দু’কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাইলেন কৃষ্ণার পরিবার
বাংলা মোটরে বাসের চাপায় পা হারিয়েছিলেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) হিসাব বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক কৃষ্ণা রায়। ২৭ আগস্ট দুপুর দুটোর দিকে ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেসের একটি বাস দ্রুতগতিতে শাহবাগের দিকে যাচ্ছিল। তখন বেপরোয়া বাসটি হঠাৎ ফুটপাতে দাঁড়ানো কৃষ্ণাকে আঘাত করলে তিনি পায়ে ও মাথায় আঘাত পান।
পরে পঙ্গু হাসপাতালের ডাক্তাররা তার প্রাণ বাঁচাতে তার বাঁ পা-টি হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে বাধ্য হন। পরে সংক্রমণ হওয়ায় তাঁর হাঁটুর ওপরের কিছু অংশও কেটে ফেলা হয়।
এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কৃষ্ণা মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এ অবস্থায় তার পরিবার দু’কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে ট্রাস্ট পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ দাখিল করেছেন।
কৃষ্ণার স্বামী রাধেশ্যাম চৌধুরী রোববার নোটিশে দেবার বিষয়ে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, তারা এটি ডাকে পাঠিয়েছেন।
“কৃষ্ণা তার পা হারাল। বাকি জীবন পড়ে রয়েছে ওর। এই ক্ষতি আমরা পুষিয়ে উঠতে পারব না কখনও। তবে যারা এজন্য দায়ী তাদের অন্তত শাস্তি পাওয়া দরকার; ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত তাদের,” বললেন রাধেশ্যাম।
আইনজীবী ইমরান হোসেন এ নিয়ে বললেন, “ক্ষতিপূরণটা আমরা চেয়েছি দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তির দুটো ভিন্ন ধরনের দুর্ভোগের জন্য। প্রথম ১ কোটি টাকা চেয়েছি পরিবারটি যে সংকটে পড়ল, সেজন্য। আর বাকি ১ কোটি টাকা চেয়েছি ব্যক্তিগতভাবে কৃষ্ণার যে ক্ষতি হল, সে কারণে।”
ইমরান জানালেন, আইনি নোটিশের কপি পাঠানো হয়েছে কয়েক জায়গায়। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবদের ছাড়াও পুলিশের আইজি, বিআরটিএ-এর চেয়ারম্যান এবং ঢাকার জেলা প্রশাসকের বরাবর কপি গিয়েছে।
যে সচিব ও কর্মকর্তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে তাদের বলা হয়েছে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তির ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করে সেটা তাদের পরিবারকে পেঁৗছে দেবার ব্যবস্থা নেবার জন্য।
সংশ্লিষ্ট বাসমালিক যদি ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি না হন, তাহলে তারা আবারও আইনি প্রক্রিয়ার দিকে এগুবেন, জানালেন কৃষ্ণার আইনজীবী।
ওদিকে বাসের চাকার নিচে কৃষ্ণার বাঁ পা পিষে দেওয়া সেই বাসমালিক ও চালকের সহকারীকে ১২ দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আসামিদের ধরতে পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কাজ করছে বলে পত্রপত্রিকার খবর।
পিবিআই গত ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাজীপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করে বাসটির অনিয়মিত চালক মোহাম্মদ মোরশেদকে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। এখন কারাগারে আটক রয়েছেন বাসচালক মোরশেদ।
