Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Sunday
March 29, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
SUNDAY, MARCH 29, 2026
পীর, ক্রিকেটার ও গুপ্তচর: পাকিস্তানের ক্ষমতার লড়াইয়ের 'গেম অভ থ্রোনস'

আন্তর্জাতিক

দ্য ইকোনমিস্ট
16 November, 2025, 12:40 pm
Last modified: 16 November, 2025, 12:51 pm

Related News

  • এক ঘণ্টার বেশি ফোনালাপ: পেজেশকিয়ানকে যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়ে অবগত করলেন শাহবাজ
  • হরমুজ প্রণালি দিয়ে পাকিস্তানের আরও ২০ জাহাজ যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান
  • ইরান যুদ্ধ বন্ধে কূটনীতি: সৌদি, তুরস্ক ও মিশরকে নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করছে পাকিস্তান
  • একাত্তর: কার্টুন যখন হাতিয়ার
  • যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান; সঙ্গে আছে তুরস্ক, মিসর: ইসহাক দার

পীর, ক্রিকেটার ও গুপ্তচর: পাকিস্তানের ক্ষমতার লড়াইয়ের 'গেম অভ থ্রোনস'

পাকিস্তানের রাজনীতি যেন নেটফ্লিক্সের কোনো সিরিজ। ক্ষমতা জেতার চেয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা বেশি কঠিন। এখানে অভ্যুত্থান, গুপ্তহত্যা এবং সময়ে সময়ে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি—সবই আছে। নেতাদের যেভাবে ক্ষমতায় বসানো হয়, তেমনি নির্দয়ভাবে ক্ষমতাচ্যুত করতে মুহূর্তও লাগেনা সেখানে । 
দ্য ইকোনমিস্ট
16 November, 2025, 12:40 pm
Last modified: 16 November, 2025, 12:51 pm
ছবি: দ্য ইকোনমিস্ট

১৯৯২ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে জয়ী করার পর থেকে দেশটির ঘরে ঘরে পরিচিত এক নাম ইমরান খান। কিন্তু ষাটের কোঠায় পা রাখার পর, বিশ্বকাপ জয়ের পরবর্তী খ্যাতি, গ্ল্যামার আর জাঁকজমকপূর্ণ জীবন তাকে অতৃপ্ত করে তুলছিল। ক্রিকেটের মাঠের মতো রাজনীতিতেও নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চেয়েছিলেন খান।

সেই সুযোগও তার সামনে আসে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে পাকিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তার তারকাখ্যাতিকে কাজে লাগাতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের দুর্নীতিগ্রস্ত মনে করে ইমরান খান সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। পরিবর্তে, তিনি নিজের দল 'পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ' (পিটিআই) প্রতিষ্ঠা করেন।

ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানের রাজনীতি দুটি প্রভাবশালী পরিবারকেন্দ্রিক দলের নিয়ন্ত্রণে ছিল। নিজের দল নিয়ে রাজনীতি করার অর্থ ছিল বছরের পর বছর রাজনৈতিক নির্বাসনে থাকা, গুরুত্ব পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করা। সাংবাদিকরাও যখন পাকিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে বসতেন, তারা কেবল ক্রিকেট বা তার নতুন বান্ধবী নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী ছিলেন।

তবে একটা সময়ে মনে হচ্ছিল, ইমরান খান হয়তো রাজনীতিতে সফল হতে শুরু করেছেন। ২০১৪ সালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ এনে ব্যাপক বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন। ইসলামাবাদে এই বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি মেলায় অনেকে ধারণা করেছিলেন যে, পাকিস্তানের গণতন্ত্রের পেছনের মূল শক্তি সেনাবাহিনী হয়তো সরকার পরিবর্তনে আগ্রহী ছিল। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

এরপর পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে নওয়াজ শরিফের সন্তানদের নাম আসার পর ২০১৬ সালে ইমরান খান আবার মাঠে নামেন। পানামা পেপারসের তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি আবারও প্রতিবাদের ডাক দেন। পেশোয়ারে বিক্ষোভ সমাবেশ হলেও ইসলামাবাদ অভিমুখে প্রস্তাবিত পদযাত্রাটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি। এই ঘটনার পর অনেকেই মনে করছিলেন, ইমরান খানের সময় হয়তো ফুরিয়ে এসেছে।

ইমরান খানের ব্যক্তিগত জীবনেও তখন কোনো স্বস্তি ছিল না। এরমধ্যে, বিবিসির সাবেক আবহাওয়াবিদ ও দ্বিতীয় স্ত্রী রেহাম খানের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তাদের সম্পর্ক এতটাই তিক্ত হয়ে উঠেছিল যে, এক ঘরে থাকাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল তাদের জন্য। ইমরান খান পরবর্তীতে এই সম্পর্ককে তার জীবনের 'সবচেয়ে বড় ভুল' বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। 

