‘অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে’, লেবাননে হামলায় নেতানিয়াহুকে ‘আরও দায়িত্বশীল’ হতে হবে: ট্রাম্প
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের সাইডলাইনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লেবাননের বিষয়ে 'আরও দায়িত্বশীল' হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক চমৎকার হলেও লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে তাকে আরও সংযত হতে হবে।
জি-৭ সম্মেলনের ভেন্যু এভিয়ান-লে-বাঁ-তে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল অনেকদিন ধরে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং এতে প্রচুর মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। তিনি আরও বলেন, 'আপনি যখন কাউকে খুঁজছেন, তখন তার মানে এই নয় যে প্রতিবার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন গুঁড়িয়ে দিতে হবে। কারণ ওই ভবনগুলোতে অনেক মানুষ থাকেন, যারা সবাই হিজবুল্লাহর সদস্য নন।'
ট্রাম্প আরও বলেন, 'আমি ইসরায়েলকে পরামর্শ দিয়েছি হিজবুল্লাহর বিষয়টি সিরিয়ার ওপর ছেড়ে দিতে। কারণ সত্যি বলতে, আমার মনে হয় তারা এটি আরও ভালো সামলাতে পারবে।'
সম্প্রতি বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার কঠোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প। ইরান শান্তি আলোচনার এমন সংবেদনশীল মুহূর্তে এই হামলা 'ঘটা উচিত হয়নি' বলে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের 'দুই ঘণ্টা আগে' ইসরায়েলের এই হামলা তার মোটেও পছন্দ হয়নি এবং তিনি বিষয়টি ইসরায়েলকে জানিয়ে দিয়েছেন।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি টিকে থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'এটি টিকে থাকবে।' হিজবুল্লাহকে তিনি একটি 'ছোটখাটো সমস্যা' হিসেবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ইরানকে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, দেশটি যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করে তবে 'ভয়ংকর পরিণতি' ভোগ করতে হবে। তিনি দাবি করেন, আসন্ন যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখবে।
আগামী শুক্রবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর চূড়ান্ত চুক্তির জন্য উভয় পক্ষ ৬০ দিন সময় পাবে। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন যে, আলোচনার দ্বিতীয় ধাপ আরও সহজ হবে।
