ইরান যুদ্ধ বন্ধে কূটনীতি: সৌদি, তুরস্ক ও মিশরকে নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করছে পাকিস্তান
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়ার মধ্যে পাকিস্তান আগামীকাল রোববার থেকে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশরের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করবে। প্রায় এক মাস ধরে চলা এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে, ইসলামাবাদ নিজেকে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ভেন্যু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ শনিবার (২৮ মার্চ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দুই দিনব্যাপী এই বৈঠকে "আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গভীর আলোচনা" করবেন।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, বৈঠকের লক্ষ্য হবে উত্তেজনা কমানোর জন্য একটি কার্যকর প্রক্রিয়া গড়ে তোলা।
শুক্রবার রাতে তুর্কি সম্প্রচারমাধ্যম 'এ হাবের-কে তিনি বলেন, "এই যুদ্ধে সংলাপ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, চারটি দেশ পরিস্থিতিকে কীভাবে মূল্যায়ন করছে এবং কী করা যেতে পারে—এসব বিষয় আমরা আলোচনা করব।"
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এই যুদ্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই চার দেশ। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যপথে সম্ভাব্য বিঘ্নের ঝুঁকির মুখেও রয়েছে তারা।
পাকিস্তান ইতোমধ্যে তেহরানের কাছে যুদ্ধ অবসানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছে এবং আলোচনার আয়োজনের প্রস্তাবও দিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, সম্ভাব্য যেকোনো আলোচনা পাকিস্তান বা তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা "খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে", যদিও তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে—এ দাবি অস্বীকার করেছে।
ইরান বযুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। তবে দেশটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এটিকে "একপেশে ও অন্যায্য" বলে মন্তব্য করেছেন। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবগুলোতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সব স্থাপনা ভেঙে ফেলা, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন সীমিত করা এবং কার্যত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার মতো শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শনিবার ইস্তাম্বুলে এক সম্মেলনে হাকান ফিদান বলেন, বর্তমান বিশ্বে উদীয়মান "বহুকেন্দ্রিক ব্যবস্থা" গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যপথ সুরক্ষায় নতুন সমাধান দাবি করে। তিনি জানান, তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের এই সংলাপের লক্ষ্য দ্রুত "বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ" নির্ধারণ করা—যাতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আগে যুদ্ধের অবসান ঘটানো যায়।