ঠিক এমন সময়েই ইমরান খানের সঙ্গে এমন একজনের পরিচয় হয়, যিনি তার জীবনকে আমূল বদলে দেন; তাকে আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনার পাশাপাশি পার্থিব সাফল্যের প্রতিশ্রুতিও দেন।

ছবি: দ্য ইকোনমিস্ট

বুশরা মানেকা। সুফিবাদে তার গভীর আগ্রহ। পাকিস্তানে সুফি অনুসারীদের মধ্যে এমন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার চল রয়েছে, যাদের বিশেষ আধ্যাত্মিক জ্ঞান আছে বলে বিশ্বাস করা হয়। যদিও পরামর্শদাতা হিসেবে নারী—এমনটা খুব একটা দেখা যায় না। 

পাকিস্তানি গণমাধ্যমে তাকে সম্বোধন করা হয় 'বুশরা বিবি' নামে। বুশরা বিবির বড় বোন মরিয়মের মাধ্যমে ইমরান খানের সঙ্গে তার পরিচয়। 

পাকিস্তানের অনেক মধ্যবিত্তের মতো মরিয়মও ইমরান খানের জাতীয়তাবাদী, ইসলামপন্থী ও পশ্চিমাবিরোধী রাজনৈতিক দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিজের বাড়ি থেকেই পিটিআইয়ের জন্য স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতেন। ধর্ম ও জীবনের অর্থ নিয়ে প্রায়ই চিন্তামগ্ন থাকা ইমরান খানকে এক পর্যায়ে মরিয়ম তার বোনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

বুশরা বিবি যে ইমরান খানকে ভালোভাবে চিনতেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তার বেড়ে ওঠার সময়ে দেশের প্রতিটি শিশুর শোবার ঘরের দেয়ালে ইমরান খানের পোস্টার থাকত। ছেলেরা তার মতো ক্রীড়াবিদ হওয়ার স্বপ্ন দেখত, আর মেয়েরা তাকে বিয়ে করার। বুশরা বিবি প্রথমে ইমরান খানের সঙ্গে কথা বলতে রাজি ছিলেন না। তিনি বলেছিলেন, পরিবারের বাইরের কোনো পুরুষের সঙ্গে তিনি দেখা করেন না। তবে শেষ পর্যন্ত ফোনে পরামর্শ দিতে রাজি হন।

আর সেখান থেকেই শুরু। রাতের পর রাত ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের কথা হতো। এক পর্যায়ে ফোনকলগুলো ব্যক্তিগত সাক্ষাতে রূপ নেয়। 

বুশরা বিবির স্বামী খাওয়ার মানেকা প্রথমদিকে এতে খুশিই ছিলেন। তার বাড়িতে এমন একজন বিখ্যাত ব্যক্তির আনাগোনা তিনি উপভোগ করতেন। কিন্তু ইমরানের সঙ্গে তার স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা বাড়ার সাথে সাথে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। একবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'সে (বুশরা) একা একা বসে তার (ইমরানের) সঙ্গে কথা বলতে চাইত। স্বামী হিসেবে আমি বলতাম, 'আমরা কেন একসঙ্গে বসতে পারি না?'

'আমি মাঝে মাঝে তাদের আলাপের মধ্যে ঢোকার চেষ্টা করতাম, কিন্তু 'যতবারই আমি ঘরে ঢুকতাম, একটা থমথমে নীরবতা নেমে আসত,' বলেন তিনি। 

তার মতে, তার স্ত্রী ইমরান খানকে বলেন, তিনি ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন: যদি তাদের দুজনের বিয়ে হয়, তবে ইমরান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন (যদিও বুশরা বিবি এই গল্প অস্বীকার করেছেন)। 

২০১৭ সালের শেষে বুশরা তার স্বামীকে তালাক দেন এবং ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি এক গোপন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইমরান খানকে বিয়ে করেন। ইমরান খান দাবি করেন, বিয়ের আগে তিনি তার স্ত্রীর মুখও দেখেননি; তার কাছে তখন বাহ্যিক রূপের কোনো গুরুত্ব নাকি ছিল না। 

একবার তিনি বলেছিলেন, 'সুফিবাদের অনেক স্তর রয়েছে, কিন্তু আমি আমার স্ত্রীর মতো এত উচ্চ স্তরের কারও সঙ্গে আগে কখনও আমি পরিচিত হইনি।' 

যদিও বুশরা বিবি যদি সত্যিই ইমরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করে থাকেন, তবে তার ক্ষমতার ওপর ইমরান খানের আস্থা নিঃসন্দেহে তুঙ্গে ওঠে, যখন তাদের বিয়ের কয়েক মাস পরেই পিটিআই সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়। অবশেষে ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হন। 

