বাংলাদেশ কৃষকলীগ প্রতিষ্ঠা করেন।
আবদুর রব সেরনিয়াবাত ছিলেন কৃষকলীগের প্রথম সভাপতি। তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞের অন্যতম শহীদ।
বাংলাদেশ কৃষক লীগের সর্বশেষ কাউন্সিল ২০১২ সালে ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মোতাহের হোসেন মোল্লা এবং খন্দকার শামসুল হক রেজা যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
