প্রয়োজনে শহরে বিদ্যুৎ বন্ধ রেখে ফসলের মাঠে সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
কৃষকের ফসলের মাঠে নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা নিশ্চিতে প্রয়োজনে শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে যশোর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণার কথা জানান।
ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ উপলক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সেচ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'প্রয়োজনে শহরের গ্রাহকরা বিদ্যুৎহীন থাকবে কিন্তু গ্রামে কৃষকের ফসলের মাঠে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। যাতে কোনভাবেই তাদের সেচের ক্ষতি না হয়। কৃষকদের প্রতি বর্তমান সরকারের যে অঙ্গীকার, যে জবাবদিহিতা রয়েছে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবার জন্য আমরা সচেষ্ট রয়েছি।'
কৃষিবান্ধব নতুন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, 'আগামী ১৪ এপ্রিল অর্থাৎ পহেলা বৈশাখের দিন পরীক্ষামূলকভাবে ১০টি জেলায় কৃষক কার্ডের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। দেশের কৃষকদের প্রতি, জনগণের প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যে অঙ্গীকার রয়েছে সেগুলো একে একে বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।'
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সত্ত্বেও দেশের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সারা পৃথিবীতে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তারপরও একমাত্র কৃষকদের কথা বিবেচনা করে আমাদের সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেনি।'
অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন জানান, এদিন জেলার ৩ হাজার ৪০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে ১ কেজি করে পাটের বীজ, ৫ কেজি এমওপি এবং ৫ কেজি ডিওপি সার বিতরণ করা হয়েছে।
যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন। অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসা. রাজিয়া সুলতানা এবং প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন।