যদিও তার এই জয়ের পেছনে সেনাবাহিনীর সমর্থনের ভূমিকা ছিল। তবে এর বাইরেও আরও কিছু বিষয় কাজ করেছিল। যেমন তার দুর্নীতিবিরোধী বার্তা এবং রাজনৈতিক বহিরাগত হিসেবে তার ভাবমূর্তি জনগণের সঙ্গে মিলে যাওয়া।

তবে পাকিস্তানের রাজনীতি যেন নেটফ্লিক্সের কোনো সিরিজ। পাকিস্তানে ক্ষমতা জেতার চেয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা বেশি কঠিন। এখানে অভ্যুত্থান, গুপ্তহত্যা এবং সময়ে সময়ে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি—সবই আছে। সেখানকার রাজনৈতিক ব্যবস্থা খুবই অস্থিতিশীল। নেতাদের যেভাবে ক্ষমতায় বসানো হয়, তেমনি নির্দয়ভাবে ক্ষমতাচ্যুত করতে সময় লাগেনা সেখানে । 

পদ ছাড়ার পর পাঁচজন প্রধানমন্ত্রীকে কারাগারে যেতে হয়েছে। সেনাবাহিনী বারবার ক্ষমতা দখল করেছে। এমনকি যখন বেসামরিক ব্যক্তিরা সরকার পরিচালনা করেন, তখনও তাদের জেনারেলরা কী চান, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হয়। (পাকিস্তানের ইতিহাসে মাত্র একটি বেসামরিক সরকার তার পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পেরেছে।)

ক্ষমতায় আসার পর ইমরান খান একটি ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরির মতো বড় প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণে রীতিমতো সংগ্রাম করছিলেন। খুব দ্রুতই দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক অভিজাতদের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তার স্ত্রী বুশরা বিবিও তাদের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও মিত্রদের অসন্তুষ্ট করেন। মন্ত্রী এবং বাসভবনের কর্মীরা অভিযোগ করতে শুরু করেন যে, ফার্স্ট লেডিকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। 

২০২২ সালে ইমরান খানেকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। ধারণা করা হয়, এই পদক্ষেপের পেছনে সেনাবাহিনীর মদদ ছিল। নীরবে বিদায় না নিয়ে ইমরান খান সেনাবাহিনীর প্রকাশ্য সমালোচনা শুরু করেন এবং রাজপথে বিক্ষোভের ডাক দেন। 

সাধারণত ক্ষমতা থেকে জেনারেলদের দ্বারা বিতাড়িতদের ভাগ্যে যা ঘটে, তার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে তাকে যেতে হয় কারাগারে। তবে কারাগারে যাওয়ার পর থেকে ইমরান খানের জনপ্রিয়তা আশ্চর্যজনকভাবে বেড়ে যায়। 

পাকিস্তানের দুর্নীতিগ্রস্ত অভিজাতদের বিরুদ্ধে তার সংগ্রাম তাকে এতটাই সমর্থন এনে দিয়েছে যে, সেনাবাহিনী তার নাম টিভিতে উল্লেখ করার ওপর একটি অলিখিত কিন্তু বহুল প্রচলিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে এতে তার প্রতি আগ্রহ কমেনি। তাকে এখন 'পিটিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান' হিসেবে উল্লেখ করা হয়, সব সংবাদ অনুষ্ঠানেই তিনি আলোচনার একটি প্রধান বিষয় হয়ে থাকেন।

ইমরান খান এখন এক উভয় সংকটের মুখোমুখি: হয় তাকে নিজের নীতির ওপর অটল থেকে কারাগারে থাকতে হবে, অথবা সশস্ত্র বাহিনীর বিষয়ে নমনীয় মন্তব্য করে মুক্তি পেতে হবে, যা ভবিষ্যতে তার দলের ক্ষমতায় ফেরার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বুশরা বিবিও দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারে আছেন। পিটিআইয়ের কেউ কেউ আশা করছেন, তিনি ইমরান খানের দলকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে রাজি করাতে পারবেন। পাঞ্জাবের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন সাধারণ গৃহবধূ কীভাবে জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে এত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে উঠলেন, তা পাকিস্তানে এক অন্তহীন জল্পনার বিষয়—যা প্রায়শই নারীবিদ্বেষ, ভুল তথ্য এবং ষড়যন্ত্র তত্ত্বে পরিপূর্ণ থাকে।

ইমরান খানের বন্ধুরা বলেন, তার রাজনৈতিক সরলতাই বুশরা বিবিকে এতটা শক্তিশালী হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। আবার অন্যরা পাকিস্তানের রাজনীতির বিপজ্জনক চোরাস্রোত ও গোপন এজেন্ডাকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। উভয় ধারণারই ভিত্তি রয়েছে। 

তবে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অনেক কিছুর মতোই বুশরা বিবির কাহিনিও যতটা সহজ সরল মনে হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল।

