হরমুজে নতুন আইন আনছে ইরান: নিষিদ্ধ ইসরায়েলি জাহাজ, ‘শত্রুদেশের’ যান চলাচলে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ
ইরানের সংসদ এমন একটি আইন অনুমোদন করতে যাচ্ছে, যেটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোন কোন জাহাজ চলাচল করতে পারবে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে এবং কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারবে। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম 'প্রেস টিভি' এই তথ্য জানিয়েছে।
সংসদের ভাইস স্পিকার আলি নিকজাদকে উদ্ধৃত করে প্রেস টিভি জানায়, প্রস্তাবিত ১২-দফা পরিকল্পনার অধীনে ইসরায়েলি জাহাজগুলোকে কখনোই এই জলপথ দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। 'শত্রু দেশগুলোর' (যা সম্ভবত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি ইঙ্গিত) জাহাজগুলোকে এই জলপথ অতিক্রম করার অনুমতি পেতে হলে আগে 'যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ' দিতে হবে।
সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, অন্য সব জাহাজকেও এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতে ইরানের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।
তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা যখন স্থবির হয়ে পড়েছে, তখন এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো। বর্তমানে উভয় পক্ষই তাদের নিজ নিজ দাবিতে অনড় রয়েছে এবং কেউ পিছু হটতে রাজি না।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের একটি আগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর শুক্রবার ইরান আলোচনার টেবিলে একটি সংশোধিত শান্তি প্রস্তাব জমা দেয়।
ট্রাম্প শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, তিনি শীঘ্রই ইরানের পাঠানো নতুন পরিকল্পনাটি পর্যালোচনা করবেন, তবে এটি 'গ্রহণযোগ্য হবে বলে তিনি কল্পনাও করতে পারছেন না'। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা 'তাসনিম' জানিয়েছে যে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাবের বিপরীতে ১৪-দফা প্রতিক্রিয়া জমা দিয়েছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি শনিবার বলেন, "এখন বল আমেরিকার কোর্টে; তারা কূটনীতির পথ বেছে নেবে নাকি সংঘাতের পথ, সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।" রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এই তথ্য জানিয়েছে।
