নেতানিয়াহুর জন্য ‘ভালো ফল বয়ে আনেনি’ ইরান যুদ্ধ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধের কোনো যৌক্তিকতা না থাকলেও, ইসরায়েলের জন্য—বিশেষ করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে এর একটি সুনির্দিষ্ট অর্থ ছিল। প্রায় ৪৭ বছর আগে সংঘটিত ইরানি বিপ্লবের পর থেকেই ইরানকে নিজেদের প্রধান শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে আসছে ইসরায়েল।
নেতানিয়াহু নিজেই নিজেকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করেন, যিনি অন্য যেকোনো ব্যক্তির চেয়ে ইরানকে বেশি দানবীয় হিসেবে চিত্রিত করেছেন এবং আমেরিকার মনে ইরানের প্রতি বৈরিতা তৈরি করেছেন।
আমেরিকার হয়তো অতিরিক্ত বৈরিতার প্রয়োজন ছিল না, তবে এটি স্পষ্ট যে নেতানিয়াহুই মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রভাবিত বা 'ম্যানিপুলেট' করে এই যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন। তবে সবারই জানা, এই রণকৌশল শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর পক্ষে যায়নি।
ইরানে 'রেজিম চেঞ্জ' বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যে মূল পরিকল্পনা নেতানিয়াহু করেছিলেন, তা কেবল ব্যর্থই হয়নি, বরং সম্পূর্ণ বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে। সেখানে এখন যে নতুন শাসনব্যবস্থা এসেছে, তা হয়ত আগের মতো নয় এবং এই পরিবর্তন কারও জন্যই সুফল বয়ে আনেনি।
একই সঙ্গে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি এখনো আগের মতোই অক্ষত রয়েছে। আঞ্চলিক প্রক্সি বা ছায়াশক্তিগুলোর সঙ্গেও ইরানের শক্তিশালী মিত্রতা বজায় রয়েছে। অর্থাৎ, এই যুদ্ধের মাধ্যমে নেতানিয়াহু তার কাঙ্ক্ষিত কোনো উদ্দেশ্যই অর্জন করতে পারেননি।
ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই অর্জন করতে না পেরে এবং যুদ্ধের চরম ব্যর্থতার পর পরিস্থিতি আবার শূন্যের কোঠায় ফিরে এসেছে। আর এই ব্যর্থতার কারণেই মার্কিন-ইরান চুক্তিটি যেকোনো উপায়ে ভেঙে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে, এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পর পারস্য উপসাগরসহ অন্যান্য অঞ্চলে কার্যকরভাবে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে ইরান আরও বেশি সাহসী হয়ে উঠেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের জন্য মোটেও ইতিবাচক সংকেত নয়।