বুশরা বিবি কিন্তু সব সময় এমন ধার্মিক ছিলেন না। তিনি পাঞ্জাবের এক গ্রামীণ এলাকায় বড় হয়েছেন, যেখানে তার দাদা ছিলেন একজন প্রভাবশালী জমিদার। তবে তার বাবা জমি বিক্রি করে একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁ খোলেন। এক পর্যায়ে বুশরা বিবি ও তার বোন মরিয়মকে লাহোরে বয়স্ক আত্মীয়দের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 

মরিয়মের ভাষ্যমতে, তারা দুজনেই কুইন মেরি কলেজে পড়াশোনা করেন। যদিও আশ্চর্যজনকভাবে, স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের সেখানে পড়ার কোনো রেকর্ড নেই।

বুশরা বিবিকে তরুণ বয়সে তাকে চিনতেন এমন অনেকের মতে, তিনি কিছুটা খোলামেলা পার্টিতে যেতেন (যদিও মরিয়ম তার বোনের 'উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন' এর কথা জোরালোভাবে অস্বীকার করেন)। পাকিস্তানি নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক দোপাট্টা পরতে চাইতেন না তিনি। 

আঠারো বছর বয়সে বুশরা বিবির সাথে পাঞ্জাবের এক পরিচিত রাজনীতিবিদের ছেলে খাওয়ার মানেকার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তুলনামূলক মধ্যবিত্ত-সাধারণ পরিবার থেকে আসা বুশরার জন্য তখন এই বিয়েটিকে একটি সুযোগ হিসেবেই দেখেন অনেকে।

মরিয়মের মতে, বুশরা বিবির দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। ধারণা করা হয়, তিনি সুফি ইসলামের দর্শনের মধ্যে একধরনের মুক্তি খুঁজে পেয়েছিলেন। তার সন্তানরা বড় হয়ে ওঠার পর, তিনি পাকিস্তানের অন্যতম বিখ্যাত এক সুফি সাধকের মাজারে সময় কাটাতে শুরু করেন।

পাকিস্তানে বিভিন্ন মতের মুসলিমদের বসবাস—একদিকে যেমন সুফি আধ্যাত্মবাদীরা সঙ্গীত ও আচারের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার সন্ধান করেন, তেমনই অন্যদিকে তালেবান-সমর্থক মৌলবাদীরা সুফি মাজার ভাংচুর করেন। তবে পাকিস্তানে সুফিবাদের অনুসারীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। দেশটির জনজীবনের অনেক কিছুই সুফি ঐতিহ্য দ্বারা প্রভাবিত।

সুফিবাদ স্রষ্টার সঙ্গে ব্যক্তির সংযোগের ওপর ব্যাপক জোর দেয় এবং এই ধারায় 'পীর' নামে এক শ্রেণির মানুষের উদ্ভব ঘটে, যারা অনুসারীদের সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য লাভে সহায়তা করেন। বুশরা বিবির বাবা ফরিদ ছিলেন তেমনই একজন আদর্শ পীর। সময়ের সাথে সাথে, প্রধান পীরদের বংশধররা নিজেরাই পীর এবং তাদের মাজারের রক্ষক হয়ে ওঠেন। আবার জ্ঞান ও প্রজ্ঞার জন্য খ্যাতি অর্জন করেও অনেকে পীর হতে পারেন।

ভবিষ্যৎ বিষয়ে দিকনির্দেশনার জন্য মানুষ প্রায়ই পীরদের শরণাপন্ন হয়। অনুসারীরা যে তাদের পীরদের ভবিষ্যদ্বাণীকে সবসময় বেদবাক্য হিসেবে গ্রহণ করেন, তা নয়। তবে অনেকেই মনে করেন, তাদের কথা শোনার মূল্য রয়েছে, কারণ তা সঠিক হওয়ার অন্তত কিছুটা সম্ভাবনা থাকে।

তিরিশের কোঠায় পা রাখার আগেই বুশরা বিবি একজন পীর হয়ে ওঠার পথে ছিলেন, যদিও তা বন্ধু ও পরিবারের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ধর্মের প্রতি তার আগ্রহ ছিল খাঁটি: তিনি রাত জেগে প্রার্থনা করতেন, ইসলাম সম্পর্কিত বিভিন্ন বই পড়তেন। তার স্বামী মানেকা স্ত্রীর এই আগ্রহকে সমর্থন করার চেষ্টাও করলেও জীবন সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ভিন্ন। তিনি বলেন, 'আমি বনং পার্টি করতে পছন্দ করতাম বেশি।' 

ছবি: দ্য ইকোনমিস্ট

অন্যদিকে বুশরা বিবি ক্রমেই আরও বেশি ধার্মিক হয়ে ওঠেন, ধীরে ধীরে, মানুষ তার কাছে পরামর্শের জন্য আসতে শুরু করে। নিজের জীবন নিয়ে হতাশ ইমরান খানও।

অতীতে বিভিন্ন সময়ে জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত নারীদের সঙ্গে ইমরানের নাম জড়ানোয়, গুঞ্জন রটে যে এটিও তার আরেকটি প্রেমের সম্পর্ক। কিন্তু ইমরান খান তখন বলতেন , বুশরা বিবির সঙ্গে তার সম্পর্ক পুরোপুরি আধ্যাত্মিক।

তবুও, এই রহস্যময় নারীর প্রতি ইমরান খানের আগ্রহ যে তৈরি হয়েছিল, তা স্পষ্ট। একই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন যে, তিনি বুশরা বিবিকে স্ত্রী হিসেবে পেতে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। (প্রকৃতপক্ষে, এই দম্পতি ততদিনে গোপনে বিয়ে করে ফেলেছিলেন, যা পরের মাসেই পিটিআই নিশ্চিত করে।)

ইমরান খানের বন্ধুরা তার এই নতুন সম্পর্ক নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। শৈশবের বন্ধু মাসুদ চিশতি বলেন, 'ইমরান বলতো সে (বুশরা) তার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। কিন্তু ইমরান খুবই বোকাসোকা, মানুষ চিনতে সাংঘাতিক ভুল করে সে।' ইমরানের আরেক পুরোনো বন্ধু ও সুফি সঙ্গীতশিল্পী সালমান আহমদ বলেন, 'বুশরা বিবি নিজের চারপাশে যে সুফি বলয় তৈরি করে রাখেন, ইমরান তার বাইরে কিছুই দেখতে পায় না। এটা তার একটা বড় দুর্বল জায়গা।'

ইমরানের বাড়িতে আসার মুহূর্ত থেকেই বুশরা বিবি অনেকের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেন। তার ড্রাইভার মোহাম্মদ সাফিরও তাকে নিয়ে বিরক্ত ছিলেন। সাফির বলেন, 'আমি তাকে (ইমরান খান) বলেছিলাম, এবার তিনি মারাত্মক ভুল করছেন।' তবে ইমরান খান বিষয়টি রসিকতা হিসেবে নিয়ে হেসে উড়িয়ে দেন। (সাফির এখন আর ইমরানের বাড়িতে কাজ করেন না।)

বুশরা বিবি কালো জাদু চর্চা করেন এমন কিছু গুজবও ছিল। ইমরানের গাড়িচালক সাফির বলেন, বুশরা ইমরানের বাড়িতে আসার পরপরই তাকে ১.২৫ কেজি গরুর মাংস কিনে আনতে বলা হয়েছিল। এরপর বুশরা মন্ত্র পড়তে থাকেন এবং সেই মাংস তার স্বামীর (ইমরান খানের) মাথার চারপাশে তিনবার ঘোরানো হয়। সাফিরের মতে, মাংসটি এরপর পাখিদের খাওয়ার জন্য ছাদে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর সাবেক এই ক্রিকেটারের মাথার চারপাশে লাল মরিচ ঘোরানো হয় এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রীর রেখে যাওয়া অশুভ আত্মা তাড়ানোর জন্য সেগুলো জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

ছবি: দ্য ইকোনমিস্ট

তিনি আরও জানান, তাকে প্রতিদিন কালো ছাগলের কাটা মাথা সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার ও বুধবার তাকে কালো ছাগলের পরিবর্তে মৃত কালো মুরগি কিনে আনতে হতো। তিনি সকাল ১০টা বা ১১টার দিকে এই জিনিসগুলো বুশরার গৃহকর্মীদের কাছে পৌঁছে দিতেন; বিকেলে অবশিষ্টাংশগুলো কবরস্থানে রেখে আসার নির্দেশ দিয়ে ফেরত দেওয়া হতো।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানে, যেগুলোকে কেউ কেউ কালো জাদু বলতে পারেন, সেই সব চর্চা অস্বাভাবিক কিছু নয়। যেমন ব্রিটেনে ম্যাগপাই পাখিকে স্যালুট করার মতো লোকজ কুসংস্কারগুলো এখনও টিকে আছে, পাকিস্তানেও তেমনি কিছু বিশ্বাস প্রচলিত। এমনকি শিক্ষিত, মধ্যবিত্ত পাকিস্তানিরাও অশুভ আত্মাকে তাড়ানোর বিশ্বাস থেকে ছাদে পাখির জন্য মাংস রেখে দেন। 

২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালীন বর্তমান প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির একজন সার্বক্ষণিক পীর ছিলেন, যিনি তার সাথেই থাকতেন। তিনি বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে দেখা করতেন এবং প্রতিদিন জারদারির পক্ষ থেকে একটি করে ছাগল বলি দিতেন।

আসিফ আলি জারদারির ছাগল বলির অভ্যাস নিয়ে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু বুশরা বিবির কথিত কর্মকাণ্ড নিয়ে শত শত রসালো শিরোনাম এবং ইউটিউব ভিডিও তৈরি হয়েছে, যার একটি কারণ নিঃসন্দেহে তিনি একজন নারী। 

ইমরান খান নিজের স্ত্রীর বেলায় বেশ সংবেদনশীল ছিলেন। একবার পিটিআইয়ের একজন সিনিয়র নেতা তার (বুশরার) সমালোচনা করার পরপরই বলেন, "আপনি যদি তার সমালোচনা করেন, তবে দল থেকে বাদ পড়বেন। আর এটা রেকর্ডের বাইরে।' 

আরেকবার, দীর্ঘদিন ধরে একসাথে কাজ করে আসা ইমরান খানের রাজনৈতিক সহযোগী আওন চৌধুরীকে প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের কয়েক ঘণ্টা আগে, খান তাকে একটি বার্তা পাঠান, তাতে লেখা ছিল: 'বুশরা বেগম গত রাতে একটি স্বপ্ন দেখেছেন। তিনি আমাকে বলেননি স্বপ্নটা কী, কিন্তু বলেছেন যে আপনি সেখানে থাকলে তিনি আগামীকাল অনুষ্ঠানে যেতে পারবেন না। আমি এর জন্য দুঃখিত, কারণ আপনি গত ৬ বছর ধরে বিশ্বস্ততার সঙ্গে আমার সেবা করেছেন।' পরের দিনই তাকে বরখাস্ত করা হয়।

বুশরা বিবির প্রভাব নিয়ে আরেকটি তত্ত্ব প্রচলিত আছে, যার সঙ্গে জাদুর সম্পর্ক কম। এই ভাষ্যমতে, ইমরান খানের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ আসলে পাকিস্তানের ভয়ংকর গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)-এর সাজানো এক মেকিয়াভেলিয়ান কূটচাল।

গল্পটি হলো—আইএসআইয়ের একজন কর্মকর্তা বুশরা বিবির কোনো একজন পীরের কাছে গোয়েন্দা তথ্য পৌঁছে দিতেন, সেই পীর তা বুশরাকে জানাতেন এবং তিনি তা ইমরান খানকে বলতেন।

যেহেতু আইএসআইয়ের তথ্যদাতাদের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে এবং ফোনালাপে আড়ি পাতার ক্ষমতাও তাদের আছে, তাই পাকিস্তানে কী ঘটতে চলেছে তা তারা প্রায়শই অন্যদের আগে জানতে পারে। গুঞ্জন অনুযায়ী, আইএসআইয়ের কর্মকর্তা উদাহরণস্বরূপ বুশরা বিবির পীরকে আগে থেকেই জানিয়ে দিতেন কোন রাজনীতিবিদকে গ্রেপ্তার করা হতে চলেছে। বুশরা বিবি তখন ইমরান খানকে বলতেন যে তিনি ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ঐশ্বরিক নির্দেশনা পেয়েছেন। যখন তার ভবিষ্যদ্বাণী করা ঘটনাটি বাস্তবে ঘটত, তখন ইমরান খান তার স্ত্রীর দূরদর্শিতায় বিস্মিত হতেন এবং এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতেন যে, সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে তার স্ত্রীর সত্যিই সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।

পাকিস্তানে অনেক গুঞ্জনই শেষ পর্যন্ত সত্যি বলে প্রমাণিত হয় না। তেমনই এই গল্পের অনেক কিছুই ধোঁয়াশাপূর্ণ। 

তবে যাই হোক জেনারেলদের ইমরান খানের প্রতি তাদের উৎসাহ হারাতে বেশি সময় লাগেনি। এর একটি কারণ ছিল বুশরা বিবির সর্বব্যাপী উপস্থিতি। তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল বাজওয়া তাকে বিরক্তিকর বলে মনে করতেন। ইমরান খানের সাবেক এক মন্ত্রীর মতে, "জেনারেল বাজওয়া সবসময় তার (বুশরার) বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলতেন, সে তো কালো জাদু করে। বাজওয়া ক্ষুব্ধ ছিলেন কারণ তিনি মনে করতেন, খান তার চেয়ে বুশরার কথা বেশি শোনেন।' 

২০২২ সালের এপ্রিলে ইমরান খান সেই সত্যটি উপলব্ধি করেন যা তার আগের প্রত্যেক পাকিস্তানি নেতাই জানতেন: সেনাবাহিনী না চাইলে বেসামরিক রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় থাকতে পারেন না। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি সেনাবাহিনীর প্রকাশ্য সমালোচনা করে ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেন, কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন যে জনগণের গভীর সমর্থন তার সঙ্গে রয়েছে। 

ছবি: দ্য ইকোনমিস্ট

২০২২ সালের নভেম্বরে এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় তার পায়ে গুলি লাগে। ক্ষমতাচ্যুত এই নেতা অবিলম্বে সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে দায়ী করে বলেন, তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের পেছনে যে কিছু জেনারেল ছিলেন, তা তিনি প্রমাণ করতে পারবেন।

২০২২ সালে, ইমরান খান যাকে আইএসআইয়ের মহাপরিচালকের পদ থেকে বরখাস্ত করেছিলেন, সেই আসিম মুনিরকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের মে মাসে ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই গ্রেপ্তারের সঙ্গে সঙ্গেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিক্ষোভকারীরা সামরিক ভবনগুলোতে হামলা চালায়। ইমরান খান সাহসিকতার সঙ্গে তার গ্রেপ্তারের জন্য সরাসরি মুনিরকে দায়ী করে বলেন, পিটিআই ক্ষমতায় ফিরলে বরখাস্ত হওয়ার ভয়ে সেনাপ্রধান ' আতঙ্কিত' এবং তিনি 'নিজেকে রক্ষা করার জন্য এই দেশের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছেন'।

গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে ইমরান খানের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে রয়েছে, গত বছরের নির্বাচনের সময়ও তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি কারচুপির পাশাপাশি, পিটিআই প্রার্থীদের তাদের নামের পাশে দলের প্রতীক, ক্রিকেট ব্যাট, ছাড়াই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধ্য করা হয়—যা নিরক্ষর ভোটারদের তাদের শনাক্ত করতে সাহায্য করত। এই প্রতিকূলতা সত্ত্বেও, পিটিআই ২৬৬টি আসনের মধ্যে ৯৩টি আসনে জয়লাভ করে। এটি সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট না হলেও, পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি এক অসাধারণ শক্তি প্রদর্শন।

সেনাবাহিনী এবং নতুন সরকার দমে না গিয়ে ইমরান খানের বিরুদ্ধে কয়েক ডজন মামলা চালিয়ে যেতে থাকে। এর মধ্যে তিনটিতে বুশরা বিবিকেও আসামি করা হয় (যিনি ইমরান খানের মতো তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন)। প্রথম মামলাটি ছিল ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি তাদের বিয়ে সংক্রান্ত। 

যেহেতু বুশরা বিবি ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর মানেকাকে তালাক দিয়েছিলেন, তাই আইনজীবীদের দাবি ছিল, ইসলামে তালাক এবং পরবর্তী বিয়ের মধ্যে নির্ধারিত অপেক্ষার সময়কাল মানা হয়নি। ধারাবাহিক শুনানিতে বুশরা বিবির ঋতুচক্র নিয়ে আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা অনেক পাকিস্তানিকে রুষ্ট করে। এই মামলায় দম্পতিকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যদিও আপিলে তারা জয়ী হন।

দ্বিতীয় মামলায় অভিযোগ আনা হয়, ইমরান খান ও তার স্ত্রী একজন আবাসন ব্যবসায়ীর ওপর ধার্য করা বিপুল পরিমাণ জরিমানার অর্থ থেকে কয়েক কোটি ডলার একটি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরিয়ে নিয়েছেন। এই মামলায় ইমরান খানকে ১৪ বছর এবং বুশরা বিবিকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যার বিরুদ্ধে তারা আপিল করছেন।

তৃতীয় এবং সবচেয়ে আলোচিত মামলাটি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দেওয়া উপহার নিয়ে। উপহারের মধ্যে বুশরা বিবির জন্য ছিল গহনা এবং ইমরান খানের জন্য একটি হীরাখচিত গ্রাফ ঘড়ি। 

পাকিস্তানের নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তাদের পাওয়া উপহার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হয়, এরপর প্রাপক অর্ধেক মূল্য পরিশোধ করে সেই জিনিস নিজের কাছে রাখতে পারেন। আইনজীবীদের অভিযোগ, ইমরান খান ও তার স্ত্রী উপহারগুলো কোষাগারে জমা না দিয়ে, সেগুলোর কম মূল্যে অর্ধেক পরিশোধ করেন এবং পরে সেগুলো লাভে বিক্রি করে দেন। এই মামলাটি এখনও চলমান।

বুশরা বিবির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আরও জোরালো হয় ফাঁস হওয়া একটি অডিও টেপের মাধ্যমে, যেখানে তাকে ইমরান খানের বাড়িতে আসা উপহারের ছবি তোলার জন্য তার বাড়ির ব্যবস্থাপক ইনাম শাহকে তিরস্কার করতে শোনা যায়। 'ছবি তোলা হচ্ছে কেন?'—চিৎকার করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার আগে এভাবেই ধমক দেন তিনি।

ছবি: দ্য ইকোনমিস্ট

গত বছরের নভেম্বরে পিটিআই তার বিপুল জনসমর্থনকে কাজে লাগিয়ে ইমরান খানকে মুক্তি দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে। সেই সময়ে কারাবন্দী না থাকা বুশরা বিবি পেশোয়ার থেকে ইসলামাবাদ পর্যন্ত এক বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন। প্রথমবারের মতো তাকে এমন প্রকাশ্য রাজনৈতিক ভূমিকায় দেখা যায় এবং ক্ষণিকের জন্য মনে হয়েছিল, তিনি হয়তো ইমরান খানের উত্তরসূরি হিসেবে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করছেন। ট্রাকে দাঁড়িয়ে থাকা বোরকা পরিহিত বুশরার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, এতে অন্তত আটজন নিহত হন (যদিও সামরিক কর্তৃপক্ষ কোনো প্রাণহানির কথা অস্বীকার করেছে)। বিক্ষোভ থেমে যাওয়ার পর বুশরা বিবিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে ব্যাপকভাবে বিবেচিত এই সব অভিযোগ ইমরান খানের জনপ্রিয়তায় আঁচড় কাটতে ব্যর্থ হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অপরাধগুলো পাকিস্তানে চলমান দুর্নীতির বিশালতার তুলনায় তেমন উল্লেখযোগ্য নয়। অনেকেই ইমরান খানকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন এবং তাদের কাছে কোনো মামলাই তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে না।

পাকিস্তানের বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে সেপ্টেম্বরে লেখা এক চিঠিতে ইমরান খান অভিযোগ করেন, তাকে একটি 'খাঁচার মতো' সেলে একা বন্দী রাখা হয়েছে।

সম্প্রতি জেল থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'বুশরা বিবি নিজেকে কখনও আমার দুর্বলতা হতে দেননি। তার সাহসিকতা আমাকে আরও শক্তিশালী করেছে।' 

Related Topics

টপ নিউজ

বুুশরা বিবি / ইমরান খান / পাকিস্তান

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ছবি: সংগৃহীত
    গ্রাহকের তথ্য হ্যাক: ‘স্বপ্ন’ সুপারশপের কাছে ১৮ কোটি টাকা দাবি হ্যাকারদের
  • হরমুজ প্রণালি। ছবি: রয়টার্স
    যে কারণে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে সামরিক শক্তি ব্যবহার করেনি যুক্তরাষ্ট্র
  • মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: এপি
    যুক্তরাষ্ট্র ‘শিগগিরই’ ইরান থেকে সরে আসবে: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট; পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে বিবেচনা করছে ইরান
  • সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ শিল্পাঞ্চলে একটি বিস্ফোরণের পর উঠতে থাকা কালো ধোঁয়ার উঁচু কুণ্ডলীর দিকে তাকিয়ে আছেন বিদেশি শ্রমিকরা ,২০২৬ সালের ৩ মার্চ (ছবি: ফাদেল সেন্না/এএফপি)
    যুদ্ধে ইরানের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে আরব আমিরাত, স্থল হামলা হলে আমিরাতের ওপর হামলা হবে 
  • প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত
    বড় ঋণে বড় বিপর্যয়: কোটি টাকার ওপর অ্যাকাউন্টে খেলাপি ঋণ বেড়ে ৩১%

Related News

  • এক ঘণ্টার বেশি ফোনালাপ: পেজেশকিয়ানকে যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়ে অবগত করলেন শাহবাজ
  • হরমুজ প্রণালি দিয়ে পাকিস্তানের আরও ২০ জাহাজ যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান
  • ইরান যুদ্ধ বন্ধে কূটনীতি: সৌদি, তুরস্ক ও মিশরকে নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করছে পাকিস্তান
  • একাত্তর: কার্টুন যখন হাতিয়ার
  • যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান; সঙ্গে আছে তুরস্ক, মিসর: ইসহাক দার

Most Read

1
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

গ্রাহকের তথ্য হ্যাক: ‘স্বপ্ন’ সুপারশপের কাছে ১৮ কোটি টাকা দাবি হ্যাকারদের

2
হরমুজ প্রণালি। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

যে কারণে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে সামরিক শক্তি ব্যবহার করেনি যুক্তরাষ্ট্র

3
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: এপি
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র ‘শিগগিরই’ ইরান থেকে সরে আসবে: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট; পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে বিবেচনা করছে ইরান

4
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ শিল্পাঞ্চলে একটি বিস্ফোরণের পর উঠতে থাকা কালো ধোঁয়ার উঁচু কুণ্ডলীর দিকে তাকিয়ে আছেন বিদেশি শ্রমিকরা ,২০২৬ সালের ৩ মার্চ (ছবি: ফাদেল সেন্না/এএফপি)
আন্তর্জাতিক

যুদ্ধে ইরানের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে আরব আমিরাত, স্থল হামলা হলে আমিরাতের ওপর হামলা হবে 

5
প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি

বড় ঋণে বড় বিপর্যয়: কোটি টাকার ওপর অ্যাকাউন্টে খেলাপি ঋণ বেড়ে ৩১%

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net